Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবহণ নীতি (Bangladesh)। নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকায় চালু হতে চলেছে বিশেষ মহিলা বাস সার্ভিস। এই পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে নারীদের দ্বারাই পরিচালিত হবে চালক থেকে শুরু করে কন্ডাক্টর ও হেল্পার, সকলেই হবেন নারী। বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই উদ্যোগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অনেকের মতে, এই পরিকল্পনার পেছনে প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই-এর নারী-কেন্দ্রিক নীতি ও প্রকল্প। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের নারী-নিরাপদ পরিবহণ ব্যবস্থার উদাহরণ দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

‘মহিলা বাস সার্ভিস’ (Bangladesh)
ঢাকার সচিবালয়ে সম্প্রতি সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলামকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্পোরেশন (বিআরটিসি) দ্রুত এই পরিষেবা চালুর প্রস্তুতি শুরু করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি বাস পরিচালনা করবেন তিনজন নারী কর্মী, একজন দক্ষ নারী চালক, একজন নারী কন্ডাক্টর, একজন নারী হেল্পার, এই পরিষেবার মূল লক্ষ্য হলো নারীদের জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করা। ঢাকার মতো ব্যস্ত মহানগরে কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশার নারীরা প্রায়ই গণপরিবহণে নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। নতুন এই উদ্যোগ সেই সমস্যাগুলিকে অনেকটাই কমাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
নারী-কেন্দ্রিক নীতির প্রভাব (Bangladesh)
দক্ষিণ এশিয়ায় নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরেই নারীদের জন্য বিশেষ নীতি ও প্রকল্প চালু করেছেন যার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষার নানা কর্মসূচি। এই প্রেক্ষাপটে অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশের এই নতুন মহিলা বাস পরিষেবা চালুর ভাবনার পেছনে পশ্চিমবঙ্গের নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব রয়েছে। আঞ্চলিক প্রশাসনের মধ্যে এই ধরনের নীতি বিনিময় দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নয়নমূলক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে।

উদ্বেগের বড় কারণ (Bangladesh)
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে চালকদের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টাকে দায়ী করেছেন। আইন অনুযায়ী একজন চালকের দিনে সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা গাড়ি চালানোর কথা। কিন্তু বাস্তবে অনেক চালককে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত স্টিয়ারিং ধরতে হয়। এর ফলে শারীরিক ক্লান্তি ও মনোযোগের ঘাটতি তৈরি হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তিনি আরও জানিয়েছেন, ঢাকার সড়কে যানবাহনের সংখ্যা রাস্তার ধারণক্ষমতার বহু গুণ বেশি। উদাহরণস্বরূপ, কোনো সড়কের সক্ষমতা যদি ৫০ হাজার যানবাহন হয়, সেখানে বাস্তবে চলছে প্রায় ২ লক্ষেরও বেশি যান, এই অতিরিক্ত চাপ সড়ক নিরাপত্তাকে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করছে।
পুরনো যানবাহন ও নতুন স্ক্র্যাপিং নীতি (Bangladesh)
সড়ক দুর্ঘটনার আরেকটি বড় কারণ হলো পুরনো ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন। এই সমস্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার স্ক্র্যাপিং নীতিমালা কার্যকর করেছে। এই নীতির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে পুরনো যানবাহন সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে শুধু দুর্ঘটনার ঝুঁকিই কমবে না, পরিবেশ দূষণও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চালকদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ (Bangladesh)
চালকদের দক্ষতা বাড়াতে নতুন নিয়মও চালু করা হয়েছে। এখন থেকে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে চালকদের ৬০ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এই প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হওয়ার পরই তাঁরা পরিবহণ কর্তৃপক্ষের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। সরকারের মতে, এই পদক্ষেপ চালকদের দক্ষতা ও দায়িত্ববোধ বাড়াতে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন: Gyanesh Kumar: কালীঘাটে পুজো দিতে গিয়েই বিক্ষোভ! গো ব্যাক স্লোগানের মুখে জ্ঞানেশ কুমার
নারী-নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত
ঢাকায় মহিলা বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ শুধু পরিবহণ নীতির পরিবর্তন নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ায় নারী নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। যদি এই প্রকল্প সফল হয়, তবে তা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অন্যান্য শহরেও চালু হতে পারে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করতে পারে যে নারী-কেন্দ্রিক নীতি শুধু সামাজিক উন্নয়ন নয়, প্রশাসনিক দক্ষতা ও আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



