Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্ত্তী: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বালিগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে (Rohan Mitra)। এই কেন্দ্র ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং প্রভাবশালী হওয়ায় এখানে লড়াই সবসময়ই তাৎপর্যপূর্ণ। এবারে সেই লড়াই আরও জটিল, কারণ একাধিক শক্তিশালী দলের উপস্থিতিতে তৈরি হয়েছে চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এই প্রেক্ষাপটে কংগ্রেসের তরুণ মুখ রোহন মিত্রের বক্তব্য রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক চিত্রকে নতুন করে ভাবার সুযোগ দেয়।
কঠিন লড়াইয়ের কংগ্রেসের অবস্থান (Rohan Mitra)
রোহন মিত্র তাঁর বক্তব্যে স্বীকার করেছেন যে এই নির্বাচন সহজ নয়। বালিগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেস-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, বিশেষ করে প্রাক্তন নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়-এর সময় থেকে এই প্রভাব আরও সুদৃঢ় হয়েছে। তবে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন বর্তমান প্রার্থীদের স্থানীয় সংযোগ নিয়ে। তাঁর মতে, একজন প্রার্থীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও উপস্থিতি। এই জায়গাতেই তিনি প্রতিপক্ষের দুর্বলতা দেখতে পাচ্ছেন।
সংগঠন পুনর্গঠনের কৌশল (Rohan Mitra)
এই নির্বাচনে কংগ্রেসের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হলো রাজ্যের সমস্ত ২৯৪টি আসনে প্রার্থী দেওয়া। রোহনের মতে, এটি শুধুমাত্র নির্বাচনী কৌশল নয়, বরং সংগঠনকে পুনর্গঠনের একটি সুস্পষ্ট প্রচেষ্টা। তিনি জানান, অতীতে জোট রাজনীতির কারণে অনেক কেন্দ্রে কংগ্রেসের নিজস্ব সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এবার সেই অভাব পূরণ করতেই এই উদ্যোগ। এতে দলীয় কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে এবং তৃণমূল ও বিজেপির বাইরে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক বিকল্প গড়ে তোলার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।
বেকারত্ব ও উন্নয়নের প্রশ্ন (Rohan Mitra)
রোহনের বক্তব্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি উঠে এসেছে, তা হলো বেকারত্ব। তিনি বলেন, “১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও যদি লক্ষ লক্ষ মানুষ বেকার থাকে এবং সরকারকে ভাতা দিতে হয়, তাহলে সেটাই সরকারের ব্যর্থতা।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে শুধুমাত্র ভাতা বা আর্থিক সহায়তা নয়, দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানই হওয়া উচিত সরকারের মূল লক্ষ্য। তাঁর মতে, উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।
দুর্নীতির অভিযোগ ও রাজনৈতিক আক্রমণ (Rohan Mitra)
রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করতে গিয়ে রোহন একাধিক দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। তিনি নারদা, চিটফান্ড এবং নিয়োগ দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, “উন্নয়নের বদলে দুর্নীতিই এখন রাজনীতির মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।” এই অভিযোগের মাধ্যমে তিনি জনমানসে তৈরি হওয়া অসন্তোষকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। তাঁর বক্তব্যে পরিষ্কার, কংগ্রেস এই ইস্যুগুলিকে সামনে রেখেই প্রচার চালাতে চায়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ (Rohan Mitra)
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। বিভিন্ন জায়গায় হিংসা ও অস্থিরতার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন,
“মানুষ আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারছে না।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে আনতে চেয়েছেন।

তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে দ্বিমুখী আক্রমণ (Rohan Mitra)
রোহনের বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি একসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টি দুই দলকেই আক্রমণ করেছেন। তাঁর মতে, তৃণমূল ক্ষমতায় থেকেও নিজেদের বিরোধী হিসেবে তুলে ধরছে, বিজেপি ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করছে এই দুইয়ের বাইরে কংগ্রেসকে তিনি “বিশ্বাসযোগ্য ও পরিষ্কার বিকল্প” হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন।
ভোটার তালিকা বিতর্ক (Rohan Mitra)
SIR (Special Intensive Revision) প্রসঙ্গে রোহনের বক্তব্য ছিল বাস্তবভিত্তিক। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রয়োজনীয় হলেও এটিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। তাঁর মতে, প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং ভুল তথ্যের কারণে এই ইস্যু নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তিনি সতর্ক করেন যে, এই ধরনের ন্যারেটিভ সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে।
গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চিত্র (Rohan Mitra)
বালিগঞ্জে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে কিছু অসন্তোষ থাকলেও, রোহন এটিকে নেতিবাচক হিসেবে দেখেন না। তিনি মনে করেন,
“বিরোধিতা গণতন্ত্রেরই অংশ, এটি থাকাই স্বাভাবিক।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দলের ভেতরের মতভেদকে স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন।
ইতিহাসের উপর জোর
কংগ্রেসের প্রচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অতীতের সাফল্য তুলে ধরা। রোহন দাবি করেন, বাংলার শিল্প ও পরিকাঠামোর অনেক বড় প্রকল্প কংগ্রেস আমলেই শুরু হয়েছিল। তিনি রাহুল গান্ধী-র নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখে বলেন, তাঁর উপস্থিতি প্রচারে নতুন গতি আনতে পারে।
আরও পড়ুন: Jungle Mahal: রাস্তা নেই, তাহলে ভোট কেন? জঙ্গল মহলে বয়কটের হুঁশিয়ারি!
বামপন্থী রাজনীতি
রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা সত্ত্বেও রোহন বামফ্রন্টের প্রতি সৌজন্য বজায় রেখেছেন। বিশেষ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-র প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন। রোহন বড় জনসভা নয়, বরং ছোট টিম নিয়ে ঘরে ঘরে পৌঁছনোর কৌশল নিয়েছেন। তাঁর মতে, এতে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হয় এবং তাদের সমস্যাগুলি বোঝা সহজ হয়। এই পদ্ধতি আধুনিক নির্বাচনী রাজনীতিতে ক্রমশ গুরুত্ব পাচ্ছে, যেখানে ব্যক্তিগত সংযোগ বড় ভূমিকা পালন করে।



