Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সমোসা বা সিঙাড়া। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড। কিন্তু এর ইতিহাসও কিন্তু চমকপ্রদ। আমরা যেভাবে সমোসাকে চিনি, তা কিন্তু সবসময় এমন ছিল না। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি ভাইরাল পোস্ট এই জনপ্রিয় খাবারটির প্রাচীন রূপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা সামনে এনেছে(Potato Samosa)।
সমোসার অন্য রেসিপি (Potato Samosa)
পোস্টটিতে দাবি করা হয়েছে, প্রায় ৫০০ বছর পুরনো একটি পার্সিয়ান পাণ্ডুলিপি ‘নিমতনামা’ (Ni’matnama) থেকে সমোসার এক ভিন্ন রেসিপি পাওয়া গেছে। ১৫০১ থেকে ১৫১০ সালের মধ্যে মাণ্ডুর সুলতানের জন্য এই গ্রন্থটি সংকলিত হয়েছিল। পরে এটি আকবর ও টিপু সুলতানের হাত ঘুরে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে যায় এবং বর্তমানে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত।
আলু ছাড়া সমোসা
আলু ছাড়া সমোসা ভাবাই যায় না। অথচ প্রাচীন সমোসা আজকের আলুর সমোসার মত ছিল না। এতে ব্যবহার হত ভাজা বেগুনের শাঁস, কিমা করা মাংস, পেঁয়াজ-রসুন এবং শুকনো আদা। সবকিছু ঘিয়ে ভাজা হত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এতে না ছিল আলু না ছিল লঙ্কা। কারণ এই উপাদানগুলো তখনও ভারতে আসেনি।

মাংস, ডাল আর বাদামে তৈরি খাবার
ইতিহাস বলছে, আলু ও লঙ্কা ১৬শ শতকে পর্তুগিজদের মাধ্যমে ভারতে আসে। তার আগে ‘সাম্বুসাক’ বা ‘সানবুসাক’ নামে পরিচিত এই খাবারে মাংস, ডাল বা বাদাম ব্যবহার করা হত। মুঘল দরবারে এই পদটি ছিল এক ধরনের বিলাসবহুল খাবার, যেখানে মিষ্টি ও নোনতার মিশেল দেখা যেত।

যব তক রহেগা সমোসে মে আলু (Potato Samosa)…
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমোসার রূপ বদলেছে। মাংসের জায়গায় সস্তা ও সহজলভ্য আলু জায়গা করে নেয়। বিভিন্ন অঞ্চলের মশলা যোগ হয়ে এটি হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের প্রিয় খাবার চায়ের সঙ্গে একেবারে অবিচ্ছেদ্য।

রাজপথ থেকে গলিতে (Potato Samosa)
এই ভাইরাল পোস্ট নিয়ে বিতর্ক থাকলেও একটি বিষয় পরিষ্কার খাবারের ইতিহাস কখনও স্থির নয়। সমোসার যাত্রা রাজকীয় রান্নাঘর থেকে রাস্তার দোকান পর্যন্ত, আসলে সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের মেলবন্ধনের এক অনন্য উদাহরণ।



