Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভোটমুখী বাংলায় সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি নতুন কিছু নয়, তবে এবার বর্ধমানের মেমারিতে তৃণমূলের এক মহিলা নেত্রীর মন্তব্য ঘিরে শোরগোল রাজ্য রাজনীতিতে (BJP)। মেমারি ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল মহিলা সভানেত্রী গীতা দাসের সাফ হুঁশিয়ারি, ‘যাদের বাড়ির দেওয়ালে বিজেপির পদ্ম প্রতীক আঁকা আছে, তারা যদি তা মুছে না ফেলে, তবে তাদের বাড়ির লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

মিলবে না লক্ষ্মীর ভাণ্ডার? (BJP)
সম্প্রতি মেমারি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী রাসবিহারী হালদারের সমর্থনে একটি নির্বাচনী সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল অভিনেতা তথা সাংসদ দেবের। দেব সভায় পৌঁছানোর আগে কর্মীদের চাঙ্গা করতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেমারি ১ নম্বর ব্লকের মহিলা সভানেত্রী গীতা দাস মেজাজ হারান। তিনি অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছে, আবার দেওয়ালে পদ্মফুল আঁকতে দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: EC Development: নির্বাচন কমিশনের একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা: থমকে গেল উন্নয়নের কাজ
তিনি প্রকাশ্য সভা থেকে বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিন্দে করছিস, তোদের লজ্জা হওয়া উচিত। মোদির কাছ থেকে মদ-মাংস খাওয়ার টাকা নিচ্ছিস আর দেওয়ালে পদ্মফুল আঁকছিস! বিজেপি ভোট চাইতে এলে ঝাঁটা নিয়ে তাড়া করবেন।’

তৃণমূল নেত্রীর এই মন্তব্যের পরই সরব হয়েছে বিজেপি ও সিপিআইএম। মেমারির বিজেপি প্রার্থী মানব গুহ পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ‘পায়ের তলায় মাটি নেই বলেই এই ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মানুষ ব্যালট বক্সে এই ঔদ্ধত্যের জবাব দেবে। সরকার পরিবর্তন হলে এই সব নেতাদের দেখে নেওয়া হবে।’ অন্যদিকে, সিপিআইএম প্রার্থী কৃশানু ভদ্র বিষয়টিকে গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, চাকরি চোররা এখন সরকারি প্রকল্প থেকে মানুষকে বঞ্চিত করার ভয় দেখাচ্ছে, যা চূড়ান্ত অনৈতিক।
অনড় তৃণমূল নেত্রী (BJP)
বিতর্ক শুরু হলেও নিজের বক্তব্যে অনড় গীতা দাস। তাঁর যুক্তি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ফর্ম তৃণমূলের কর্মীরাই ফিলাপ করে দিয়েছেন, বিজেপি বা সিপিআইএম কাউকে তখন দেখা যায়নি। তাই যারা সরকারি সুবিধা নিচ্ছেন, তারা কেন বিরোধী দলের প্রতীক দেওয়ালে আঁকতে দেবেন? তাঁর সাফ কথা, ‘যদি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বজায় রাখতে চাও, তবে পদ্মফুলে যাবে না এবং দেওয়ালে পদ্ম আঁকতে দেবে না।’

মনোনয়ন পর্বের আবহে মেমারির এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী চাপানউতোর এখন চরম পর্যায়ে। এখন দেখার, এই ‘হুমকি’ ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে।



