Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আর্টেমিস–২ মিশনের মহাকাশচারীরা সফল চন্দ্রযাত্রা শেষে এখন পৃথিবীতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চারজনের এই দলটি পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ ৪,০৬,৭৭১ কিলোমিটার দূরত্বে পৌঁছে মানব ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছে। প্রায় দশ দিনের এই অভিযানের শেষ ধাপ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ, যা ১০ এপ্রিল (স্থানীয় সময়) রাত প্রায় ৮টার দিকে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলবর্তী প্রশান্ত মহাসাগরে স্প্ল্যাশডাউনের মাধ্যমে শেষ হবে(Artemis II Mission)।
নিরাপদে অবতরণ গুরুত্বপূর্ণ (Artemis II Mission)
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় ওরিয়ন ক্যাপসুলের গতি থাকবে প্রায় ১১ কিমি/সেকেন্ড (৪০,০০০ কিমি/ঘণ্টা), যা একটি যাত্রীবাহী বিমানের চেয়ে প্রায় ৪০ গুণ বেশি। এই বিপুল গতির কারণে ক্যাপসুলে বিপুল গতিশক্তি থাকে, যা কমিয়ে নিরাপদ অবতরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নামার সময় তীব্র চাপ
পুনঃপ্রবেশের সময় বায়ুর ঘর্ষণকে কাজে লাগিয়ে ক্যাপসুল ধীরে ধীরে গতি কমায়। এই প্রক্রিয়ায় মহাকাশচারীরা কয়েক ‘জি’ মাত্রার তীব্র চাপ অনুভব করেন। তবে মানব সহনশীলতার মধ্যে রাখতে ওরিয়ন ক্যাপসুল বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে এই ধাক্কা কমানো যায়।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তাপ
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল তাপ। পুনঃপ্রবেশের সময় ক্যাপসুলের চারপাশে বায়ুর তাপমাত্রা ১০,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার দ্বিগুণের কাছাকাছি। এই তাপে বায়ু প্লাজমায় পরিণত হয়, ফলে কিছু সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে।
মহাকাশচারীদের সুরক্ষায় AVCOAT (Artemis II Mission)
মহাকাশচারীদের সুরক্ষায় ব্যবহৃত হয় বিশেষ তাপ-রোধী আবরণ বা হিট শিল্ড, যার নাম AVCOAT। এটি অ্যাপোলো মিশনেও ব্যবহৃত হয়েছিল। এই উপাদান তাপ শোষণ করে এবং ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে ক্যাপসুলকে ঠান্ডা রাখে।
আরও পড়ুন: Iran US War: কবে স্বাভাবিক হবে তেল গ্যাসের দাম? যুদ্ধবিরতির পর উঠছে প্রশ্ন
ঝুঁকি রয়ে গেছে (Artemis II Mission)
আর্টেমিস–১ মিশনে হিট শিল্ডের কিছু অংশ খসে পড়ার পর এবার পথ সামান্য পরিবর্তন করা হয়েছে। তবুও ঝুঁকি রয়ে গেছে। তাই নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন সবাই।



