Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মানুষের জীবনে বিয়ে একটি প্রাচীন ও বহুল প্রচলিত সামাজিক প্রতিষ্ঠান (Marriage)। তবে এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে মতভেদও কম নয়। কেউ মনে করেন বিয়ে মানেই স্থিতি, নিরাপত্তা ও পূর্ণতা আবার কেউ মনে করেন এটি ব্যক্তিস্বাধীনতার পথে অন্তরায়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বিয়ে শুধু সামাজিক বা মানসিক নয়, শারীরিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব (Marriage)
বিয়ে মানুষের জীবনে একটি স্থায়ী সহচর এনে দেয়। একাকীত্ব কমিয়ে মানসিক স্থিতি তৈরি করে। অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে অনেক সময় সামাজিক বিচ্ছিন্নতা দেখা যায়, যা ডিপ্রেশন বা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। অপরদিকে, বিবাহিত জীবনে সঙ্গীর উপস্থিতি মানসিক সমর্থন জোগায়, যা কঠিন সময় মোকাবিলায় সহায়ক।

জীবনযাত্রার পরিবর্তন (Marriage)
গবেষণায় দেখা গেছে, বিবাহিত ব্যক্তিরা সাধারণত নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করেন। তাঁদের খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের রুটিন ও দৈনন্দিন কাজের মধ্যে একটি শৃঙ্খলা থাকে। সঙ্গীর উপস্থিতি তাঁদের স্বাস্থ্য নিয়ে আরও সচেতন করে তোলে। অন্যদিকে, অবিবাহিতদের মধ্যে অনেক সময় অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত ধূমপান বা মদ্যপানের প্রবণতা বেশি দেখা যায় যা দীর্ঘমেয়াদে নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
গবেষণার চমকপ্রদ তথ্য (Marriage)
‘ক্যান্সার রিসার্চ কমিউনিকেশনস’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, অবিবাহিতদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। অবিবাহিত পুরুষদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি প্রায় ৬৮% বেশি অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ৮৩% বেশি বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মূল কারণ হলো বিবাহিতরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান এবং সামান্য অসুস্থতাকেও গুরুত্ব দেন। ফলে রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা সহজ হয়।
নারীরা কি বেশি উপকৃত? (Marriage)
পূর্ববর্তী অনেক গবেষণায় বলা হয়েছিল, বিয়ে থেকে পুরুষরা বেশি উপকৃত হন। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে, নারীরাও এই বন্ধন থেকে সমান, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বেশি সুরক্ষা পান। বিশেষ করে স্বাস্থ্য সচেতনতা, নিয়মিত চিকিৎসা এবং মানসিক সমর্থনের দিক থেকে নারীদের জীবনে বিয়ের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

আরও পড়ুন: Matua: শাহকে রুটি-পায়েস খাইয়েও স্বপ্নভঙ্গ! সেই নবীন বিশ্বাসই এবার তৃণমূলের মিছিলে
সমালোচনার জায়গাও রয়েছে
তবে বিয়ের সব দিকই যে ইতিবাচক, তা নয়। অসুখী দাম্পত্য জীবন মানসিক চাপ বাড়াতে পারে, পারিবারিক দ্বন্দ্ব শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে তাই শুধুমাত্র সামাজিক চাপ বা প্রথার কারণে বিয়ে করা সবসময় যুক্তিযুক্ত নয়।



