Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কন্নড় ছবি ‘কেডি: দ্য ডেভিল’-এর আইটেম গান ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে (KD Song Row), তা এখন আর শুধু বিনোদন জগতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং তা পৌঁছে গিয়েছে সংসদ, কমিশন এবং আইনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। নাচ, গানের ভাষা এবং তার উপস্থাপনা নিয়ে সমাজে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বিনোদনের সীমা কোথায় শেষ, আর অশ্লীলতার শুরু কোথায়?

‘সারকে চুনার তেরি সারকে’ (KD Song Row)
গানটির লিরিকস ও দৃশ্যায়ন নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠার পর বিষয়টি পৌঁছে যায় সংসদ পর্যন্ত। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব গানটিকে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করেন। এর আগেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নোটিস পাঠিয়েছিল নির্মাতাদের। এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে জাতীয় মহিলা কমিশন তলব করেছে অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি ও অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত-কে। অভিযোগ গানের অশ্লীল শব্দচয়ন ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি ভারতীয় আইনের একাধিক ধারার লঙ্ঘন করছে, যার মধ্যে রয়েছে তথ্য প্রযুক্তি আইন এবং পকসো।
‘অশ্লীলতা’ না ‘বিনোদন’? (KD Song Row)
‘পহেলে উঠালে, আন্দার ভো ডালে’ বা ‘চুসেগা ইয়া চাটেগা’ এই ধরনের দ্ব্যর্থবোধক শব্দগুচ্ছ নিয়ে শ্রোতাদের একাংশের ক্ষোভ তীব্র। তাঁদের মতে, এই ধরনের গান শুধু কুরুচিকরই নয়, সমাজে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, বিনোদন জগতের একাংশের যুক্তি এগুলি মূলত “মাস এন্টারটেইনমেন্ট”, যেখানে দর্শক টানাই প্রধান লক্ষ্য। ফলে চটুলতা ও বোল্ড উপস্থাপনাকে তারা শিল্পের অংশ হিসেবেই দেখেন।
নারীদেহ কি পণ্য? (KD Song Row)
এই বিতর্কে শুধুমাত্র গানের কথা নয়, দৃশ্যায়নও বড় বিষয় হয়ে উঠেছে। নোরা ফাতেহি-র নাচের ভঙ্গিমা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তাঁদের অভিযোগ নারীর শরীরকে অতিরিক্তভাবে যৌনায়িত করে দেখানো হচ্ছে, যা সমাজে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিতর্ক আর বাদশা (KD Song Row)
ভারতীয় পপ ও র্যাপ মিউজিক জগতে বাদশা-র নামও বারবার বিতর্কে জড়িয়েছে। ‘টাটিরি’ গানের দৃশ্যায়নে স্কুলছাত্রীদের আপত্তিকরভাবে উপস্থাপন করা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। এর আগেও বাংলার লোকশিল্পী রতন কাহার-এর বিখ্যাত গান ‘বড়লোকের বেটি লো’-র রিমেক করে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। অনেকের মতে, লোকসংস্কৃতিকে বিকৃত করে বাজারমুখী করার প্রবণতা বাড়ছে।

আরও পড়ুন: Humayun Kabir: বড় দলগুলোর মাঝে হুমায়ূনের ‘আম জনতা’, গেমচেঞ্জার হতে পারবে
পুরনো বিতর্কের নতুন ছায়া
একইভাবে ইয়ো ইয়ো হানি সিং-ও একাধিকবার এমন অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছেন। তাঁর ‘নাগান’ গানটি যৌন উত্তেজক শব্দ ও দৃশ্যায়নের জন্য সমালোচিত হয়। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর পর্যন্ত দায়ের হয়েছিল। সমালোচকদের মতে, এই ধরনের গান তরুণদের মধ্যে ভুল বার্তা দিতে পারে এবং সামাজিক মূল্যবোধকে আঘাত করতে পারে।



