Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকটা দিন, তার আগেই ফের কেন্দ্রীয় এজেন্সির নিশানায় শাসক দল। শুক্রবার ভোরে রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক দেবাশিস কুমারের (Debashis Kumar) বাড়িতে হানা আয়কর দফতরের আধিকারিকদের। ভোটের ঠিক মুখে আকস্মিক তল্লাশি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
সূত্রের খবর, শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ দেবাশিস কুমারের মনোহরপুকুরের বাড়ি ও কার্যালয়ে পৌঁছে যান আয়কর বিভাগের একটি দল। আধিকারিকদের নিরাপত্তার খাতিরে সঙ্গে রয়েছেন সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ানরা। তৃণমূল প্রার্থীর দুটি ঠিকানাতেই একসঙ্গে তল্লাশি শুরু হয়। হঠাৎ এই অভিযানে স্বাভাবিকভাবেই এদিন তাঁর সমস্ত নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচি বন্ধ রাখতে হয়েছে।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সমর্থকদের বিক্ষোভ
আয়কর হানার খবর চাউর হতেই দেবাশিস কুমারের (Debashis Kumar) কার্যালয়ের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। সমর্থকদের অভিযোগ, তল্লাশির নামে কার্যালয়ে থাকা কর্মীদের নথিপত্র এবং ব্যক্তিগত কাগজপত্র ঘাঁটা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবিরুদ্ধ। তৃণমূল শিবিরের স্পষ্ট দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিজেপি কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে তৃণমূল প্রার্থীদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করছে। এটি একটি “গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র” ছাড়া আর কিছুই নয়।
ইডি-র নজরেও ছিলেন দেবাশিস (Debashis Kumar)
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই জমি দখল সংক্রান্ত একটি প্রতারণা মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) তলব করেছিল দেবাশিস কুমারকে। সেই মামলায় তিনি হাজিরাও দিয়েছিলেন। অভিযোগ ছিল, একটি নির্দিষ্ট প্রকল্পের নাম করে সাধারণ মানুষের জমি জোর করে দখল করা হয়েছে এবং বড়সড় আর্থিক প্রতারণা চালানো হয়েছে। সেই তদন্তে উদ্ধার হওয়া বেশ কিছু নথিতে দেবাশিস কুমারের (Debashis Kumar) নাম উঠে এসেছিল বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছিল।
আরও পড়ুন:Voter Alert: ভোটার সচেতনতায় বিশেষ উদ্যোগ, একসঙ্গে পথে DEO নর্থ ও কলকাতা পুলিশ কমিশনার
নির্বাচনের ঠিক আগে এই আয়কর হানা রাসবিহারী কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলল। একদিকে বিজেপি যখন দুর্নীতির অভিযোগে সরব, অন্যদিকে তৃণমূল একে প্রতিহিংসার রাজনীতি হিসেবে দেখছে। এখন দেখার, এই আয়কর হানার পর উদ্ধার হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কোন পথে এগোয় এবং নির্বাচনী ময়দানে এর কী প্রভাব পড়ে।


