Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শহরে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। বাইপাস সংলগ্ন এক হোটেলে সকাল থেকে একের পর এক বৈঠক করে ফুল বেঞ্চ। বৈঠকে বিজেপির পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি CEC-র কাছে করা হয়েছে(EC Opposition)।
ভোটের আগে (প্রাক-ভোট পর্ব) (EC Opposition)
স্বল্প মেয়াদে ভোট: দীর্ঘ ৬ সপ্তাহ ধরে ৭-৮ দফায় ভোট না করে ১ বা সর্বোচ্চ ২ দফায় ভোট শেষ করতে হবে।
অফিসার বদল: গত তিনটি নির্বাচনে (২০১৯, ২০২১, ২০২৪) নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে যে আধিকারিকদের বদলি করা হয়েছিল, তাঁদের এবারও নির্বাচনী কাজ থেকে সরিয়ে দিতে হবে।
উত্তেজনাপ্রবণ বুথ: গত ৩টি নির্বাচনে যেখানেই হিংসা হয়েছে বা যেখানে ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে, সেগুলিকে ‘স্পেশাল বুথ’ হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা: শুধুমাত্র রাজ্য পুলিশের ওপর ভরসা না করে অনেক আগে থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) মোতায়েন করে এরিয়া ডমিনেশন করতে হবে।
কঠোর নিষেধাজ্ঞা: পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনকে তৃণমূলের ‘ফ্রন্টাল সংগঠন’ হিসেবে অভিহিত করে সেটি নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।
ভোটের দিন (পোলিং ডে)
দ্বি-স্তরীয় পরিচয় যাচাই:
বুথে ঢোকার আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং বুথের ভেতরে প্রিসাইডিং অফিসার—দুই স্তরে ভোটারদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করতে হবে।
পোলিং এজেন্ট: রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের ঘরের ভেতরে নয়, বরং বুথের বাইরে বসার ব্যবস্থা করতে হবে।
কর্মচারী নিয়োগ: ভোটকর্মী হিসেবে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের অনুপাত ৫০:৫০ হতে হবে। কোনো চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীকে পোলিং অফিসার করা যাবে না।
ওয়েবক্যাম ও নজরদারি: প্রতিটি বুথে ওয়েবক্যাম বাধ্যতামূলক করতে হবে। যদি কোনো বুথে ক্যামেরা অকেজো হয়, তবে তৎক্ষণাৎ ভোট বন্ধ করে পুনর্নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।
গণনার দিন (কাউন্টিং ডে)
গণনা কেন্দ্র: শুধুমাত্র জেলা ও মহকুমা সদরে গণনা করতে হবে।
নিরাপত্তা ও আধিকারিক: গণনার ক্ষেত্রেও ৫০:৫০ হারে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে এবং পুরো এলাকা রাজ্য পুলিশের উপস্থিতি ছাড়াই কেন্দ্রীয় বাহিনীর (CAPF) কঠোর নজরদারিতে রাখতে হবে।
কী বলছেন বিজেপির প্রতিনিধিরা? (EC Opposition)
জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, হিংসা মুক্ত ভয় মুক্ত পরিবেশে যাতে ভোট হয় সেজন্য ১৬ দফা দাবি পত্র দিয়েছি, আমরা কমিশনারের কাছে। শিশির বাজোরিয়া বলেন ইলেকশন কমিশনের আঙুল কেটে দেব, এটা কত বড় কথা জানেন। আমরা পুলিশের সাথে কথা বলছি। আমরা কমিশনারকে বলে এসেছি, আপনারাও কমপ্লেন করুন। ওয়েব ক্যাম এর দাবি করেছি প্রতিটা বুথে। ওয়েব ক্যাম বন্ধ থাকলে পুনরায় ভোটের দাবি করে এসেছি। তাপস রায় বলেন ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে হিংসা-মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ভোট চাই।
আরও পড়ুন: TMC Full Bench: শহরে কমিশনের ফুল বেঞ্চ: সাক্ষাতের পর ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তৃণমূলের প্রতিনিধিদল
কী বললেন মহম্মদ সেলিম? (EC Opposition)
বৈঠকে মহম্মদ সেলিম প্রশ্ন করেন নির্বাচন কমিশন এমন কেন অবস্থা করল, যে সুষ্ঠু-শান্তি নির্বাচন করতে গিয়ে মানুষের নাম বাদ দিতে হল?? ৬০ লক্ষ ভোটারকে বাদ দিয়ে ভোটার লিস্ট হতে পারে না। নামের বানান সামান্য। BLO, ERO, AERO দের দিয়ে এই কাজগুলো করতে গিয়ে সর্ষের মধ্যে ভূত চলে এল। যারা ভুল করল তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? নিরপেক্ষ ভোট কিভাবে করানো যাবে? তখন আমাদের বলা হয়েছে সিসিটিভি দিয়ে ভোট করানো হবে।
আমরা দেখেছি গণনা কেন্দ্রে কিরকম অশান্তির ঘটনার ঘটে। কিভাবে সিসিটিভি দিয়ে পুরো ভোট প্রক্রিয়াটা করানো সম্ভব? মতুয়া, আদিবাসী, সংখ্যালঘু এদের কি হবে? নির্দিষ্ট দাবি করেছি। এক দফায় ভোট করতে হবে। খুব বেশি হলে দু-দফায়।



