Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ভোটের ময়দানে তিনি বরাবরই ‘কালারফুল’ । কখনও গান গেয়ে, কখনও শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্য ভোগ রান্না করে, কখনও আবার মেঠো আড্ডায় জনসংযোগ সারেন কামারহাটির তৃণমূল প্রার্থী মদন মিত্র (Madan Mitra)। তবে এবার তাকে দেখা গেল একেবারে ভিন্ন মেজাজে। গলায় ঝাল মুড়ির ডালা ঝুলিয়ে আগরপাড়া থেকে লোকাল ট্রেনে চড়ে সোজা পৌঁছে গেলেন বেলঘরিয়ায়। ট্রেনের কামরায় যাত্রীদের ঝাল মুড়ি খাইয়ে সারলেন অভিনব প্রচার।

ঝাল মুড়ির ঠোঙায় রাজনীতি (Madan Mitra)
হাতে ঝাল মুড়ির ঠোঙা, আর গলায় ঝাল মুড়ির ডালা। বৃহস্পতিবার সাতসকালে আগরপাড়া স্টেশনে এইভাবেই আবির্ভূত হলেন মদন মিত্র। সেখান থেকে উঠে পড়লেন শিয়ালদহগামী লোকাল ট্রেনে। ট্রেনের ভিড়ের মধ্যেই যাত্রীদের সাথে খোশগল্পে মাতলেন তিনি। নিজের হাতে মুড়ি মেখে তুলে দিলেন সাধারণ মানুষের মুখে। বেলঘরিয়া স্টেশনে নেমে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তীব্র কটাক্ষ করেন এই তৃণমূল নেতা।
বেলঘরিয়ায় নেমে তীব্র রাজনৈতিক কটাক্ষ (Madan Mitra)
মদন মিত্র বাইট : “উনি (নরেন্দ্র মোদী) আমাদের কাছে একটা আশীর্বাদ। মোদী যত আসবেন, আমাদের হারানো যৌবন তত ফিরে আসবে। উনি যতবার মুড়ির দোকানে গিয়ে নাটক করবেন, পরের দিন থেকে আমরাও সকালবেলা বেরিয়ে মুড়ি খেতে থাকব। প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলেন ২ কোটি চাকরি, ১৫ লক্ষ টাকা, ৩০০০ টাকা করে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে—আজ পর্যন্ত একটাও সত্যি হয়েছে? উনি আবার মুড়ি খেতে খেতে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তৃণমূল যা বলে তা করে দেখায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা যা কথা দিয়েছিলেন, সব পালন করেছেন।”

‘বহুরূপী’ ইমেজ বনাম ‘বাঙালি আনা’ (Madan Mitra)
প্রধানমন্ত্রীকে ‘বহুরূপী’র সাথে তুলনা করে মদন মিত্র আরও বলেন, মোদী কখনও সাধু সাজেন, কখনও আবার অন্য সাজে আসেন। কিন্তু বাংলার মানুষ এই ‘নাটক’ ধরে ফেলেছে। ট্রেন থেকে নেমে স্টেশন চত্বরেও এদিন কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান তিনি। ভোটের আগে কামারহাটির প্রার্থীর এই ঝাল মুড়ি প্রচার এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। বিরোধীরা একে ‘চমক’ বললেও, মদন অনুগামীরা বলছেন এটিই হলো আসল ‘বাঙালি আনা’।
আরও পড়ুন: BJP Attacks TMC: ‘তৃণমূলকে ভোট দেব’ বলাতেই মহিলাকে ঠাসিয়ে চড় বিজেপি নেতার
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল প্রচার
এই পুরো ঘটনাটি দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে। কেউ একে রাজনৈতিক ‘স্টান্ট’ বলছেন, আবার কেউ দেখছেন জনসংযোগের এক নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে। বর্তমান সময়ের রাজনীতিতে যেখানে ডিজিটাল প্রচার গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে এই ধরনের সরাসরি সংযোগ মানুষের মনে আলাদা প্রভাব ফেলছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



