Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্রতীরবর্তী পর্যটনকেন্দ্র দীঘা-তে খুব শীঘ্রই যুক্ত হতে চলেছে এক নতুন আকর্ষণ (Digha)। প্রশাসনিক অনুমোদন পেলেই সমুদ্রে ভেসে উঠবে আধুনিক প্রমোদতরী ‘এমভি নিবেদিতা’। পর্যটনকে আরও সমৃদ্ধ করতে এই উদ্যোগ নিয়েছে দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ডিএসডিএ)। ইতিমধ্যেই এই জলযান চালুর জন্য প্রায় সব ধরনের পরিকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। বর্তমানে প্রমোদতরীটি দিঘা সংলগ্ন পূর্ব মুকুন্দপুর এলাকায় নায়েকালী মন্দিরের কাছে চম্পা খালের জেটিতে নোঙর করে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র মিললেই সেটি সমুদ্রে নামানো হবে। প্রশাসনের আশা, এই ক্রুজ পরিষেবা চালু হলে দিঘায় আগত পর্যটকদের কাছে তা নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে।

কীভাবে তৈরি হল এই প্রকল্প (Digha)
দিঘার পর্যটনকে আরও আধুনিক ও আকর্ষণীয় করে তুলতে বহুদিন ধরেই প্রমোদতরী চালুর পরিকল্পনা ছিল। সেই ভাবনাকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছে দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এই প্রকল্পটি পিপিপি (Public-Private Partnership) মডেলে পরিচালিত হবে। প্রথমে পরিবহণ দপ্তরের এই জলযানটি হলদিয়া থেকে দিঘায় আনা হয়। এরপর ডিএসডিএ টেন্ডার ডেকে একটি বেসরকারি ঠিকাদার সংস্থার হাতে প্রমোদতরী পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে, পর্যটকদের ওঠানামার সুবিধার জন্য পন্টুন জেটি, জেটির সঙ্গে সংযোগকারী গ্যাংওয়ে, মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন রাস্তা থেকে জেটি পর্যন্ত লম্বা কাঠের ব্রিজ, পুরো এলাকায় পর্যাপ্ত পথবাতি ও আলোকসজ্জা আগে জেটি পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তা ছিল কাঁচা। বর্তমানে সেটিও উন্নত করে পর্যটকদের যাতায়াতের উপযোগী করে তোলা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও ট্রায়াল পরীক্ষার ব্যবস্থা (Digha)
প্রমোদতরী চালুর আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিকবার ট্রায়াল রান করা হয়েছে। চম্পা খাল ও সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় এই পরীক্ষামূলক যাত্রা চালানো হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে জলযানের স্থিতিশীলতা, চলাচলের সক্ষমতা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, সবকিছু সন্তোষজনক হলেও এখনও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও ফিটনেস সার্টিফিকেট পাওয়ার অপেক্ষা রয়েছে।

প্রমোদতরীতে কী কী সুবিধা থাকবে (Digha)
‘এমভি নিবেদিতা’ শুধু একটি সাধারণ নৌভ্রমণ নয়; এটি হবে এক ধরনের সমুদ্রবিলাসের অভিজ্ঞতা। পর্যটকদের জন্য এখানে নানা ধরনের আধুনিক সুবিধা রাখা হয়েছে। এই প্রমোদতরীতে থাকছে, আকর্ষণীয় আলোকসজ্জা, বিশেষ করে রাতের বেলায়, উন্নত মানের সাউন্ড সিস্টেম, নাচ-গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন, ছোট আকারের রেস্তরাঁ ও খাবারের ব্যবস্থা, এলইডি স্ক্রিনে দিঘার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্যচিত্র, পর্যটন সম্পর্কিত তথ্য ও উপস্থাপনা, এইসব ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রীরা শুধু সমুদ্র ভ্রমণই করবেন না, বরং দিঘা ও আশপাশের এলাকার ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং উন্নয়ন সম্পর্কেও জানতে পারবেন।
কতজন যাত্রী এবং কতক্ষণ ভ্রমণ (Digha)
প্রমোদতরীটির দু’টি ডেক রয়েছে। সেখানে একসঙ্গে সর্বাধিক ৮০ জন পর্যটক বসতে পারবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি সফরের সময় হবে প্রায় এক ঘণ্টা, প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন দুটি সফর পরিচালনা করা হবে, যাত্রা শুরু হবে জেটি থেকে এবং ভ্রমণ শেষে আবার সেই জেটিতেই ফিরে আসবে, এর ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই পর্যটকেরা সমুদ্র ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন।

বুকিং ব্যবস্থা ও সম্ভাব্য ভাড়া (Digha)
এই প্রমোদতরীতে ভ্রমণের জন্য দুই ধরনের বুকিং ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে, স্পট বুকিং (জেটি থেকে সরাসরি), অনলাইন বুকিং, তবে এখনও পর্যন্ত মাথাপিছু ভাড়ার পরিমাণ চূড়ান্ত হয়নি। প্রশাসনিক অনুমোদনের পরই তা ঘোষণা করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য
প্রমোদতরী পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সংস্থার কর্তা প্রদীপ দাস জানিয়েছেন, জলযান চালুর জন্য সমস্ত পরিকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে। প্রশাসনের সবুজ সঙ্কেত পেলেই পরিষেবা শুরু করা হবে। অন্যদিকে দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-র মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক সুরজিৎ পণ্ডিত জানিয়েছেন, এখনও প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় ক্রুজ চালু করা যাচ্ছে না। ফিটনেস সার্টিফিকেটের জন্য পরিবহণ দপ্তরের কাছে আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন মিললেই খুব দ্রুত পরিষেবা শুরু করা হবে।



