Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মালদার চাঁচলের কলমবাগানে কংগ্রেসের জনসভাকে ঘিরে যে উত্তেজনা (Rahul Gandhi), বিশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক বার্তা উঠে এল, তা নিঃসন্দেহে বাংলার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সর্বভারতীয় কংগ্রেস নেতা Rahul Gandhi-র উপস্থিতিতে এই সভা শুধু জনসমাগমের দিক থেকেই নয়, রাজনৈতিক তাৎপর্যের দিক থেকেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

চাঁচলে জনতার উচ্ছ্বাস (Rahul Gandhi)
সকাল থেকেই চাঁচলের কলমবাগান চত্বর ভরে ওঠে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকের ভিড়ে। উত্তর মালদার চার কংগ্রেস প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। গ্রাম থেকে শহর সব জায়গা থেকেই মানুষ ছুটে আসেন তাঁদের প্রিয় নেতাকে একবার দেখার আশায়। এই ভিড় শুধু রাজনৈতিক সমর্থনের প্রতিফলন নয়, বরং এক ধরনের আবেগ ও প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা।
সেলফি-উন্মাদনায় বিশৃঙ্খলা (Rahul Gandhi)
সভা শেষে হেলিপ্যাডের দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। Rahul Gandhi-কে কাছ থেকে দেখার এবং সেলফি তোলার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হয়। ১৮ থেকে ৮০ সব বয়সের মানুষের মধ্যে এই উন্মাদনা ছিল স্পষ্ট। মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়ে, এবং নিরাপত্তা বলয় কার্যত ভেঙে যায়। অনেকেই প্রাচীর বেয়ে উঠে পড়েন, কেউ কেউ নিরাপত্তার ব্যারিকেড অতিক্রম করেন—ফলে তৈরি হয় এক বিপজ্জনক পরিস্থিতি।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্ন (Rahul Gandhi)
এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে, তা হল নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে। একজন জাতীয় স্তরের নেতার সভায় যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়, যা স্পষ্ট করে পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল। এই ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকা ও প্রস্তুতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক আক্রমণের ঝড় (Rahul Gandhi)
মঞ্চে দাঁড়িয়ে Rahul Gandhi সরাসরি আক্রমণ করেন রাজ্যের শাসকদল এবং মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-কে। আরজি কর কাণ্ড নিয়ে কড়া মন্তব্য তিনি অভিযোগ করেন, “আর জি করে যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে তৃণমূলের গুন্ডাদের ভূমিকা রয়েছে, অথচ সরকার কোনও দায় স্বীকার করেনি।” বেকারত্ব ও ভাতা প্রসঙ্গ, তিনি আরও বলেন, “সরকার বলছে ৫ লক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে, অথচ ৮৪ লক্ষ মানুষ ভাতার লাইনে দাঁড়াচ্ছেন এটা কেমন উন্নয়ন?” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সরাসরি রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং কর্মসংস্থানের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

অতীত ও বর্তমানের সমালোচনা (Rahul Gandhi)
বাংলার শিল্প পরিস্থিতি নিয়েও কড়া সুরে কথা বলেন তিনি। তাঁর মতে, “বাংলা একসময় শিল্পের কেন্দ্র ছিল, কিন্তু বামফ্রন্ট এবং পরে তৃণমূল দুই সরকারই সেই ঐতিহ্য নষ্ট করেছে।” এই বক্তব্যে তিনি শুধুমাত্র বর্তমান সরকার নয়, অতীত শাসনকেও দায়ী করেন শিল্পের পতনের জন্য।
ইন্ডিয়া জোটে ফাটল (Rahul Gandhi)
একসময় INDIA alliance-এর অংশ হিসেবে কংগ্রেস ও তৃণমূল একসঙ্গে চলার কথা বললেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্পর্ক স্পষ্টতই দুর্বল হয়ে পড়েছে। কংগ্রেসের ২৯৪টি আসনে একা লড়াইয়ের ঘোষণা এবং দলের সভাপতি Mallikarjun Kharge-র তৃণমূল-বিরোধী মন্তব্য এই ফাটলকে আরও প্রকট করেছে। রাহুল গান্ধীর এই জনসভা সেই দূরত্বকেই আরও স্পষ্টভাবে সামনে এনে দিল।
আরও পড়ুন: Badminton Ayush Shetty: রূপোয় থামতে হল আয়ুষকে!
দ্বৈত অবস্থান নিয়ে বিতর্ক
রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে একটি বড় প্রশ্ন উঠেছে কংগ্রেসের অবস্থান কি দ্বিচারিতার শিকার? কারণ, মধ্যপ্রদেশ ও কর্ণাটকে কংগ্রেস সরকার নিজেই বেকার ভাতা প্রকল্প চালু করেছে। অথচ বাংলায় একই ধরনের প্রকল্পের সমালোচনা করা হচ্ছে। এই দ্বৈত অবস্থান নিয়ে বিরোধীরা ইতিমধ্যেই সরব।



