Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কুয়াশাঘেরা পাহাড় আর ঘন সবুজ জঙ্গলের বুক চিরে হঠাৎই বেরিয়ে এল কুচকুচে কালো এক ছায়া। রুপোলি পর্দার ‘জাঙ্গল বুক’-এর বাগিরার কথা মনে পড়িয়ে দিয়ে কার্শিয়ঙের নয়া বাজার এলাকায় ফের দেখা মিলল রহস্যময় ব্ল্যাক প্যান্থারের (Black Panther)। মঙ্গলবার সকালে একটি চলন্ত গাড়ির সামনে হঠাৎই চলে আসে এই বন্যপ্রাণীটি। চালক তড়িঘড়ি নিজের মোবাইলে সেই বিরল মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেন। ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হতেই তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।
লেপার্ডের মেলানিস্টিক রূপ (Black Panther)
বনদফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, কার্শিয়ঙের জঙ্গলে যে প্রাণীটিকে দেখা যাচ্ছে, তা আসলে কোনও ভিন্ন প্রজাতি নয়। এটি ইন্ডিয়ান লেপার্ড বা চিতাবাঘেরই বিশেষ রূপ, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় মেলানিস্টিক লেপার্ড। এদের শরীরে মেলানিন রঞ্জকের আধিক্যের কারণে গায়ের রঙ কুচকুচে কালো হয়। রোদের আলোয় এদের গায়েও চিতাবাঘের মতো বিশেষ ছোপ বা ‘রোসেটস’ লক্ষ্য করা যায়। উত্তরবঙ্গের জঙ্গলে এদের উপস্থিতি অত্যন্ত বিরল ও তাৎপর্যপূর্ণ।
সংখ্যা বাড়ছে পাহাড়ে (Black Panther)
বনদফতরের তথ্য অনুযায়ী, কার্শিয়াং বনাঞ্চলে ব্ল্যাক প্যান্থারের (Black Panther) সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে চিমনি অঞ্চলে প্রথমবার এক পর্যটকের ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল এই প্যান্থারের ছবি। সেই ঘটনার পর থেকেই বনদফতর চিমনি, বগোরা এবং সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় একাধিক ট্র্যাপ ক্যামেরা বসায়। সম্প্রতি বনদফতরের পাতা ট্র্যাপ ক্যামেরায় দুটি ব্ল্যাক প্যান্থারকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছে, যা বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে অত্যন্ত আশাপ্রদ।
আরও পড়ুন: BJP Attacks TMC: ‘তৃণমূলকে ভোট দেব’ বলাতেই মহিলাকে ঠাসিয়ে চড় বিজেপি নেতার
কার্শিয়ঙের ডিএফও জানিয়েছেন, পাহাড়ে বসতি এবং পর্যটন বাড়লেও বন্যপ্রাণীরা তাদের পুরনো আবাসে ফিরে আসছে। তবে নয়া বাজারের মতো জনবহুল এলাকার কাছাকাছি প্যান্থার (Black Panther) চলে আসায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে বা ভোরে নির্জন রাস্তায় যাতায়াত না করাই ভালো।
বর্তমানে ওই এলাকায় বনকর্মীদের টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। এই ব্ল্যাক প্যান্থারের (Black Panther) নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং চোরা শিকারিদের হাত থেকে বাঁচাতে বিশেষ কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের পর্যটনে এই ‘কালো বাঘ’ যে নতুন এক আকর্ষণ হয়ে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য।



