Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধান- গানের এই লাইনটি রচিত (Lenskart Controversy) হয়েছিল ভারতবর্ষের যে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য রয়েছে তা বোঝানোর জন্য। কিন্তু সম্প্রতি দেখা গেছে ‘ভাষা’ নিয়ে উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। বাংলা ভাষা বললেই যে সে বাংলাদেশী নয় সেটা বুঝতে সময় লাগছে কিছুজনের। কেউ কেউ তো আবার বলছেন দেশের ‘রাষ্ট্রীয় ভাষা’ হল হিন্দি (যদিও ভারতবর্ষের সংবিধানে সেরকম কিছুই লেখা নেই). এই আবহেই আবার ‘নানা পরিধান’ নিয়ে উত্তপ্ত হল দেশ। লেন্সকার্টের একটি নিয়মাবলী দেখে কপালে চোখ উঠল নেট নাগরিকদের।
লেন্সকার্ট ঘিরে বিতর্ক (Lenskart Controversy)
ভারতের জনপ্রিয় চশমা প্রস্তুতকারী সংস্থা লেন্সকার্ট (Lenskart Controversy) এবার বিতর্কের কেন্দ্রে। তবে ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য নয়, বরং একটি কথিত ‘গ্রুমিং পলিসি’ ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কিছু স্ক্রিনশট ঘিরে সংস্থার বিরুদ্ধে ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে, যার জেরে ‘বয়কট লেন্সকার্ট’ দাবিও সামনে এসেছে।
বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়? (Lenskart Controversy)
ভাইরাল হওয়া নথিতে দাবি করা হয়েছে, কর্মীদের ‘নিরপেক্ষ চেহারা’ (Lenskart Controversy) বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে টিপ, তিলক বা পৈতে-র মতো দৃশ্যমান ধর্মীয় চিহ্ন ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হলেও, হিজাব বা পাগড়ির ক্ষেত্রে নাকি ছাড় দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আসতেই একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের মতে, এটি শুধুই পোশাকবিধি নয়, বরং দ্বৈত মানদণ্ডের উদাহরণ।
সংস্থার সাফাই
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতেই মুখ খুলেছে লেন্সকার্ট কর্তৃপক্ষ। সংস্থার দাবি, যে নথি ঘিরে বিতর্ক, তা পুরনো এবং বর্তমানে প্রযোজ্য নয়। তারা আরও জানিয়েছে, সংস্থা সর্বদা বৈচিত্র্য ও সকল ধর্মের প্রতি সম্মান বজায় রাখার পক্ষে। বর্তমান নীতিমালায় কোনও ধর্মীয় বৈষম্যের জায়গা নেই বলেও দাবি করা হয়েছে।
কর্পোরেট নীতি বনাম ব্যক্তিগত স্বাধীনতা
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে। ‘নিরপেক্ষতা’ বজায় রাখার নামে কি কর্মীদের ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশে বাধা দেওয়া উচিত? বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের মতো বহুত্ববাদী সমাজে কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে আরও সংবেদনশীল হওয়া জরুরি। নীতিমালায় স্বচ্ছতা না থাকলে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।
আরও পড়ুন: Yusuf Pathan: গ্রেফতার তৃণমূল সাংসদের শ্বশুর, রাস্তায় মারপিটের অভিযোগ!
ব্যবসায়িক প্রভাব কতটা?
যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় বয়কটের ডাক উঠেছে, তবুও এখনও পর্যন্ত সংস্থার ব্যবসায় বড় কোনও প্রভাব পড়েনি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, গ্রাহকদের আবেগকে গুরুত্ব না দিলে ভবিষ্যতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


