Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতার রাজপথ আবারও সাক্ষী থাকল এক রাজনৈতিক প্রতিবাদের। হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে এবং জীবিকা রক্ষার দাবিতে দ্বিতীয়বারের মতো সরাসরি আন্দোলনের ময়দানে নামলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ধর্মতলার কেসি দাসের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ। হকারদের জীবিকা ও অধিকার রক্ষার দাবিকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচি ঘিরে শহরের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে উঠে আসে সমাজের প্রান্তিক ও শ্রমজীবী মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার কথা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, জীবিকার সন্ধানে রাস্তায় ব্যবসা করা মানুষদের উচ্ছেদ করে কোনও সমস্যার সমাধান হবে না (Mamata Banerjee)।

হকারদের পাশে থাকার বার্তা (Mamata Banerjee)
এই প্রতিবাদ সভার মূল সুর ছিল হকারদের জীবিকা রক্ষা। বহু বছর ধরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট দোকান, ঠেলাগাড়ি কিংবা অস্থায়ী স্টল বসিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন হাজার হাজার মানুষ। তাঁদের একটি বড় অংশের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস এই ব্যবসা। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, হকারদের উচ্ছেদ করা মানে শুধু একটি দোকান সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং একটি পরিবারের জীবিকার পথ বন্ধ করে দেওয়া। সেই কারণেই “হকার উচ্ছেদ চলবে না”, “হকারদের উপর অন্যায় বন্ধ করো” এবং “হকার বাঁচাও, জীবন বাঁচাও” এই স্লোগানকে সামনে রেখে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
ধর্মতলায় জমায়েত, জনতার ব্যাপক সাড়া (Mamata Banerjee)
ধর্মতলার কেসি দাসের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে সকাল থেকেই ভিড় জমতে শুরু করে। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা এসে যোগ দেন প্রতিবাদ মিছিলে। অনেক সাধারণ মানুষও হকারদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে এই আন্দোলনের অংশ হন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কলকাতার বুকে হকার ইস্যু বরাবরই একটি সংবেদনশীল বিষয়। কারণ এই শহরের অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে রাস্তার হকার সংস্কৃতি। ফলে এই প্রশ্নে জনসমর্থন আদায়ের লড়াইও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জীবিকা বনাম নগর পরিকল্পনার বিতর্ক (Mamata Banerjee)
একদিকে শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করা, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি রয়েছে। অন্যদিকে রয়েছে হাজার হাজার হকার পরিবারের জীবন-জীবিকার প্রশ্ন। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি উন্নয়ন ও নাগরিক পরিকাঠামোর পাশাপাশি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের স্বার্থ রক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দিতে চান। তাঁর মতে, কোনও পরিকল্পনা গ্রহণের আগে হকারদের পুনর্বাসন ও বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন : Longview Tea Garden: ৫০ দিনের অনশনেও মেলেনি সমাধান, এবার নড়বে মালিকপক্ষ
রাজনৈতিক বার্তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতিবাদ শুধু হকারদের সমর্থনে একটি কর্মসূচি নয়, বরং শ্রমজীবী ও নিম্নবিত্ত মানুষের পাশে থাকার একটি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করতে চাইছে বলেই মনে করা হচ্ছে। হকারদের দাবিকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আকার নিতে পারে বলেও রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা। কারণ জীবিকা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলি সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।



