Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে মাঝেমধ্যেই এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা সাধারণ মানুষের জীবনকে মুহূর্তের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দেয় (Monalisa Bhosle)। ঠিক তেমনই এক ঘটনা ঘিরে এখন চর্চার কেন্দ্রে মহাকুম্ভে ভাইরাল হওয়া তরুণী মোনালিসা ভোঁসলে। প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভ মেলায় পাথরের মালা বিক্রি করা এক সাধারণ কিশোরী থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার সেনসেশন তারপর প্রেম, পারিবারিক বিরোধ এবং শেষমেশ আন্তঃধর্মীয় বিয়ে সব মিলিয়ে যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানিয়েছে তাঁর জীবন।
এক সাধারণ মেয়ের অসাধারণ উত্থান (Monalisa Bhosle)
উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ-এ অনুষ্ঠিত মহাকুম্ভ মেলায় লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে পাথরের মালা বিক্রি করছিলেন মহারাষ্ট্রের খারগাঁওয়ের তরুণী মোনালিসা। তাঁর চোখের বিশেষ আকর্ষণীয় দৃষ্টি ও সরল হাসিই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে দেয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। মেলার ভিড়ের মধ্যে এক সাধারণ বিক্রেতার ভিডিও মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে। এরপরই তাঁকে “মহাকুম্ভের ভাইরাল গার্ল” বলা শুরু হয়। অনেকেই তাঁর সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বের তুলনা করেন সিনেমার অভিনেত্রীদের সঙ্গে। এই ভাইরাল হওয়াই যেন তাঁর ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দেয়। কয়েকটি আঞ্চলিক সিনেমা ও মডেলিংয়ের কাজের প্রস্তাবও আসে তাঁর কাছে।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই শুরু প্রেমের গল্প (Monalisa Bhosle)
এই জনপ্রিয়তার মাঝেই জীবনে প্রবেশ করেন অভিনেতা ও মডেল ফরমান খান। জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে দু’জনের আলাপ হয়। প্রথমদিকে কেবলমাত্র বন্ধুত্বপূর্ণ কথাবার্তা চললেও ধীরে ধীরে সম্পর্ক গভীর হতে শুরু করে। নিয়মিত কথা বলা, একে অপরের কাজের খোঁজ নেওয়া সব মিলিয়ে বন্ধুত্ব প্রেমে রূপ নেয়। ফরমানের কথায়, প্রথমে মোনালিসাই তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। যদিও সম্পর্কের শুরুতে তিনি কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের মধ্যে বিশ্বাস ও ভালোবাসা বাড়তে থাকে।
প্রেমের পথে ধর্মই বড় বাধা (Monalisa Bhosle)
যে কোনও আন্তঃধর্মীয় সম্পর্কের মতোই এই সম্পর্কের পথও ছিল সহজ নয়। মোনালিসার পরিবার, বিশেষ করে তাঁর বাবা বিজয় সিং ভোঁসলে, এই সম্পর্ক মেনে নিতে রাজি ছিলেন না। পরিবারের পক্ষ থেকে অন্য এক পাত্রের সঙ্গে মোনালিসার বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু মোনালিসা নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। তিনি জানান, তাঁকে জোর করে অন্যত্র বিয়ে দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে তিনি তাঁর প্রেমিক ফরমানকে নিয়ে কেরলের থাম্পানুর পুলিশ স্টেশন -এ পৌঁছন। সেখানে গিয়ে পরিবারের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বিয়ের অভিযোগ করেন।

আইনের আশ্রয়ে নিজের সিদ্ধান্ত (Monalisa Bhosle)
পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর পর মোনালিসার পরিবারকেও ডেকে পাঠানো হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় নিজের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার সম্পূর্ণ আইনি অধিকার তাঁর রয়েছে। এই ঘটনার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে পরিষ্কার হতে শুরু করে। নানা বিতর্ক, চাপ এবং পারিবারিক বিরোধের মধ্যেই শেষ পর্যন্ত মোনালিসা তাঁর পছন্দের মানুষ ফরমান খানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
‘লাভ জেহাদ’ বিতর্কে নতুন চর্চা (Monalisa Bhosle)
তবে তাঁদের বিয়ে প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। অনেকেই এই ঘটনাকে “লাভ জেহাদ” বলে উল্লেখ করতে শুরু করেন। এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখেন ফরমান খান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনও ধর্মীয় ষড়যন্ত্র নয়, বরং দু’জন মানুষের পারস্পরিক ভালোবাসা। ফরমান বলেন, “সব ধর্ম সমান। মোনালিসা তাঁর নিজের ধর্ম পালন করবেন, আমি আমার ধর্ম। আমরা সব ধর্মকে সম্মান করি। আমি মন্দিরেও যাই, আবার মসজিদেও যাই।”

আরও পড়ুন: CM Mamata Banerjee: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ফোনেই নতুন রাজ্যপালের নাম! কেন বিস্মিত মুখ্যমন্ত্রী?
কেরল—ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতীক?
ফরমান আরও বলেন, কেরলে ধর্মের বিভেদ তুলনামূলকভাবে কম। তাঁর মতে, সেখানে মানুষ মানুষকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। এই কারণেই তাঁরা কেরলে এসে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, “আমরা দু’জনেই শিল্পী। আমাদের কাছে মানুষই সবচেয়ে বড় পরিচয়।”



