Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বারুদে ঠাসা রণক্ষেত্র (IND vs NZ), এক দলের কাছে ইতিহাসের রিপিট আর অন্য দলের কাছে নতুন ইতিহাস লেখার সুযোগ।
খেতাব জয়ের লড়াইয়ে দুই দল (IND vs NZ)
২২ গজে ব্যাট হাতে এগিয়ে যাচ্ছে কিছুটা (IND vs NZ) শর্ট হাইটের এক ছেলে। সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তাবড়-তাবড় বোলার। যাঁদের ফেস করা কঠিন শুধু নয় বরং ভয়ের। টুপি পরে নির্দ্বিধায় সেই ছেলে ব্যাট হাতে দাপটে ব্যাট করলো। সেই ভয়াবহ বোলিং লাইন-আপের সামনে একের পর এক বল তখন বাউন্ডারি লাইনে। অবশেষে এলো সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত ৮৩ সালে ভারতের হাতে প্রথম বিশ্বকাপ। সেই সময় আনন্দে কেঁদেছিলেন মীনাল। ভারতীয় দলের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারিগর কিংবদন্তী সুনীল গাভাসকরের মা। গাভাসকরের আর ও তাঁর মা মীনালের গল্প মোটামুটি সবার জানা। ছেলের ক্রিকেট খেলার জন্য মীনালের কষ্ট তখন রূপকথা (IND vs NZ)।
সেই ৮৩-র বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক, যার চোখে মুখে জেদ, এক অদম্য সাহস। ভারতীয়দের সমস্ত অপমানের বদলা নেওয়ার অঙ্গীকার করা এক যুবক। সেই জেদেই আর ব্যাটিং এবং বোলিং দিয়েছি ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দানবীয় ব্রিগেডকে হারিয়ে ভারতকে বোঝালেন বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ। এতক্ষণে বুঝেই গিয়েছেন কার কথা বলছি, বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সফল ভারতীয় অধিনায়ক এবং অলরাউন্ডার কপিল দেব।
লাজবন্তী দেবী কপিল দেবের মা। ধবধবে ফর্সা অত্যন্ত সহজ সরল এক বৃদ্ধার মুখেই উঠে আসে তাঁর ছেলেমেয়েদের মানুষ করার কথা। কম বয়সে বিধবা হয়েও ৬ সন্তান সামলে কপিলকে বিশ্বের সেরা বোলার বানিয়েছিলেন লাজবন্তী দেবী।

আজ আবার নারী দিবসের দিনে ভারতীয় দলের কাছে রয়েছে ইতিহাস পুনরাবৃত্তি করার হাতছানি। তবে অন্যদিকে নিউ জিল্যান্ডের কাছে নতুন করে ইতিহাস লেখার সুযোগও রয়েছে এই ম্যাচে (IND vs NZ)।
আরও পড়ুন: T 20 World Cup: বাইশ গজে মহারণ, কোথায় দেখবেন ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচ?
ক্রিকেটের প্রধান মুখ হয়ে ওঠা তারকা ক্রিকেটারদের গল্প বা মুখ আমরা সবাই চিনি কিন্তু তাঁদের পিছনে থাকা মীনাল বা চারুলতাদের খবর কজন রাখে? আজ সেই আড়ালে থাকা সুপারহিরোদের স্বপ্নপূরণে ভারতীয় দল। কদিন আগেই ভারতের মহিলা দল জিতে এসেছে বিশ্বকাপ আর এবার পালা ছেলেদের বিশ্বকাপের খেতাব ধরে রাখার। আবারও রূপকথা লেখার সুযোগ সূর্যদের সামনে। জেতার পর নিশ্চয়ই তাঁদের মুখেও উঠে আসবে নিজেদের মায়ের কথা।

দুই ম্যাচে ছেলের ম্যাচ জেতানো ইনিংস দেখে আবেগে ভেসেছেন সঞ্জুর মা। বাড়িতে টিভির সামনে বসে ইডেনে ছেলের দুরন্ত ইনিংস দেখা লিজি বিশ্বনাথের নানা মুহূর্তের ছবি ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় আর সেই ছবির আবেগে তখন গোটা ভারত ভাসছে। সঞ্জুর স্ত্রী চারুলতা রমেশ। কলেজ জীবনে প্রেম তারপরে বিয়ে। ‘আমার খারাপ স্পেলে চারুলতাই ভরসা জুগিয়েছে।’ ইডেনে জয়ের পরে বলেছিলেন সঞ্জু। আর চারুলতার মন্তব্য, ‘তোমার হাতে বিশ্বকাপটা দেখতে চাই।’ সূর্যর আজ এই উত্থানের পিছনেও রয়েছে তাঁর মায়ের বিরাট অবদান। আজ বোধহয় নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই লড়াই ভারতকে আরও বেশি শক্তি এবং আত্মবিশ্বাস যোগাবে (IND vs NZ)।
আহমেদাবাদের এই মাঠে ভারতের স্মৃতি সুখকর নয়। ২০২৩ সালের সেই রাত আজও ভারতীয় দল এবং সমর্থকদের কাছে দুঃস্বপ্ন। এবার সেই ইতিহাস পাল্টানোর সুযোগ, সুযোগ তৃতীয় বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে নিজেদের বিশ্বসেরা প্রমাণ করার। তবে সেই লড়াই যে সহজ নয় সেটা আজ সবাই জানে। সামনে ফিন অ্যালেন, রচীন রবীন্দ্র, লড়াইটা হবে সমানে-স্বমানে (IND vs NZ)।

ভারতীয় শিবিরের জন্য একদিকে চিন্তার অভিষেক শর্মার ফর্ম। তেমন বোলিংয়ে বুমরা ছাড়া বাকি বোলারদের হতাশাজনক বোলিং। এর আগে যেমন প্যাট ক্যামিন্স ভারতীয় সমর্থকদের চুপ করিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন সেই একই সুর শোনা গিয়েছে ব্ল্যাক ক্যাপ অধিনায়কের গলায়। তবে আজ কোনও পরিসংখ্যান নয়, কোনও স্মৃতি নয় বরং লড়াই হবে ৪০ ওভারের। সেখানে যেকোন সময় পাল্টে যেতে পারে সব পরিসংখ্যান। জশপ্রীত বুমরার জীবনেও তাঁর মা দলজিৎই সব। আর সেই মায়ের আজ ইচ্ছে ছেলের হাতে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ দেখার। এখন দেখার সেই স্বপ্নপূরণে ব্রতী ভারতীয় দল প্রথমে ব্যাট করে নতুন রূপকথা লিখতে পারে কিনা (IND vs NZ)।
টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক। তবে এখানে একটা ছোট্ট পরিসংখ্যান বলে রাখি ভারত যে দুইবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে সেই দুইবারই প্রথমে ব্যাট করতে নেমেছে ভারত। সূর্যকুমার যাদবও জানান যে তিনি জিতলেও ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে ভারতীয় দলে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। উইনিং কম্বিনেশন একই রাখা হয়েছে। খেলা শুরু হওয়ার আগেই রিকি মার্টিন তাঁর অনবদ্য পারফরম্যান্সে মাঠের উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছেন। এবার সমর্থকরা অপেক্ষায় দুই দলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের।


