Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অসমের সংগীতজগতে এক অনন্য নাম ছিলেন জুবিন গর্গ (Zubeen Garg)। তাঁর কণ্ঠ, সুর এবং ব্যক্তিত্ব বহু মানুষের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছিল। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর প্রায় ছয় মাস কেটে গেলেও সেই মৃত্যুর রহস্য আজও পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। তদন্ত চলছে, নানা জল্পনা-কল্পনা ঘুরে বেড়াচ্ছে জনমনে। এর মধ্যেই এক সাক্ষাৎকারে জ়ুবিনকে নিয়ে কিছু ব্যক্তিগত স্মৃতি এবং অনুভূতি ভাগ করে নিলেন তাঁর স্ত্রী গরিমা সাইকিয়া। সেই কথোপকথনে উঠে এসেছে শিল্পীর জীবনের এক অন্য দিক সময়ের প্রতি এক অদ্ভুত ভীতি।

রহস্যময় মৃত্যু ও চলমান তদন্ত (Zubeen Garg)
জ়ুবিন গর্গের মৃত্যুর ঘটনা সংগীতপ্রেমীদের কাছে এক গভীর ধাক্কা হয়ে এসেছিল। এত বড় একজন শিল্পীর অকাল প্রয়াণ স্বাভাবিকভাবেই অসংখ্য প্রশ্নের জন্ম দেয়। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হল, তার পেছনে কী কারণ ছিল এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত চললেও কবে এই রহস্যের সম্পূর্ণ সমাধান হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, এই ঘটনার পেছনে এমন কিছু দিক থাকতে পারে যা এখনও সামনে আসেনি।
সময়কে নিয়েই ছিল জ়ুবিনের ভয় (Zubeen Garg)
সাক্ষাৎকারে গরিমা শইকীয়ার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, জ়ুবিনের জীবনে কোনও বিশেষ ভয় ছিল কি না। উত্তরে তিনি জানান, জ়ুবিন সাধারণত কোনও কিছু নিয়েই ভয় পেতেন না। কিন্তু একটাই বিষয় তাঁকে ভাবাত সময়। গরিমার কথায়, জ়ুবিন প্রায়ই বলতেন, “আমি সময়কে ভয় পাই, আর অন্য কোনও কিছুকে নয়।” এই কথার অর্থ কী ছিল, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা গরিমার কাছেও নেই। তবে তাঁর ধারণা, জ়ুবিন হয়তো নিজের ভেতরে কোনও অদ্ভুত অনুভূতি বা ইঙ্গিত পেয়েছিলেন।

ঈশ্বর ও অন্তর্দৃষ্টির সম্ভাব্য যোগ (Zubeen Garg)
গরিমা আরও জানান, কখনও কখনও জ়ুবিনের কথাবার্তায় এমন একটা আভাস পাওয়া যেত, যেন তিনি কোনও গভীর আধ্যাত্মিক অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। হয়তো তিনি জীবনের অস্থায়িত্ব নিয়ে গভীরভাবে ভাবতেন। গরিমার মতে, জ়ুবিন হয়তো ঈশ্বর বা ভাগ্যের সঙ্গে কোনও অন্তর্গত সম্পর্ক অনুভব করেছিলেন। মানুষের জীবনে অনেক সময় এমন কিছু উপলব্ধি আসে যার সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়া কঠিন।
আরও পড়ুন: Rail Death AI: রেললাইনে বন্যপ্রাণীর মৃত্যু রোধ, AI ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রেলমন্ত্রকের
একের পর এক প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা
জ়ুবিনের এই মানসিক অবস্থার পেছনে একটি বড় কারণ হতে পারে তাঁর জীবনের ব্যক্তিগত ক্ষতি। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি হারিয়েছিলেন নিজের মা, বোন এবং এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে। এই ধারাবাহিক আঘাত একজন মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দিতে পারে। গরিমার মতে, এই ঘটনাগুলিই হয়তো সময় সম্পর্কে জ়ুবিনের মনে এক ধরনের অজানা আশঙ্কা তৈরি করেছিল। প্রিয়জনদের দ্রুত হারানোর অভিজ্ঞতা তাঁকে সময়ের অনিশ্চয়তা সম্পর্কে বেশি সচেতন করে তুলেছিল।



