Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইডেনে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে চলতি আইপিএল-এ তিন নম্বর ম্যাচ হেরে সমালোচনার মুখে নাইট শিবির (KKR vs LSG)।
জেতা ম্যাচ হেরে লজ্জার নজির কলকাতার (KKR vs LSG)
প্রাচীন গন্ধের খোঁজে যেতে চাইলে আপনার মাথায় প্রথমেই আসতে পারে লখনউয়ের নাম। তবে প্রাচীন গন্ধ আর নস্টালজিয়া ছড়িয়ে রয়েছে কলকাতার অলিতে-গলিতেও। একদিকে নবাবি খানা-পিনা আর অন্যদিকে মাছ মিষ্টি অ্যান্ড মোর। আর এই নবাবি বিরিয়ানির কাছে হার মানলো মাছ মিষ্টি অ্যান্ড মোর। ইডেনে আবার সেই প্রবাদ সত্যি হলো ‘মুস্কুরাইয়ে আপ লখনউমে হ্যায়’। কারণ নাইট বাহিনীকে উড়িয়ে ম্যাচ জেতার পর সমর্থকদের মুখে হাসি তো ফুটবেই (KKR vs LSG)
কথিত আছে লখনউয়ের ভুল-ভুলাইয়া যা কিনা গোলোকধাঁধা নামেও পরিচিত সেখানে কেউ একা ঢুকে বেরিয়ে আসতে পারে না। ক্রিকেটের নন্দন-কাননে সেই ভুল-ভুলাইয়ার নাম মুকুল আর একা হাতে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন এই তরুণ তারকা।

নাইট শিবিরের হয়ে ওপেন করতে নামেন রাহানে এবং ফিন অ্যালেন। কিন্তু এই ম্যাচেও শুরুটা মোটেও ভাল হয়নি কেকেআর-এর। ৮ বলে ৯ রান করে আউট হন ফিন অ্যালেন। এই ম্যাচেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন তিনি। বড় শট খেলতে গিয়ে প্রিন্স যাদবের বলে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ নেন দিগ্বেশ রাঠি। তবে এই ক্যাচ নিয়ে কিছুটা বিতর্ক সৃষ্টিও হয়েছে। সমর্থকদের অনেকেরই বারবার দেখার পর মনে হয়েছে বাউন্ডারি লাইনে হালকা স্পাইক দেখা গিয়েছে অর্থাৎ খুব সামান্য হলেও মনে হচ্ছিল পা ছুঁয়েছে কিন্তু তাঁকে আউট ঘোষণা করা হয় (KKR vs SRH)।

তবে এরপর কিছুটা খেলার হাল ধরেন অজিঙ্ক রাহানে ও অঙ্গকৃষ রঘুবংশী। পাওয়ার প্লে-তে উইকেট না পেলেও নজর করেন সামি। দুই ওভার বল করে খরচ করেন মাত্র ১১ রান। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে স্কোর বোর্ড এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজটা করতে থাকেন রাহানে এবং রঘুবংশী। ১৫ রানে এক উইকেট থেকে দুজনে রান নিয়ে যান ৯৯ পর্যন্ত। সেই সময়ে দিগ্বেশ রাঠির বলে আউট হন রাহানে। দলের অধিনায়ক ফেরেন ২৪ বলে ৪১ রান করে। ভাল ব্যাট করছিলেন রঘুবংশী। পেস বোলিংয়ের বিরুদ্ধে রুম বানিয়ে বড় শটও খেলতে দেখা যায় তাঁকে। তাঁর ব্যাটে লফ্টেড শট, চিপ শট আসতে থাকে আর যখন মনে হতে থাকে যে তিনি সেট হয়ে গিয়েছেন সেই সময়ে উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসেন। মণিমরনের বলে ৩৩ বলে ৪৫ রান করে ফায়ার যান ড্রেসিং রুমে।

আরও পড়ুন: Raka Allu Arjun: ‘রাকা’-র প্রথম লুকেই ঝড় আল্লু অর্জুনের, উচ্ছ্বাস শাহরুখ, অ্যাট লির
এরপর তখন ক্রিজে গ্রিন এবং রিঙ্কু সিং। আবারও এই ম্যাচে ব্যর্থ হলেন রিঙ্কু। কঠিন সময়ে দলকে ভরসা জোগাতে পারলেন না তিনি। মাত্র ৪ রানে তাঁকে ফিরিয়ে দেন আবেশ খান (KKR vs LSG)। ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৮১ রান তুলল কলকাতা নাইট রাইডার্স।

লখনৌ সুপার জায়ান্টসের হয়ে ওপেনে নামেন মিচেল মার্শ ও এইডেন মারক্রাম। বৈভব নিজের দ্বিতীয় ওভারেই ফেরালেন এইডেন মার্করামকে। ২২ রান করে ফেরেন মার্করাম। তবু নাইটদের ‘বৈভব’ লাভ হলো না।
ঋষভ পন্থ আউট হলেও খেলার হাল ধরেন আয়ুষ বাদোনি। ৩৪ বলে ৫৪ করে আউট হলে যখন মনে হয় ম্যাচ হয়ত কলকাতার পক্ষে সেই সময় ইডেনের আকাশে ঝড় হয়ে তাণ্ডব চালান মুকুল চৌধরী। একের পর এক বল তখন গিয়ে পড়ছে গ্যালারিতে। ইডেন থেকেই টেক অফ নিলো LSG-র। একা হাতে দলকে ম্যাচ জিতিয়ে ফিরলেন এই প্রতিভা। ঝড়ের পূর্বাভাস ছিলই কিন্তু সেই ঝড়ের নাম ছিল অজানা। ম্যাচ শেষে এই ঝড়ের নাম জানা গেল, ঝড়ের নাম মুকুল।
মুকুলের ৫৪ রানের ইনিংস সারাজীবন মনে থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের। জেতা ম্যাচ হাতছাড়া করে এসে তীব্র সমালোচনার মুখে নাইট শিবির। এই ম্যাচেও কেকেআর সমর্থকরা আবার হতাশ হলেন। এখন দেখার এই মরশুমে আদেও জয় পায় কিনা কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR vs LSG)।


