Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফাল্গুনের মধুর সন্ধ্যায় সামাজিক মতে সাতপাকে বাঁধা পড়লেন ইনফ্লুয়েন্সার জুটি অনন্যা গুহ এবং সুকান্ত কুণ্ডু (Ananya Sukanta Wedding)। যদিও তাঁদের আইনি বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল আগেই, ২০২৫ সালেই। তবে পরিবার–পরিজন ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে বাঙালি রীতিনীতি মেনে এবার অনুষ্ঠিত হল সামাজিক বিয়ে। কয়েক মাস ধরেই তাঁদের বিয়ের প্রস্তুতির নানা মুহূর্ত সোশাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিচ্ছিলেন হবু দম্পতি। ফলে বিয়ের দিনটি নিয়ে নেটপাড়ায় আগ্রহও ছিল তুঙ্গে। কিন্তু আনন্দঘন এই অনুষ্ঠানের মাঝেই হঠাৎ করে উঠে এসেছে একাধিক অভিযোগ ও বিতর্ক, যা এখন সোশাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

বাঙালিয়ানায় ভরপুর বিয়ের আয়োজন (Ananya Sukanta Wedding)
অনন্যা ও সুকান্ত তাঁদের বিয়ের প্রতিটি রীতিতে বাঙালি ঐতিহ্যের ছাপ রাখার চেষ্টা করেছেন। সাজসজ্জা থেকে শুরু করে খাবারের আয়োজন সবেতেই ছিল সাবেকিয়ানা। বিয়ের আগে অনন্যা পালন করেন ঐতিহ্যবাহী আলতা অনুষ্ঠান। লাল পাড় শাড়ি, হাতে শাঁখা–পলা এবং পায়ে আলতার সাজে তাঁকে দেখে মুগ্ধ হন নেটিজেনরা। সোশাল মিডিয়ায় সেই ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় মুহূর্তে। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানেও ধরা পড়ে দম্পতির রোম্যান্টিক মুহূর্ত। যদিও তাঁরা প্রচলিত হলুদ পোশাকের বদলে ভিন্নধর্মী পোশাকে সেজেছিলেন, তবুও তাঁদের ফ্যাশন সেন্স নেটমাধ্যমে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
অতিথি তালিকায় চমক (Ananya Sukanta Wedding)
বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইনফ্লুয়েন্সার মহলের বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়ক চক্রবর্তীও। সম্প্রতি সায়কের নাম ঘিরে গোমাংস সংক্রান্ত বিতর্কে সোশাল মিডিয়ায় বেশ আলোচনা হয়েছিল। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই তিনি হাজির হন অনন্যা–সুকান্তের বিয়েতে, যা আবার নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।

ছবিশিকারীদের অভিযোগে বিতর্ক (Ananya Sukanta Wedding)
তবে আনন্দমুখর এই অনুষ্ঠানের মাঝেই সামনে আসে একাধিক অভিযোগ। বিয়ের আসরে উপস্থিত কিছু ছবিশিকারী বা ফটোগ্রাফার দাবি করেছেন, অনুষ্ঠানে তাঁদের সঙ্গে নাকি যথেষ্ট অমর্যাদাকর আচরণ করা হয়েছে। ভাইরাল হওয়া পোস্টে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে প্রবেশের পর থেকেই কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হয়েছিল তাঁদের। এমনকি শৌচালয়ে যেতে হলেও তাঁদের সঙ্গে একজন বাউন্সারকে যেতে হচ্ছিল। মহিলা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম ছিল, যেখানে একজন পুরুষ বাউন্সার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতেন। ফটোগ্রাফারদের দাবি, এই ব্যবস্থা করা হয়েছিল যাতে কেউ শৌচালয়ের আশপাশ থেকেও ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে না পারেন।
জল বা খাবারের ব্যবস্থাও ছিল না? (Ananya Sukanta Wedding)
অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। কয়েকজনের দাবি, অনুষ্ঠানস্থলে তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত আতিথেয়তার ব্যবস্থাও করা হয়নি। একাংশের বক্তব্য, তাঁদের জন্য কোনও খাবারের ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি এক গ্লাস জল চাইলেও পাওয়া যায়নি। শুরুর দিকে তাঁরা অনুষ্ঠানস্থলে থাকলেও পরে নাকি দুই পরিবারের আত্মীয়স্বজন আসার পর তাঁদের সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং রাস্তায় অপেক্ষা করতে বলা হয়।
ছবি আপলোড নিয়ে নতুন নির্দেশিকা (Ananya Sukanta Wedding)
বিতর্কের আরেকটি বড় কারণ ছিল ছবি প্রকাশের নিয়ম নিয়ে। শোনা যায়, প্রথমদিকে অনন্যা ও সুকান্তের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে ছবিশিকারীরা অনুষ্ঠানটির ছবি তুলতে পারবেন, তবে তা তিন থেকে চার দিন পরে সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু পরে নাকি সেই সিদ্ধান্ত বদলে যায়। অভিযোগ, তাঁদের জানানো হয়, প্রথমে অনন্যা নিজের ভ্লগে বিয়ের লুক প্রকাশ করবেন, তার পরে অন্য কেউ ছবি আপলোড করতে পারবেন।

আতিথেয়তা নিয়ে দ্বিমত (Ananya Sukanta Wedding)
এই পরিস্থিতি নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় মতভেদও দেখা গেছে। কেউ কেউ ছবিশিকারীদের অভিযোগকে সমর্থন করেছেন। তাঁদের মতে, অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে ভেদাভেদ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ অতিথি বা জনপ্রিয় ভ্লগারদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু অন্যান্যদের সেই যত্ন দেওয়া হয়নি। তবে অন্য একটি অংশ এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁদের মতে, বড় অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা বজায় রাখতে অনেক সময় কঠোর নিয়ম রাখতে হয়, তাই বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে।
আগেও নাকি হয়েছিল এমন ঘটনা
ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে কানাঘুষো, অনন্যার বাগদানের দিনেও নাকি অনুরূপ কিছু পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। যদিও সে সময় বিষয়টি বড় আকার নেয়নি। এবার বিয়ের অনুষ্ঠানকে ঘিরে সেই পুরনো প্রসঙ্গও আবার সামনে এসেছে। সব বিতর্কের মাঝেও নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাতে ভোলেননি তাঁদের অনুরাগীরা। সোশাল মিডিয়ায় বহু মানুষ অনন্যা ও সুকান্তকে নতুন জীবনের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। ফলে বলা যায়, একদিকে যেমন অভিযোগ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে, অন্যদিকে তেমনই ভালোবাসা ও শুভেচ্ছায় ভরে উঠেছে নেটদুনিয়া।



