Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা এলাকা ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজনৈতিক সংঘাত, ভোট সন্ত্রাস এবং ধরপাকড়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে (Jahangir Khan)। গত ২১ মে পুনর্নির্বাচনের পর থেকেই একের পর এক নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী থাকছে ফলতা। এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন জাহাঙ্গীর খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে পরিচিত বঙ্গনগর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ইসরাফিল চকদার। বুধবার গভীর রাতে হাসিমনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে ফলতা থানার পুলিশ। এই গ্রেফতারির পর থেকেই নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। এলাকায় ছড়িয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছিল ইসরাফিল ও তার অনুগামীরা। অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলের মতে, পুনর্নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।

ভোটের আগে সরে দাঁড়ান জাহাঙ্গীর (Jahangir Khan)
ফলতার রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই (Jahangir Khan)। অভিযোগ ওঠে, ভোটারদের ভয় দেখানো, ভোট দিতে বাধা দেওয়া এবং ছাপ্পা ভোট করানোর মতো একাধিক ঘটনায় জড়িত ছিল জাহাঙ্গীর খান ঘনিষ্ঠ একটি গোষ্ঠী। ভোটের আগেই আচমকা নির্বাচনের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ান জাহাঙ্গীর খান। তারপর থেকেই কার্যত ‘নিখোঁজ’ তিনি। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, যে কোনও সময় তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। পুলিশের নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
বিক্ষোভে সামনে আসে বিস্ফোরক অভিযোগ (Jahangir Khan)
গত ২৯ এপ্রিল ভোটের পর বঙ্গনগর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের হাসিমনগর এলাকায় পরপর দু’দিন ধরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মহিলারা। রাস্তা অবরোধ করে তাঁরা সরব হন ভোটে সন্ত্রাসের অভিযোগে। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, ইসরাফিলের নেতৃত্বেই একদল দুষ্কৃতী ভোটারদের বাড়ি থেকে বেরতে দেয়নি। অনেককে ভয় দেখানো হয়। এমনকি ছাপ্পা ভোটের অভিযোগও ওঠে। স্থানীয় মহিলাদের অভিযোগ, তাঁদের মারধর করা হয়েছে এবং শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটেছে। এই আন্দোলনই পরবর্তীতে ফলতার পুনর্নির্বাচনের দাবিকে জোরালো করে তোলে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে নির্বাচন কমিশন অভিযোগ খতিয়ে দেখে এবং শেষ পর্যন্ত ফলতার নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করা হয়।

পুনর্নির্বাচনে বড় জয় বিজেপির (Jahangir Khan)
২১ মে পুনর্নির্বাচনে ফলতা বিধানসভায় ব্যাপক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ছবি সামনে আসে। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা লক্ষাধিক ভোটে জয়লাভ করেন। অন্যদিকে জাহাঙ্গীর খানের রাজনৈতিক অবস্থান কার্যত ভেঙে পড়ে। নির্বাচনে চতুর্থ স্থানে থেকে জামানত পর্যন্ত জব্দ হয় তাঁর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোট সন্ত্রাস এবং স্থানীয় মানুষের ক্ষোভই এই ফলাফলের পিছনে বড় কারণ। সাধারণ মানুষের একাংশ প্রশাসনের কড়া ভূমিকারও দাবি জানাতে শুরু করেন।
আরও পড়ুন: Smart Border: স্মার্ট বর্ডার প্রকল্পে জোর শাহের, ‘প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করতে হবে’
গোপন সূত্রে অভিযান, রাতেই গ্রেফতার ইসরাফিল
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন খবরের ভিত্তিতে বুধবার গভীর রাতে হাসিমনগর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় ইসরাফিল চকদারকে। ধৃতের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ভয় দেখানো, মারধর-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়াও ভোট সন্ত্রাসে তাঁর ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে। বৃহস্পতিবার তাকে ডায়মন্ডহারবার এসিজেএম আদালতে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে।



