Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভোট শেষ হতেই আবারও রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাঁকুড়ার জয়পুর এলাকা (Bankura)। কোতুলপুর বিধানসভার অন্তর্গত জয়পুর থানার এলাকায় তৃণমূলের এক প্রভাবশালী নেতার উপর হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা অঞ্চলে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।

জঙ্গল পথে অতর্কিত হামলা (Bankura)
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জয়পুর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ এবং বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার আইএনটিটিইউসি-র সহ সভাপতি জাকির খান প্রতিদিনের মতোই সকালে বাইকে করে বাড়ি থেকে জয়পুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। শালতোড়া এলাকা থেকে মুরলীগঞ্জ জঙ্গলের ধারে হাটপুকুর ক্যানেল ব্রিজ এলাকায় পৌঁছতেই আচমকা কয়েকজন দুষ্কৃতি তাঁর পথ আটকায়। অভিযোগ, লাঠি, রড ও সোঁটা দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয় তাঁকে। গুরুতর জখম অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে দুষ্কৃতিরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল ছিল নির্জন জঙ্গল ঘেরা এলাকা, ফলে সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য মেলেনি।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি (Bankura)
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা জঙ্গলে পাতা কুড়াতে গিয়ে জাকির খানকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে খবর দেন তৃণমূল কর্মীদের। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে জয়পুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।
অভিযোগের তির তৃণমূল প্রার্থীর ভাইয়ের দিকে (Bankura)
আহত জাকির খানের অভিযোগ, এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে কোতুলপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী হরকালী প্রতিহারের ভাই মৃত্যুঞ্জয় প্রতিহার। তাঁর দাবি, হামলাকারীরা মারধরের সময় মৃত্যুঞ্জয়ের নাম উল্লেখ করে এবং তাঁকে খুন করার নির্দেশের কথাও বলে। তবে এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন মৃত্যুঞ্জয় প্রতিহার। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই সত্য সামনে আসবে।

গোষ্ঠীদ্বন্দ না কি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র? (Bankura)
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। যদিও জাকির খান এটিকে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ বলতে নারাজ, বিরোধীরা ঠিকই এই ইস্যুকে হাতিয়ার করেছে। বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র দেবপ্রিয় বিশ্বাস কটাক্ষ করে বলেন, ভোটের টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়েই তৃণমূলের অন্দরে অশান্তি চলছে। তাঁর দাবি, এই ধরনের সংঘর্ষ তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দেরই বহিঃপ্রকাশ।
আরও পড়ুন: Record Vote Percentage: বঙ্গে ভোট শতাংশ ৯০% ছুঁইছুঁই! ভাঙল ২০১১ সালের রেকর্ড
প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা
ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা নতুন নয়, কিন্তু প্রতিবারই তা আইনশৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। জয়পুরের এই ঘটনায় আবারও সামনে এল সেই একই চিত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তো বটেই, কখনও নিজের দলের ভেতরেও দ্বন্দ্ব ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে।



