Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: টানা দুইবার আইপিএল-এর খেতাব জয় বেঙ্গালুরুর (RCB vs GT)।
বিরাট দাপটে গুজরাট বধ (RCB vs GT)
উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের কালজয়ী নাটক ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’-এর বিখ্যাত উক্তি ‘নামে কি আসে যায় বা What’s in a name?’ কিন্তু নামটা যদি বিরাট কোহলি হয় তবে যায় আসে। রান তাড়া করতে নামলে বিরাট যে অতিমানবীয় সেটা বিশ্ব ক্রিকেট জানে (RCB vs GT)। দলের হয়ে বিরাট যতক্ষণ ক্রিজে থাকেন ততক্ষণ দলের জেতার শতাংশ থাকে ১০০ শতাংশ। আর বিপক্ষ যতই উইকেট নিক কিন্তু সেখানে শান্তি নেই কারণ সেই অতিমানবীয় বিরাট।
রবিবার মানেই বাড়ির লোকের সঙ্গে একসঙ্গে জমিয়ে খাওয়া দাওয়া আর সময় কাটানো। একটা সময় ছিল টিভি-র চল ছিল না। সন্ধ্যে হলেই ক্যাসেট-এ সিনেমা দেখা আবার পরে পাড়ার যে বাড়িতে টিভি ছিল সেখানে বসে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ দেখা (RCB vs GT)। সেই সময় টানটান মুহূর্তের জন্ম এবং সেই মুহূর্তে গলা ফাটানো প্ৰিয় দলের হয়ে। এখন সবার বাড়িতে টিভি রয়েছে, হাতে ফোন, যুগ পাল্টেছে তবে বদলায়নি কোনও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের উত্তেজনা।
আইপিএল নিয়ে ভারতীয়দের মধ্যে বরাবরই উন্মুক্ত মনোভাব ছিলই আর সঙ্গে ছিল উন্মাদনা। সেই উন্মাদনা আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায় যখন আইপিএল ফাইনালে দুই দল মুখোমুখি হয়। চলতি আইপিএল সাক্ষী থেকেছে অনেক রোমাঞ্চকর মুহূর্তের। উত্থান পতন পেরিয়ে অবশেষে ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল গুজরাট আর বেঙ্গালুরু।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে তখন একদিকে কিং কোহলি আর অন্যদিকে প্রিন্স গিল। দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকার পর আগের মরশুমে রজত পতিদারের নেতৃত্বে শাপমুক্তি হয়েছিল আরসিবি-র। এবার সেই শিরোপা ধরে রাখার লড়াই ছিল বিরাটদের (RCB vs GT))।
আরও পড়ুন: Weather: উত্তরবঙ্গে বর্ষার আগমনী, দক্ষিণবঙ্গে বাড়ছে অস্বস্তি!

ফাইনালে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিধান্ত নেন বেঙ্গালুরু অধিনায়ক। যে গুজরাটের প্রথম তিন ব্যাটারকে ভয় ছিল তাঁরা এই ম্যাচে সেইভাবে দাঁড়াতেই পারলেন না। বেঙ্গালুরু বোলারদের সামনে যেন প্রথম থেকেই নড়বড়ে ছিল গুজরাট ব্যাটসম্যানরা (RCB vs GT)।
সাই সুদর্শন, শুভমন গিল দুজনকেই যেন মনে হতে থাকে এই ফাইনালের প্রেসার অনেক বেশি করে চেপে ধরেছে দুজনকে। যেখানে নিজেদের স্বাভাবিক খেলার ছন্দপতন হয়েছে খেতাব জেতার ম্যাচে। অন্যদিকে বেঙ্গালুরু অভিজ্ঞতার দিক থেকে নিজেদের নার্ভ যথেষ্ট শক্ত রেখে প্রথম থেকেই বোলিংয়ে আগুন ঝরাতে থাকেন। এখানেই চলে আসে অভিজ্ঞতার প্রশ্ন এবং নার্ভ শক্ত রেখে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।
জশ হেজলউড ফিরিয়ে দেন গুজরাট অধিনায়ক গিলকে মাত্র ১০ রানে। গিল একবার সেটেল হয়ে গেলে যে তিনি কতটা ভয়ঙ্কর সেটা বিরাট বাহিনী জানেন। এরপরেই ফর্মে থাকা সাই সুদর্শনও ফেরেন ১২ রানে ভুবনেশ্বর কুমারের বলে। বাটলারকে ফিরিয়ে গুজরাট ব্যাটিংয়ে ধস নামান ক্রুনাল পান্ডিয়া (RCB vs GT)।
গুজরাটের প্রথম তিন ব্যাটসম্যান রান না পেলে বড় স্কোর করতে ব্যর্থ হয় গুজরাট আর সেটাই কাল হল ফাইনালে। প্রথম তিন উইকেট পড়ার পর থেকেই ব্যাকফুটে যেতে থাকে গুজরাট। দলের হয়ে একমাত্র লড়াই করেন ওয়াশিংটন সুন্দর। ৩৭ বলে ৫০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি। ৮ উইকেট হারিয়ে ২০ ওভার শেষে গুজরাট স্কোর বোর্ডে যোগ করে ১৫৫ রান।
বেঙ্গালুরুর হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন জশ হেজলউড এবং ভুবি। তিনটি উইকেট নিয়েছেন রসিক সলম দার। একটি উইকেট নিয়েছেন ক্রুনাল পান্ডিয়া।
ব্যাট করতে নেমে দুরন্ত গতিতে চলতে থাকে বিরাট কোহলি আর ভেঙ্কটেশ আইয়ারের ব্যাট। সেই সময় যেন সমর্থকদের মনে বিখ্যাত গানের লাইন ঘুরপাক খেতে থাকে ‘দুরন্ত ঘূর্ণির এই লেগেছে পাক’, হ্যাঁ তখন বিরাট ঘূর্ণির দাপটে বল গিয়ে পড়ছে বাউন্ডারি লাইনের চারপাশে। নান্দনিক শটে বিরাট আবারও দেখিয়ে দিলেন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নার্ভ স্ট্রং রেখে কীভাবে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একসময়ের ম্যাচ সবার মনে থাকবে যেখানে বিরাট একা রান তাড়া করার দলকে জয় এনে দিতেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একা কুম্ভ হয়ে থাকতেন কোহলি। এক সময়ের শচীন থেকে আজকের বিরাট ভারতের অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান। একজন ক্রিকেটের ঈশ্বর আর আরেকজন কিং।
আইয়ার শুরুটা ভাল করেও ফিরে যান ৩২ রানে। তাঁকে ফেরানোর কাজটা করেন সিরাজ। এরপর দেবদত্ত এলে তিনিও ফিরে যান মাত্র এক রানে। তবে সেখানে লাভ কিছুই হয়নি কারণ ক্রিজে বিরাট উপস্থিতি। অন্যদিকে বেঙ্গালুরুর বাক ব্যাটাররা অযথা তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসতে থাকেন। কিন্তু বিরাট ঠান্ডা মাথায় দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যান নিজের দক্ষতায়। টিম ডেভিড ২৪ রানের ইনিংস খেলে কিছুটা বাকিদের ব্যর্থতা সামাল দেন (RCB vs GT)।
বিরাট কোহলির কথা বারবার ফিরে ফিরে আসে কোনও হারিয়ে যাওয়া সাম্রাজ্যর মত না বরং ক্রমবর্ধমান এক সাম্রাজ্যের উত্থানের গল্প হিসেবে। সেই রাজ্যে বিরাট রাজার আগ্রাসন আজও সেই প্রথম ভিত পুজোর মত। সেই একই এনার্জি একই খিদে। পুরো ম্যাচ নিজেকে খেলার মধ্যে রাখা। ৩৭ বছরের তরুণ বিরাট এখনও যতটা ফিট এবং দক্ষ সেখানে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেবে বাকিদের। আইপিএল ফাইনালে আরেকবার নিজেকে সফল চেজ মাস্টার হিসেবে প্রমাণ করলেন চিকু তথা বিরাট। ৭৫ রানে অপরাজিত থেকে দলকে দ্বিতীয়বার খেতাব এনে দিলেন তিনি। শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে খেলা শেষ করলেন কিং কোহলি।


