Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাঞ্জাবের বারনালা জেলায় রান্নার গ্যাসের লাইনে দাঁড়িয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে (Lpg Gas)। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, দেশে গৃহস্থালীর এলপিজি সরবরাহে কোনও ঘাটতি নেই। কিন্তু বাস্তবে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা যেন ভিন্ন ছবিই তুলে ধরছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস সংগ্রহের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু নতুন করে সেই বিতর্ককে সামনে এনে দিয়েছে।

সংসদে দাবি বনাম বাস্তব পরিস্থিতি (Lpg Gas)
বৃহস্পতিবার সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানান, ভারতে গৃহস্থালীর রান্নার গ্যাসের সরবরাহে কোনও ঘাটতি নেই। তাঁর দাবি অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পর্যাপ্ত এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য কোনও সমস্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের অভিযোগ, বাস্তবে অনেক জায়গাতেই গ্যাস পেতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও সিলিন্ডার পাওয়ার জন্য টোকেন ব্যবস্থা চালু হয়েছে, যার ফলে অপেক্ষার সময় আরও বেড়ে যাচ্ছে।
বারনালায় লাইনে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু (Lpg Gas)
এই পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার পাঞ্জাবের বারনালা জেলায় ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম ভূষণকুমার মিত্তল (৬৬)। তিনি শেহনা ব্লকের একটি গ্যাস এজেন্সিতে রান্নার গ্যাস সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল প্রায় আটটা নাগাদ তিনি এজেন্সিতে পৌঁছন। সেখানে তাঁকে ২৫ নম্বর টোকেন দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন তিনি। টানা প্রায় দু’ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরে ক্লান্ত হয়ে তিনি একটি গ্যাস সিলিন্ডারের উপর বসে পড়েন। সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ হঠাৎ করেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত মানুষজন দ্রুত তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালে ‘ব্রট ডেড’ ঘোষণা (Lpg Gas)
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের অনুমান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।মৃতের ছেলে দেব রাজ জানিয়েছেন, ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তাঁর বাবার মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে।
রাজনৈতিক তরজা শুরু (Lpg Gas)
এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ভাদৌর কেন্দ্রের কংগ্রেস নেতা সুখবিন্দর সিং ধালিওয়ালএই মৃত্যুর জন্য সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করেছেন।ধালিওয়ালের বক্তব্য, সাধারণ মানুষকে যদি রান্নার গ্যাসের মতো মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়, তবে সেটি অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। তিনি আরও জানান, মৃত ভূষণকুমার মিত্তল পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন এবং কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালাতেন।তিনি কেন্দ্রীয় সরকার এবং পাঞ্জাব সরকারের কাছে মৃতের পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: Rail Death AI: রেললাইনে বন্যপ্রাণীর মৃত্যু রোধ, AI ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রেলমন্ত্রকের
প্রশাসনের নীরবতা
ঘটনার পরে বারনালা জেলার ডেপুটি কমিশনার হারপ্রীত সিং-এর কাছে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি জানান, একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ব্যস্ত থাকার কারণে এই মুহূর্তে তিনি এই বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না। প্রশাসনের এই নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।



