Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উত্তর-পূর্ব ভারতের অশান্ত প্রদেশ মণিপুর আবারও হিংসার আগুনে জ্বলছে (Manipur) । সাম্প্রতিক এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ শুধু একটি পরিবারকেই নয়, গোটা অঞ্চলের মানসিক শান্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বিভিন্ন জেলায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

মুহূর্তেই শেষ দুই নিষ্পাপ প্রাণ (Manipur)
ঘটনাস্থল মৈরাং-এর ট্রোংলাওবি এলাকায় মধ্যরাতে ঘটে যায় এই ভয়ঙ্কর হামলা (Manipur)। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা একটি বাড়ি লক্ষ্য করে রকেট নিক্ষেপ করে। সেই বাড়িটি ছিল এক বিএসএফ জওয়ানের। ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা পরিবারের ওপর এই আক্রমণ যেন এক দুঃস্বপ্ন। বিস্ফোরণের অভিঘাতে মৃত্যু হয় মাত্র পাঁচ বছরের এক শিশু এবং ছয় মাসের এক নবজাতকের। গুরুতর আহত হন তাঁদের মা। ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারকে শোকস্তব্ধ করেনি, বরং মানবিকতার প্রশ্নও তুলেছে।
রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ (Manipur)
এই নির্মম ঘটনার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। ট্রোংলাওবি এলাকা সংলগ্ন সিআরপিএফ ক্যাম্পে আক্রমণ চালানো হয়। ভাঙচুর, আগুন লাগানো সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মৈরাং থানার সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। শোনা যায় গুলির আওয়াজও। এই সংঘর্ষে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ইন্টারনেট বন্ধ, কারফিউ জারি (Manipur)
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পূর্ব ইম্ফল, পশ্চিম ইম্ফল, বিষ্ণুপুর, কাকচিং এবং থৌবল এই পাঁচ জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা তিন দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়াও বিষ্ণুপুর জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি আরও অবনতি না ঘটে।
‘শান্তি নষ্টের চক্রান্ত’ (Manipur)
মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী খেমাচন্দ সিং এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি ইম্ফল-এর হাসপাতালে গিয়ে আহত মায়ের সঙ্গে দেখা করেন। তার বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এটি একটি বর্বরোচিত হামলা। মণিপুরের শান্তি নষ্ট করার গভীর ষড়যন্ত্র। দোষীদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।”
আরও পড়ুন: IIT Baba: সরল জীবনেই মুগ্ধ সঙ্গিনী, সন্ন্যাস ছেড়ে বিয়ে করলেন আইআইটি বাবা!
প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে মণিপুর এখনও অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিচ্ছিন্নতাবাদ, জাতিগত সংঘাত এবং সন্ত্রাসবাদ এই সবকিছুর জটিল মিশ্রণে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, নিরীহ সাধারণ মানুষ বিশেষ করে শিশু এই হিংসার শিকার হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, কবে থামবে এই রক্তপাত? কবে ফিরবে শান্তি?



