Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আইপিএল-এর দৌড় থেকে এখন প্রায় পুরোটাই ছিটকে গিয়েছে নাইট বাহিনী (Shubman Gill)।
ব্যাট হাতে গিলের দাপট (Shubman Gill)
কলকাতার রাস্তাটির নাম ডুয়েল অ্যাভিনিউ, নাম শুনেই আন্দাজ পাওয়া যায় এই রাস্তার নামরণের নেপথ্য কারণেই। দক্ষিণ কলকতার আলিপুরে অবস্থিত জাতীয় গ্রন্থাগার বা ন্যাশনাল লাইব্রেরি। যেখানে রয়েছে কয়েক লক্ষ্য বই. দলিল দস্তাবেজ। এখানেই উত্তর-পশ্চিম দিকে গেলে রয়েছে গাছে ঘেরা রাস্তা আর এই রাস্তাই সাক্ষী থেকেছে দুই ইংরেজ ভদ্রলোকের ডুয়েলের। প্রথম জন বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস এবং দ্বিতীয় জন ফিলিপ ফ্রান্সিস। তাঁদের মধ্যে কেন এই দ্বন্দ্ব বা ডুয়েল সেই প্রসঙ্গ আজ থাকে (Shubman Gill)।
তবে সেই সময়ে না বরং পৌরাণিক কাহিনীতেও রয়েছে এই ডুয়েলের উল্ল্যেখ। মহাভারত যুদ্ধের শেষে যুধিষ্ঠির দুর্যোধনকে এই যুদ্ধের সুযোগ দিয়েছিলেন। এই লড়াইতে ভীমকে হারাতে পারলেই রাজপাট তাঁর কিন্তু শেষ ফলাফল সবার জানা। গতকালের গুজরাট বনাম কলকাতার ম্যাচেও কার্যত দেখা গেল দুই দলের দুই জনের যুদ্ধ। কলকাতার হয়ে একদিকে লড়লেন গ্রিন আর অন্যদিকে গুজরাটের তারকা ব্যাটার শুভমন গিল। এই যুদ্ধে গিলের দাপটে ফিকে হতে হল গ্রিনকে।

আবারও একটি হার নাইট বাহিনীর। সব সবুজ রং এই দিন মিশে গেল হতাশার কালো মেঘে। কলকাতার কাছে এমন মরণ-বাচন ম্যাচে সমর্থকরা যা পেলেন তা শুধু হতাশা আর বিরক্তি। আহমেদাবাদে গুজরাটের কাছে ৫ উইকেটে হার হয় নাইট বাহিনীর। এই দিন প্লে ওফেই খেলার ফলাফল নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। একদিকে কলকাতার যেমন জঘন্য ব্যাটিং তেমনই বোলিং। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খারাপ অধিনায়কত্ব এবং পরিকল্পনাহীন ক্রিকেট। আর সব বিভাগেই কলকাতাকে টেক্কা দিল গুজরাট। গ্রিন কলকাতার জার্সি গায়ে হাফ সেঞ্চুরি করলেও দলকে জেতাতে পারলেন না। আরেকদিকে চলতি আইপিএল-এ প্রথম উইকেট বরুণের (Shubman Gill)।

ম্যাচ বদলাচ্ছে, প্রতিপক্ষ বদলাচ্ছে কিন্তু ফলাফল বদলাচ্ছে না। পাঁচ ম্যাচ হেরে এখন কলকাতা টেবিলের লাস্ট বয় যে নিজের বহু থেকে শিক্ষা না নিয়ে আবার পরেরদিন একই ভুল করে। গুজরাট অধিনায়ক দায়িত্ব নিয়ে দলকে জয়ের দোরগোড়া পর্যন্ত নিয়ে যান আর নাইট অধিনায়ক শুন্য রানে ফিরলেন। গিল আউট হলেও ততক্ষণে কেকেআর ম্যাচের বাইরে। শেষ বল পর্যন্ত খেলা যাওয়া সেটা কিছুটা গুজরাটের বাকি ব্যাটারদের ব্যর্থতা। ২ বল বাকি থাকতে ম্যাচ যেতে গুজরাট যা এই মরশুমে নিজেদের ঘরের মাঠে প্রথম জয়।

কিছু কিছু ইনিংস থাকে যেগুলো শুধু মাসিক জেতায় না বরং নিজের কামব্যাকের বার্তা বহন করে। গিলের ইনিংসও সেরকম। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়েছিলেন ফর্মের কারণে। এরপর আসে আইপিএল-এর মঞ্চ আর এখানেই এই সীমিত ফরম্যাটের জন্য জাতীয় দলে নিজের প্রত্যাবর্তনের দিকে এক পা এক পা করে এগোচ্ছেন শুভমন। অন্যদিকে শুধু ছিল গ্রিন। বাকি দল আত্মসমর্পণ করে বসে আছে। শতরান হাতছাড়া হলেও গ্রীনের রানের জন্য সম্মানজনক স্কোর কেকেআর স্কোর বোর্ডে দাঁড় করতে পেরেছিল। কিন্তু গিল ম্যাজিকে ফিকে হল গ্রিন। এই মুহূর্তে কমলা টুপির দখল এখন গিলের দখলে (Shubman Gill)।
আরও পড়ুন: Tamil Nadu: তামিলনাড়ুতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, মৃত ৯ পর্যটক
আহমেদাবাদী টপ অর্ডার মিডিল অর্ডার দুই ব্যর্থ হয় নাইটদের। নিজের ২৫.২০ কোটি এবং দলের মান রাখলেন গ্রিন। তবে বাকিদের ছিল পরিকল্পনাহীন ব্যাটিং। শেষ দিকে সবাই প্রায় ভুলে গেলেন যে সেট হয়ে থাকা গ্রিনকে স্ট্রাইক দিলে রান ২০০ পার করলেও করতে পারে। অন্যদিকে রাহানে বারবার ওপেনে ব্যর্থ। নারিন যে সময় নামছেন তখন তিনি তাঁর পরিচিত খেলা খেলতে পারছেন না। বোলিংয়ে কেউ দলের ভরসা হয়ে উঠতে পারছেন না। যার দায়ভার বর্তায় কোচের উপরও। এখন কেউ জানেন না কবে নাইটরা নিজেদের ভুল শুধরে সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাবে (Shubman Gill)।


