Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত এবং জ্বালানি সরবরাহ ঘিরে অনিশ্চয়তা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে ভারতের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে (Induction)। বিশেষ করে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় দেশের বহু পরিবার এখন বিকল্প রান্নার উপায় খুঁজতে শুরু করেছে। যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা যে কতটা ভঙ্গুর হয়ে পড়তে পারে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তারই এক বাস্তব উদাহরণ। এই প্রেক্ষাপটে হঠাৎ করেই দেশে ইন্ডাকশন কুকটপের চাহিদা আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে। অনলাইন ও ক্যুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্মে অধিকাংশ সস্তা মডেল এখন কার্যত স্টকশূন্য।
হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রভাব (Induction)
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হল হরমুজ প্রণালী (Induction)। পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল ও এলপিজি পরিবহনের বড় অংশ এই সরু জলপথ দিয়েই যায়। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি আরবসহ একাধিক উপসাগরীয় দেশ থেকে ভারতের এলপিজি আমদানিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় রান্নার গ্যাসের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের বাজারে।
দেশে গ্যাস সরবরাহে চাপ (Induction)
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে গ্যাসের জোগান বজায় রাখতে তেল বিপণন সংস্থাগুলি ঘরোয়া এলপিজি উৎপাদন প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। তবু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বিভিন্ন জায়গায় সমস্যা দেখা দিতে শুরু করেছে। সাধারণ সময়ে গ্যাস বুক করার পরে দুই দিনের মধ্যেই সিলিন্ডার পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে বুকিং করার পরে ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে বহু গ্রাহককে। সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে, বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে কমানো বা স্থগিত করা, গার্হস্থ্য এলপিজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে এক রিফিলের পরে আরেকটি রিফিল নেওয়ার মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে ২৫ দিনের ব্যবধান রাখা, বিকল্প উৎস থেকে এলপিজি আমদানির পরিকল্পনা এই পদক্ষেপগুলির লক্ষ্য হল গৃহস্থালির ব্যবহারের জন্য গ্যাসের সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

বিকল্প রান্নার উপায় হিসেবে ইন্ডাকশন (Induction)
গ্যাস সরবরাহের অনিশ্চয়তা দেখা দিতেই বহু মানুষ বিকল্প রান্নার পদ্ধতির দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ইন্ডাকশন কুকটপ। ইন্ডাকশন চুলা বিদ্যুতের সাহায্যে দ্রুত রান্না করা যায় এবং এতে খোলা আগুনের প্রয়োজন হয় না। ফলে গ্যাসের উপর নির্ভরশীলতা কমানোর একটি কার্যকর উপায় হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে। এই চাহিদা হঠাৎ এত দ্রুত বেড়ে গেছে যে দেশের বড় বড় ক্যুইক-কমার্স অ্যাপেও অধিকাংশ ইন্ডাকশন কুকটপ এখন “Unavailable” বা “Sold Out” হিসেবে দেখাচ্ছে।
অনলাইন বাজারে অস্বাভাবিক চাহিদা (Induction)
দেশের প্রথম সারির একাধিক ই-কমার্স সংস্থা জানিয়েছে, গত চার থেকে পাঁচ দিনে ইন্ডাকশন কুকটপ বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। একটি সংস্থার দাবি অনুযায়ী, মাত্র চার দিনের মধ্যে তাদের প্ল্যাটফর্মে বিক্রি প্রায় তিনগুণ বেড়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিক্রি ২০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, সবচেয়ে বেশি চাহিদা দেখা যাচ্ছে কলকাতা, দিল্লি এবং উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন শহরে। এই প্রবল চাহিদার ফলে ক্যুইক ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলি প্রায় স্টকশূন্য হয়ে পড়েছে।
বাজারে উধাও বাজেট মডেল (Induction)
যে ইন্ডাকশন কুকটপের বাজেট মডেলগুলি গত সপ্তাহেও প্রায় ১২০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছিল, সেগুলি এখন কার্যত বাজার থেকে উধাও। বর্তমানে বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলিতে মূলত তিন হাজার টাকা বা তার বেশি দামের প্রিমিয়াম মডেলগুলিই সীমিত সংখ্যায় পাওয়া যাচ্ছে। এর পাশাপাশি ইন্ডাকশন ব্যবহারের উপযোগী বিশেষ ধরনের বাসনের চাহিদাও দ্রুত বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুন: CM Mamata Banerjee: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ফোনেই নতুন রাজ্যপালের নাম! কেন বিস্মিত মুখ্যমন্ত্রী?
জ্বালানি সংকটের বড় শিক্ষা
এই পরিস্থিতি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে ভারতের মতো বৃহৎ অর্থনীতির জন্য জ্বালানি আমদানির উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এমন সংকট এড়াতে কয়েকটি বিষয়ের উপর জোর দেওয়া প্রয়োজন, জ্বালানি আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করা, বিদ্যুৎভিত্তিক রান্নার প্রযুক্তি জনপ্রিয় করা, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো, কৌশলগত জ্বালানি মজুত বৃদ্ধি



