Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ালেন বিরোধী দলনেতা (Suvendu Adhikari)। একদিকে ফলতার উন্নয়নের জন্য বিশেষ ডেভেলপমেন্ট প্যাকেজ ঘোষণার বার্তা, অন্যদিকে ডায়মন্ড হারবার ও ফলতা অঞ্চলে তৃণমূলের একাংশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে কার্যত রাজনৈতিক যুদ্ধের ডাক দিলেন তিনি। সভামঞ্চ থেকে তাঁর একের পর এক মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা।

“দেবাংশুকে এক লক্ষ ভোটে জেতান” (Suvendu Adhikari)
সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই উপনির্বাচন শুধুমাত্র একজন প্রার্থীকে জেতানোর লড়াই নয়, এটি রাজনৈতিক বার্তার নির্বাচন। তিনি দাবি করেন, ফলতায় মোট ভোটার প্রায় ২ লক্ষ ২৫ হাজার। সেই প্রসঙ্গ টেনে কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, “শুধু দেবাংশুকে জেতানো নয়, এক লক্ষ ভোটে জিতে পাঠাতে হবে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সংগঠনের শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি বিরোধী শিবিরকে বড় বার্তা দিতে চেয়েছেন।
“পান্নালাল হালদার তৃণমূলের কেউ নন” (Suvendu Adhikari)
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী নাম না করে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, পান্নালাল হালদার তাঁকে সংবর্ধনা দিতে এসেছিলেন ঠিকই, কিন্তু তিনি আদৌ তৃণমূলের প্রকৃত প্রতিনিধি নন। তাঁর কথায়, “পান্নালাল হালদার তৃণমূলের কেউ নয়। এখন শামীম, জাহাঙ্গীররাই তৃণমূলের সব।” এই মন্তব্য ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু সরাসরি তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব ও গোষ্ঠী রাজনীতিকে নিশানা করেছেন।
/indian-express-bangla/media/media_files/2024/12/05/1NkGl0X95W3QgGbiyrbr.jpg)
“কলকাতায় ২৪টি সম্পত্তির তথ্য পেয়েছি” (Suvendu Adhikari)
সভামঞ্চ থেকে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আক্রমণ আসে তথাকথিত “ভাইপোবাবু”-কে ঘিরে। শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, পুরসভা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তিনি কলকাতায় ২৪টি সম্পত্তির হদিশ পেয়েছেন। তিনি বলেন, “মাননীয় ভাইপোবাবু, কাল পুরসভা থেকে তথ্য আনলাম। কলকাতায় ২৪টি সম্পত্তি রয়েছে। পুলিশকে বলেছি খাতা-পেন নিয়ে বসুন। যত অভিযোগ হয়েছে, পদক্ষেপ করুন।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দুর্নীতি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত অভিযোগকে সামনে এনে শাসকদলের বিরুদ্ধে নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টা করেছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
“কোনও গুন্ডা এলাকায় থাকবে না” (Suvendu Adhikari)
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, এলাকায় দুষ্কৃতী রাজ চলতে দেওয়া হবে না। তিনি পুলিশ প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথাও দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, “কোনও গুন্ডা এলাকায় থাকবে না।” এই মন্তব্যের পর সভাস্থলে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে প্রবল উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
ডায়মন্ড হারবার পুলিশকে নির্দেশের দাবি
ডায়মন্ড হারবার অঞ্চলে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে শুভেন্দু বলেন, তিনি পুলিশকে কল রেকর্ডস ও হোয়াট্সঅ্যাপ চ্যাট সংগ্রহ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, “ভাইপোর পিএ-এর কথায় যাঁরা ডায়মন্ড হারবার ও ফলতার মানুষদের উপর অত্যাচার করেছেন, আমি শুভেন্দু অধিকারী সব বার করব।” এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

“কোথায় পুষ্পা?” (Suvendu Adhikari)
সভায় এক পর্যায়ে শুভেন্দু অধিকারী “পুষ্পা” প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “কোথায় পুষ্পা? দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। আমার উপর ছেড়ে দিন। ওর দায়িত্ব আমি নিলাম।” এরপরই তিনি সরাসরি জাহাঙ্গীর খানকে নিশানা করেন। যদিও পুরো বক্তব্যে কাকে উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্য করা হয়েছে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: Professor Arrest: প্রশ্ন ফাঁসের টোপ, ছাত্রীকে ‘ডার্লিং’ সম্বোধন! পুলিশের জালে অধ্যাপক
ফলতার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ?
বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজের ঘোষণা, প্রশাসনকে নিয়ে কড়া অবস্থান, সম্পত্তি ও দুর্নীতির অভিযোগ, সব মিলিয়ে ফলতার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শুভেন্দু অধিকারীর এই আক্রমণাত্মক ভাষণ আগামী দিনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।



