Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সই জাল কাণ্ডে হাইকোর্টের নির্দেশে (Abhishek Banerjee) ভবানী ভবনে বৃহষ্পতিবার সাড়ে পাঁচ ঘন্টার সিআইডি জেরার সম্মুখীন হয়েছেন অভিষেক। শুক্রবার উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিআইডি। এই অবস্থায় সাংবাদিকদের সামনাসামনি হয়ে কী সাফাই দিলেন তিনি? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “আমি আপনাদের মাধ্যমে যারা নোটিশ দিতে এসেছিলেন, আপনারা যদি আসেন নিশ্চিতভাবে যোগাযোগ করে আসুন। আর না হলে অপেক্ষা করুন, আমি যখন ফিরবো, আমি তখনই ওই নোটিশটা আপনাদের তরফ থেকে আপনাদের কাছ থেকে নিতে পারবো।”
তদন্ত এড়াবার প্রসঙ্গ (Abhishek Banerjee)
তদন্ত এড়িয়ে যাবার প্রসঙ্গে (Abhishek Banerjee) তিনি বলেন, “আপনারা যারা আমাকে প্রশ্ন করছেন, আপনি তদন্ত এড়িয়ে যাচ্ছেন- আমি কোনো তদন্ত এড়িয়ে যাইনি। আমার লুকানোর কিচ্ছু নেই। আমি কেন্দ্রীয় সমস্ত তদন্তকারী সংস্থার সম্মুখীন হয়েছি এখনও পর্যন্ত আট থেকে দশ বার। যারা এতদিন ধরে তদন্ত চালাচ্ছে, আমাকে যখনই ডেকেছে আমি গেছি।”
সাফাই দিলেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)
তিনি আরও বলেন, “আমাকে সিআইডি (Abhishek Banerjee) সমন দিয়েছিল, প্রথম সমন ৩০ তারিখ। ৩০ তারিখ বিকেলে আমার ওপর আক্রমণ হয় আপনারা দেখেছেন। ৪৮ ঘণ্টা আমি বাড়ি থেকে বেরোতে পারিনি। আমি সময় চেয়েছিলাম, আমাকে আট তারিখ ডাকা হয়েছে। আট তারিখ আমি ছিলাম, আমি ৬ তারিখ দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম, ইন্ডিয়া জোটের মিটিং ছিল। ৮ তারিখ তারা জানে যখন আমি দিল্লিতে, তখন ৮ তারিখ বিকেলে নোটিশ দিয়ে বলা হচ্ছে ৯ তারিখে আসুন। ৯ তারিখেও আমার বৈঠক ছিল।”
তদন্তকারী সংস্থার প্রশ্ন সম্পর্কে, “আমি গতকাল সঙ্গে সঙ্গে যখনই আমি কোর্টের নির্দেশ পেয়েছি, আমি সঙ্গে সঙ্গে ছ’টার আগে গেছি এবং তারা যে প্রশ্নগুলো করেছে-আমি তো এখানে আলোচনা করতে পারি না। যদিও আমি দেখছি মিডিয়ায় অনেক কিছু বেরিয়েছে, আমায় কি প্রশ্ন করেছে তদন্তকারী সংস্থার কাছে আর আমার সাথে কি আলোচনা হয়েছে- এটা মিডিয়ায় চলে এসেছে। এবং আমি বাড়ি ফেরার আধ ঘণ্টার মধ্যে আমাকে প্রথম প্রশ্ন কি করা হয়েছে, আমাকে দ্বিতীয় প্রশ্ন কি করা হয়েছে, আমাকে তৃতীয় প্রশ্ন কি করা হয়েছে-তার উত্তরে আমি কি বলেছি, সব এখন সরকার পাল্টেছে, এরা বিভিন্নভাবে মামলায় আমাকে টাইট করবে।”
উস্কানিমূলক মন্তব্যে অভিষেককে নোটিশ। এই প্রসঙ্গে (Abhishek Banerjee) তিনি স্পষ্ট জানান, “আমাকে আমি শুনেছি যে মামলায় আজকে আমাকে নোটিশ দিতে এসেছে, আমি বলেছি ৪ তারিখের পর ডিজে বাজাবো। আমি প্রশ্ন করতে চাই যে আমি যদি সত্যি কোনো ভুল বলে থাকি, আমি এই স্টেটমেন্টগুলো কবে করেছি? নির্বাচন চলাকালীন। নির্বাচন যখন চলছে, ল অ্যান্ড অর্ডার, আইনশৃঙ্খলা কার আন্ডারে? ইলেকশন কমিশনের আন্ডারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্ডারে তো ছিল না। তাহলে তখন আমার বিরুদ্ধে এফআইআর হলো না কেন? ইলেকশন কমিশনের বিরুদ্ধে কমপ্লেন হলে ইলেকশন কমিশন আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল না কেন?
তার কারণ, আমি যদি ডিজে বাজানোর কথা বলে থাকি, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘তৃণমূলের লোকেদের উল্টো করে ঝুলিয়ে দিয়ে সোজা করে দেবো’। প্রত্যেকের অধিকার সমান এবং প্রত্যেকের অধিকার পরিষ্কার রয়েছে। আপনি বলবেন, জ্ঞানেশ কুমারকে যদি আমার এগেইনস্টে অ্যাকশন নিতে হতো, তাহলে অমিত শাহর বিরুদ্ধেও অ্যাকশন নিতে হতো। অমিত শাহর বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়ার ক্ষমতা ইলেকশন কমিশনের নেই, তাই আমার বিরুদ্ধেও অ্যাকশন নিতে পারেনি। সরকার বদলেছে, এখন মামলা হয়েছে। তাহলে আমার বিরুদ্ধে যদি মামলা হয়, আমি ডিজে বাজাবো বলে, তাহলে অমিত শাহর বিরুদ্ধে এফআইআর হবে না কেন?”
আরও পড়ুন: Kathal Biryani: জামাইষষ্ঠীর পাতের হিরো এঁচোড়ের নিরামিষ বিরিয়ানি!
তাঁর কথায়, “তদন্তকারী সংস্থার কাছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যদি এই কেস, ‘আমি বাংলা থেকে বহিরাগতদের আক্রমণ করেছি’ বলে আমার আমার ভাষণে, এই তদন্তের ভার সিআইডিকে দেওয়া হয়, তাহলে যে বহিরাগতরা এসে বাঙালিকে আক্রমণ করেছে, সেই মামলার দায়ভার কেন সিআইডি বা সিবিআইকে দেওয়া হবে না? (Abhishek Banerjee) এই প্রশ্ন তো উঠবেই। এই প্রশ্ন তো এড়িয়ে যেতে পারে না।
আপনারা এসব চাপের রাজনীতি, দল ভাঙানো আমরা অনেকদিন ধরে দেখছি। এসব করে কোনো লাভ নেই। ৩০ লক্ষ মানুষকে আপনারা ভোটার তালিকার বাইরে রেখে ভোট করেও তৃণমূল ৪১ পার্সেন্ট ভোট পেয়েছে। ২ কোটি ৬০ লক্ষ ভোট তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে। তাদের প্রতিনিধিত্ব তৃণমূল কংগ্রেস করবে। এক চুল জায়গা তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়বে না।”
“২০১১ সালের পরিবর্তন আর ২০২৬-এর পরিবর্তনটা খালি একটু তুলনা করুন। মানুষের মনে কোনো আবেগ নেই, স্বতঃস্ফূর্ততা নেই, আটটার পর রাস্তা শূন্য, ফাঁকা। বিজেপি বিজয় মিছিল বার করতে পারছে না। যারা বড় বড় ভাষণ দিচ্ছেন, আমি বলব রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করুন। মানুষ যদি আপনাদের জিতিয়ে থাকে, মানুষের জন্য কাজ করুন। মানুষ বুলডোজারের জন্য ভোট দেয়নি, মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য ভোট দিয়েছে। শান্তি, শৃঙ্খলা, সম্প্রীতির জন্য ভোট দিয়েছে। মানুষ উন্নয়নের স্বার্থে… করুন উন্নয়ন। দিল্লির সাথে লড়াই করে টাকা আনুন।”


