Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এক বৃদ্ধ দম্পতির (Maintenance Law Ruling) জীবনে একমাত্র ভরসা ছিল তাঁদের ছেলে। কিন্তু তাঁর অকালমৃত্যুর পর শুরু হয় অসহায়তার লড়াই। আশ্রয়ের শেষ আলো হিসেবে যাঁকে ভেবেছিলেন সেই বউমার কাছ থেকেই ভরণপোষণের দাবি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁরা। কিন্তু শেষমেশ আইনের কঠোর বাস্তবই সামনে এল। এলাহাবাদ হাই কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, নৈতিকতার ভিত্তিতে কাউকে আইনি দায়ে বাধ্য করা যায় না।
বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির দাবি (Maintenance Law Ruling)
ঘটনার সূত্রপাত উত্তর প্রদেশ পুলিশ-এর এক (Maintenance Law Ruling) কনস্টেবলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। ২০১৬ সালে বিয়ে, ২০২১ সালে মৃত্যু। এরপর তাঁর স্ত্রী চাকরি ও কিছু সরকারি সুবিধা পান। বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির দাবি ছিল, তাঁদের ছেলে পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন, তাই তাঁর মৃত্যুর পর বউমারই দায়িত্ব তাঁদের দেখভাল করা।
আইন কী বলছে? (Maintenance Law Ruling)
প্রথমে তাঁরা ফ্যামিলি কোর্ট-এ আবেদন (Maintenance Law Ruling) করেন। কিন্তু সেখানেই তাঁদের দাবি খারিজ হয়ে যায়। এরপর সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যান তাঁরা। বৃদ্ধ দম্পতির আইনজীবী যুক্তি দেন, তাঁরা নিরক্ষর ও সম্পূর্ণভাবে ছেলের আয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, তাই বউমার দায়িত্ব নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, বউমার পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইন অনুযায়ী এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।

ভরণপোষণের অধিকার
রায় ঘোষণার সময় আদালত জানায়, সংশ্লিষ্ট আইনে ‘স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মা’-কে ভরণপোষণের অধিকার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শ্বশুর-শাশুড়ির নাম সেই তালিকায় নেই। ফলে আইনগতভাবে বউমার ওপর এই দায় চাপানো সম্ভব নয়। বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, নীতি-নৈতিকতার জায়গা থাকলেও, তা আইনের বিকল্প হতে পারে না।
আরও পড়ুন: Pakistan Gas Pipeline Burst: পাকিস্তানে গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণ, গ্যাস সরবরাহ বন্ধে চরম দুর্ভোগ!
বৃদ্ধ দম্পতির আবেদন খারিজ
আদালত আরও জানায়, বউমা স্বামীর মৃত্যুর পর সহানুভূতিভিত্তিক চাকরি পেয়েছেন-এমন কোনও প্রমাণও নেই। ফলে তাঁকে আলাদাভাবে ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে বাধ্য করা যায় না। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায়ই বহাল রাখে এবং বৃদ্ধ দম্পতির আবেদন খারিজ করে দেয়।


