Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, আর সেই প্রেক্ষাপটে রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দান ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে (Minakshi Mukherjee)। ঠিক এই সময় উত্তরপাড়া থেকে বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী মীনাক্ষী মুখার্জি তাঁর তীব্র বক্তব্যে ভোটের লড়াইকে এক অন্য মাত্রা দিলেন। কে টিভি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “লড়াইটা খুবই কঠিন। মানুষ আজ দিশেহারা—কোথায় যাবে, কার কাছে বিচার চাইবে, সেই উত্তর নেই।” তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের প্রায় প্রতিটি দফতরেই অনিয়ম ছড়িয়ে পড়েছে, আর সাধারণ মানুষের সমস্যার কোনও কার্যকর সমাধান হচ্ছে না।
মীনাক্ষী মুখার্জি জানিয়ে দেন, এই লড়াই শুধুমাত্র ভোটের নয়—এটি মানুষের অধিকার, সম্মান এবং গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই। তাঁর কথায়, “যে লড়াইটা এতদিন রাস্তায় ছিল, সেটাই এবার বিধানসভায় হবে।” ফলে, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তরপাড়া শুধু একটি কেন্দ্র নয়, বরং গোটা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বার্তা বহনকারী এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠছে।

“মানুষ কার কাছে যাবে?” (Minakshi Mukherjee)
সাক্ষাৎকারের শুরুতেই মীনাক্ষী মুখার্জি রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক কাঠামোতে আজ এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দফতরে নিয়মমাফিক কাজ না হওয়া, সাধারণ মানুষের অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া এবং আইনের শাসনের দুর্বলতা সব মিলিয়ে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিটি পাড়া, প্রতিটি এলাকা থেকে মানুষ তাঁদের সমস্যার কথা জানাচ্ছেন, কিন্তু সেই সমস্যার সমাধানের জন্য কার্যকর কোনও ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে “মানুষ কার কাছে যাবে, কোথায় বিচার চাইবে?”
আন্দোলনের রাজনীতি (Minakshi Mukherjee)
মীনাক্ষী মুখার্জির রাজনৈতিক পরিচয়ের মূল ভিত্তি আন্দোলন। তিনি নিজেই জানান, গত কয়েক বছর ধরে তিনি এবং তাঁর সংগঠনের কর্মীরা রাস্তায় নেমে লড়াই করে চলেছেন। এই লড়াই শুধুমাত্র রাজনৈতিক লাভের জন্য নয়, বরং মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য। জেলযাত্রা, মামলা, পুলিশি বাধা এসব তাঁর কাছে নতুন নয়। বরং তিনি গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে তাঁদের কোনও কর্মী দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য নয়, বরং আন্দোলনের কারণে জেলে গিয়েছেন। এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে এবং সেই লড়াইকেই তিনি এবার বিধানসভায় নিয়ে যেতে চান।

অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির দৃষ্টান্ত (Minakshi Mukherjee)
এই নির্বাচনে প্রচারের ক্ষেত্রে এক অভিনব পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন মীনাক্ষী মুখার্জি। তিনি জানান, প্রায় সাড়ে তিনশো পাড়া বৈঠকের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে যে সমস্ত অভিযোগ, সমস্যা এবং চাহিদা উঠে এসেছে, সেগুলিকেই লিপিবদ্ধ করে তৈরি করা হয়েছে তাঁদের ইশতেহার। এই প্রক্রিয়াটি একদিকে যেমন মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেয়, তেমনই রাজনীতিকে আরও গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক করে তোলে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আস্থাও তৈরি হয় যে তাঁদের কথাই রাজনীতির কেন্দ্রে রয়েছে।
শাসক দলের সমালোচনা (Minakshi Mukherjee)
সাক্ষাৎকারে তিনি শাসক দলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি অভিযোগ করেন যে, রাজ্যের বিভিন্ন স্তরে দলীয় প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। অটোচালক থেকে শুরু করে সরকারি কর্মচারী সব ক্ষেত্রেই নাকি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য চাপ তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এই ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক এবং মানুষের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।

ভোটার তালিকা ও SIR বিতর্ক (Minakshi Mukherjee)
ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR ইস্যু নিয়ে তিনি বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তোলেন এবং বলেন, এই “ডিলিট” প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তাঁর কথায়, বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং তা পুনরুদ্ধার করতেই হবে।
আরও পড়ুন: Ritwick Chakraborty: শাহী উচ্চারণ বিভ্রাট, মজার ছলে কটাক্ষ ঋত্বিকের
নবজাগরণের আলো
উত্তরপাড়ার ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথাও তিনি তুলে ধরেন। এই অঞ্চল একসময় বাংলার নবজাগরণের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা সব ক্ষেত্রেই উত্তরপাড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মীনাক্ষীর বিশ্বাস, সেই ঐতিহ্য এখনও মানুষের মধ্যে জীবন্ত রয়েছে এবং সেখান থেকেই নতুন রাজনৈতিক চেতনার জন্ম হতে পারে। তাঁর মতে, উত্তরপাড়া আবারও গোটা পশ্চিমবঙ্গকে একটি নতুন পথ দেখাতে পারে।



