Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুইস অভিজ্ঞতার সঙ্গে শেষ মিনিট পর্যন্ত জোর লড়াই করে ম্যাচ ড্র করল কাতারের তরুণ স্বপ্ন সন্ধানীরা (Qatar vs Switzerland)।
টানটান ম্যাচ শেষ হল ড্র হয়ে (Qatar vs Switzerland)
বিশ্বকাপের শুরুর সময় থেকেই সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। ভারতের মধ্যরাত যেন এখন সবে সকাল ফুটবলপ্রেমীদের কাছে। খেলা দেখার সঙ্গে সঙ্গে পাড়ায় পাড়ায় ভেসে আসছে গর্জন তাঁদের প্রিয় দলের হয়ে। মাঠের একই উন্মাদনা যেন চেপে বসেছে ভারতের বুকে। সেই আবহেই বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে লিভিস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল কাতার ও সুইজারল্যান্ড (Qatar vs Switzerland)।
২০২২ সালে আয়োজক দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে আত্মপ্রকাশ করে কাতার। এবার তবে যোগ্যতা পর্বে রীতিমত পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে প্রবেশ করেছে বিশ্বযুদ্ধের মূল পর্বে। অন্যদিকে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। ইউরোপের অন্যতম ধারাবাহিক দলগুলির মধ্যে অন্যতম। অভিজ্ঞতার দিক থেকেও এগিয়ে সুইসরা (Qatar vs Switzerland)।
আরও পড়ুন: Jaishankar Mao: ‘মাও সিনড্রোম’: কেন পশ্চিমী বিশ্ব বারবার একই ভুল করে? প্রশ্ন জয়শঙ্করের
এই মুহূর্তে ভারতের সময়ের সঙ্গে বিশ্বকাপের আসর বসা তিন দেশের সময়ের পার্থক্য অনেকটাই। ভারতীয় সময়ে এখন মাঝ রাত। এই প্রতিবেদন লেখার সময় মালুম হচ্ছে না ঘড়ির কাঁটা তিন পার করতে চলেছে আর এই ঘড়ির জন্য বিখ্যাত সুইজারল্যান্ড। তবে সেই ঘড়ির কাঁটা কাতারের তরুণ রূপকথার থেকে এগিয়ে থাকতে পারল না নিজেদের প্রথম সাক্ষাতে (Qatar vs Switzerland)।
শুক্রবার থেকে উইকেন্ড শুরু হয়ে গেছে। তবে ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই রুটিনের পরিবর্তন। অফিস থেকে স্কুল, সব জায়গায় লেট, চোখে মুখে ঘুমের ছাপ কিন্তু তাতে কিছুই যায় আসে না। প্ৰিয় দলের হয়ে গলা ফাটাতে সমর্থকদের কোনও কষ্ট নেই।
উইকেন্ড যদি হয় এমন দুই দলের খেলার সঙ্গে যেখান শেষ মিনিট পর্যন্ত ‘কী হয়, কী হয়’ ভাব তাহলে বোধহয় সেই উন্মাদনা বেড়ে হয় দ্বিগুণ। কাতার এবং সুইজারল্যান্ড একে অপরের মুখোমুখি হওয়ায় এমনই একটা ম্যাচের সাক্ষী থাকল দর্শকরা। দুই দলই গ্রুপ পর্বে নিজেদের ছাপ ফেলার আপ্রাণ লড়াই চালিয়ে গেল।
খেলার শুরু থেকেই আক্রমণ গড়ে তোলেন সুইস প্লেয়াররা। নিজেদের সৃজনশীল আক্রমণ আর নান্দনিক পাস দিয়ে কাতারের রক্ষণ ভাঙতে সক্ষম হয় খেলার শুরুর মুহূর্তেই। এনডোয়ে উইং ধরে উঠে জোরালো শট নিলে সেই শট সেভ করে দেন আবুনাদা।
দশ মিনিটের মাথায় আবার জোরালো আক্রমণ গড়ে তোলে এনডোয়ে এবং সুযোগও আসে গোল করার তবে সেই সুযোগও নষ্ট হয়। পরপর আক্রমণে নাস্তানাবুদ হতে থাকে কাতারের রক্ষণ বিভাগ। ১২ মিনিটের মাথায় প্রায় পার্থক্য গড়ে দিয়েছিল সুইসরা তবে ভাগ্যের পরিহাসে সেটাও সম্ভব হল না
একটি ফ্রি-কিক থেকে দান এনদোয়ে পেনাল্টি এরিয়ায় একটি ক্রস দেন, যা কাতারের গোলপোস্টকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়। আকানজি প্রায় ৮ মিটার দূর থেকে শট নিতে ছুটে আসেন, কিন্তু আবুনাদা দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বলটি বাঁচিয়ে দেন।
তবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আসে ১৭তম মিনিটে। এমবোলো সফলভাবে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। সেই সময় সমর্থকরা ফেটে পড়েন আনন্দে। আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে তাঁদের গর্জন তখন শোনা যাচ্ছে ভারতের বুকে। প্রথম অর্ধে আর তেমন কোনও পরিবর্তন হয়নি।
তবে দ্বিতীয় অর্ধে ধীরে ধীরে ছবিটা বদলাতে থাকে। সুইস অভিজ্ঞতার চোখে চোখ রেখে আক্রমণ গড়তে থাকেন কাতারের প্লেয়াররা। তবে সেই আক্রমণও বারবার প্রতিহত করতে থাকেন সুইস রক্ষণ বিভাগ। অবশেষে শেষ অতিরিক্ত মিনিটে খেলা এসে পৌঁছায় আর ততক্ষণে মন প্রায় ভাঙতে বসেছে কাতার সমর্থকদের। কিন্তু, হ্যাঁ আবার সেই কিন্তুর অবতারণ। বারবার যা বলে যে পৃথিবীতে ধ্রুবক পাল্টে যেতে সময় লাগে না। যখন মনে হচ্ছে নিজেদের প্রথম ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে চলেছে কাতার সেই সময়েই কাতারের গোলটা আসে বি খৌখি-র বুট থেকে। টানটান এই থ্রিলার যেন হার মানাবে বিশ্বমানের চিত্রনাট্যকে। টানটান এই ম্যাচও শেষ হল অমীমাংসিত অবস্থায় (Qatar vs Switzerland)।


