Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উত্তরপ্রদেশের নয়ডা শহরে ভয়াবহ (Noida Fire) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক। বৃহস্পতিবার সকালে সেক্টর ৪ এলাকার একটি ইলেকট্রিক মিটার তৈরির কারখানায় আচমকাই আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে কারখানার বিভিন্ন অংশে। আগুনের লেলিহান শিখা এবং ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন অন্তত ২৬ জন শ্রমিক।
আচমকা আগুন লাগতেই আতঙ্ক (Noida Fire)
জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় ওই কারখানার ভিতরে (Noida Fire) প্রায় ২৪০ জন কর্মী কাজ করছিলেন। আচমকা আগুন লাগতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শ্রমিকদের মধ্যে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই কারখানার ভিতরেই আটকে পড়েন। কেউ কেউ ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় কারখানার কর্মীদের।
দীর্ঘ সময় উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কাজ (Noida Fire)
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় (Noida Fire) দমকলের প্রায় ৩০টি ইঞ্জিন এবং উদ্ধারকারী দল। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে দমকল কর্মীদের দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কাজ চালাতে হয়। কারখানার ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অনেক জায়গায় দরজা-জানলা বন্ধ থাকায় দমকল কর্মীরা জানলার কাচ ভেঙে ভিতরে ঢোকেন এবং একে একে শ্রমিকদের বাইরে বের করে আনেন।
বহু শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার সম্ভব (Noida Fire)
দমকল কর্মীদের তৎপরতায় বহু শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার টানা চেষ্টার পর অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন দমকল কর্মীরা। তবে আগুন পুরোপুরি নিভে গেলেও এখনও কোথাও পকেট ফায়ার রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে দমকল সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় অন্তত ২৬ জন শ্রমিক গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (আইন ও শৃঙ্খলা) রাজীব নারায়ণ মিশ্রা জানিয়েছেন, আগুন লাগার পর কারখানার ভিতরে দ্রুত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। সেই ধোঁয়ার কারণে বহু শ্রমিকের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এ ছাড়াও আতঙ্কে অনেকে কারখানার উঁচু তলা থেকে লাফিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন। ফলে কয়েকজন শ্রমিক পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন।
চিকিৎসকদের দাবি, আহত শ্রমিকদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসার ফলে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। যদিও কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তবুও অধিকাংশ আহতের শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
এদিকে আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান গৌতম বুদ্ধ নগর জেলার চিফ ফায়ার অফিসার। তিনি নিজে উপস্থিত থেকে দমকলের উদ্ধারকাজ এবং আগুন নেভানোর পুরো প্রক্রিয়ার তদারকি করেন। তাঁর নির্দেশে অতিরিক্ত দমকল ইঞ্জিন ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়।
আরও পড়ুন: LPG Price: গ্যাস সঙ্কটের গুজব, আড়াই-তিন দিনেই মিলবে গ্যাস, জানাল কেন্দ্র
ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। পাশাপাশি কারখানার অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করছিল কি না এবং নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে দমকল ও প্রশাসন।
ধোঁয়া পুরোপুরি কেটে গেলে কারখানার ভিতরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন দমকল আধিকারিকরা। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নিরাপত্তার স্বার্থে গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।


