Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দুবাই বহুদিন ধরেই প্রবাসী ও পর্যটকদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সামরিক তৎপরতা সেই নিরাপত্তাবোধে ধাক্কা দিয়েছে। ড্রোন হামলার আশঙ্কা, আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী দুবাইয়ের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট বাতিল, ভাড়া বেড়ে যাওয়া এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে বহু পরিবার মানবিক সংকটে পড়েছে(Dubai Mother)।
মাকে বাঁচাতে লড়াই (Dubai Mother)
এই সংকটের মধ্যেই ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন তামিলনাড়ুর বাসিন্দা থিলাক্কুমার জলাথু অনিরুথ্ররাজ এবং তাঁর স্ত্রী শামিনি রমেশ। আট বছর আগে তারা দুবাইয়ে গিয়েছিলেন ভালো জীবনের আশায়। কিন্তু এখন থিলাক্কুমারের মাকে বাঁচাতে লড়াই করছেন তারা।
গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে আক্রান্ত
পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দুবাইয়ে এসে হঠাৎই গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে আক্রান্ত হন থিলাক্কুমারের মা। গত ৪০ দিন ধরে তিনি আইসিইউতে ভর্তি এবং ভেন্টিলেটরে রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, অন্তত আরও দুই মাস ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন হবে।
চিকিৎসার বিপুল খরচ
সমস্যা আরও বাড়িয়েছে চিকিৎসার বিপুল খরচ। প্রতিদিন হাসপাতালের বিল প্রায় ৩ লাখ টাকা, স্ক্যান বা বিশেষ চিকিৎসা তার বাইরে। ইতিমধ্যে মোট বিল পৌঁছে গেছে প্রায় ১.২৫ কোটি টাকায়, আর প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ টাকা করে বাড়ছে। একজন বেতনভুক কর্মীর পক্ষে এই খরচ বহন করা প্রায় অসম্ভব।
ভারতে ফেরানোর পরিকল্পনা ব্যর্থ (Dubai Mother)
অবশেষে পরিবারটি সিদ্ধান্ত নেয়, তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে এনে চিকিৎসা চালানো হবে, কারণ সেখানে খরচ তুলনামূলক কম। মার্চের ৪ তারিখ একটি মেডিক্যাল এসকর্টসহ বাণিজ্যিক ফ্লাইটে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, যার খরচ প্রায় ৭ লাখ টাকা। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: Priyanka Nick: অস্কারের মঞ্চে ফের প্রিয়াঙ্কা: প্রি-ইভেন্ট ডিনারে নজরকাড়া লুকে মাতালেন নিকের সঙ্গে
মাকে বাঁচাতে মরিয়া (Dubai Mother)
এখন একমাত্র উপায় এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স। কিন্তু সংঘাতের কারণে তার খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। এত টাকা জোগাড় করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। হাসপাতাল থেকে কিছু ছাড় মিললেও তা ১০-১৫ লাখ টাকার বেশি হবে না। দম্পতি এখন দুবাইয়ের বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার কাছে সাহায্য চাইছেন। একই সঙ্গে তারা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স পাওয়া-ও খুব কঠিন। সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে, আর মাকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন থিলাক্কুমার ও শামিনি।



