Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মার্চের সেরা আইসিসি ক্রিকেটার ভারতের তারকা ব্যাটার সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson)।
মার্চের সেরা ক্রিকেটার সঞ্জু (Sanju Samson)
ক্রিকেট একদিকে যেমন নিষ্ঠুর তেমন আবার একদিকে উদার। ম্যাচে যে দল মুহূর্ত ধরতে পারে সেই দলই ম্যাচ জিতে নেয় আর অন্যদল আগের ম্যাচ বা ইনিংসে ভাল খেললেও সে বেরিয়ে যায় ম্যাচ থেকে। ১১ মার্চ ২০০১, দিনটা রবিবার। বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির চতুর্থ আসরের দ্বিতীয় টেস্ট। আগের ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১০ উইকেটে ভারতের হার। একদিকে অস্ট্রেলিয়া যখন অপ্রিতরোধ্য তেমন অন্যদিকে ভারত নিয়মিতভাবে টেস্ট ম্যাচ জেতে না। আর এই উদীয়মান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sanju Samson)।
সৌরভের নেতৃত্বে সেই ম্যাচে লক্ষ্মণ-দ্রাবিড়ের ব্যাটে রচিত হল অবিস্মরণীয় এক অধ্যায়। সৌরভের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ তখন নিজের দলের যোগ্যতা প্রমাণ করা আর সামনে অজি অধিনায়ক স্টিভ ওয়া। সেই ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করেন হরভজন সিং। সব মিলিয়ে এই জয় ভারতের ইতিহাসে এক স্বর্ণাক্ষরে লেখা অধ্যায়। এই সিরিজে সৌরভও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি হার মানতে বা হাল ছাড়তে শেখেননি। এরপর ভারতীয় ক্রিকেটের অন্দরে বয়ে গেছে অনেকদূর জল। বাদ পড়তে হয়েছে সৌরভকে তারপর আবার দুরন্ত কামব্যাক। সৌরভ যেমন নিজের প্রত্যাবর্তনের রূপকথা লিখেছেন তেমনই লিখেছেন সঞ্জু।
ভারতীয় দলের স্কোয়াডে থাকার পরেও দিনের পর দিন তাঁকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ডাগ-আউটে বসে অথবা গিল কোনও কারণে ম্যাচ খেলতে না পারলে পরিবর্ত হিসেবে খেলতে হয়েছে তাঁকে। এরপর আসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। প্রথম একাদশে সুযোগ পেলেন সঞ্জু। কিন্তু তারপর একের পর এক ম্যাচ ব্যর্থ। শুরু সমালোচনা। এরপর তিনি শেষ তিন ম্যাচে ফিরলেন ফর্মে এবং সেই ফর্ম ভারতকে জিতিয়ে দিল বিশ্বকাপ। আর এবার তারই পুরস্কার পেলেন তিনি। মার্চের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পেলেন সঞ্জু স্যামসন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুরন্ত পারফরম্যান্সের এই স্বীকৃতি দিল আইসিসি। টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পেয়েছিলেন স্যামসন (Sanju Samson)।

এই খেতাব পাওয়ার পর সঞ্জু বলেন, ‘আইসিসি-র সেরা ক্রিকেটারের খেতাব পাওয়াটা সত্যিই অসাধারণ অনুভূতি। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে আমারও একটা ছোট্ট অবদান ছিল। সেই জয়ের অংশ হতে পেরে গর্বিত।’ তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য সময়টা সত্যিই দারুণ যাচ্ছে। দলে অসাধারণ সব প্রতিভা রয়েছে। দলের সাপোর্ট স্টাফ থেকে সতীর্থরা আমার উপর ভরসা রেখেছেন। তার জন্য কৃতজ্ঞ। এটাই আমাকে সেরাটা দিতে সাহায্য করেছে।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শতরান না পেলেও তাঁর ইনিংসগুলি ছিল শতরানের থেকেও বেশি। ৯৭, এরপর সেমিফাইনালে করেন ৮৯ এবং ফাইনালে ৮৯। এই তিন ম্যাচেই তিনি বাজিমাত করে দেন তিনি। টুর্নামেন্টে তাঁর স্কোর ২৭৫। এই মুহূর্তে চলতি আইপিএল-এ তিনি রয়েছেন চেন্নাইয়ের দলে। প্রথম তিন ম্যাচে তিনি রান না পেলেও চতুর্থ ম্যাচে অনবদ্য শতরান করেন এবং তাঁর সেঞ্চুরির সঙ্গে চেন্নাইয়ও এই মরশুমের প্রথম জয় লাভ করে। মার্চের সেরা মহিলা ক্রিকেটার হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের মেলি কের (Sanju Samson)।


