Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মঙ্গলবার সকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ জোরালো ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল মণিপুর (Manipur Earthquake)। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিজমোলজি জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.২। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল পার্বত্য এলাকার কামজং।কম্পনের প্রভাব পড়ে রাজধানী ইম্ফল-সহ বিস্তীর্ণ উপত্যকা এলাকায়। ভোরের ঘুম ভেঙে আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন বহু মানুষ। অনেকেই খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন, কারণ ফের কম্পনের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ভোরের কম্পনে আতঙ্ক (Manipur Earthquake)
রাজ্য সরকারের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। তবে বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা ফেটে যাওয়া এবং বেশ কিছু বাড়িঘরে ফাটল ধরার খবর সামনে এসেছে। প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসেব সংগ্রহের কাজ চলছে। এদিকে, এমনিতেই গত কয়েকদিন ধরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে মণিপুর। নতুন করে জাতিগত সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় রাজ্যের একাধিক জেলায় হিংসা ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি মাসেই একাধিক ঘটনায় অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক চিত্র (Manipur Earthquake)
বিষ্ণুপুর জেলা-র থ্রঙগ্লাবই এলাকায় বোমা বিস্ফোরণে প্রাণ হারায় ৫ ও ৬ বছরের দুই শিশু। একই জেলার লিটন এলাকায় কুকি জঙ্গিদের হামলায় নিহত হন এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ান। অন্যদিকে, চুড়াচাঁদপুর-এর গেলমল এলাকায় আধা সামরিক বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছে তিন গ্রামবাসীর, যাঁরা কুকি সম্প্রদায়ের বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যে নতুন বিপদ (Manipur Earthquake)
এইসব ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানো রুখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তীর্ণ এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মৈতেই সম্প্রদায়ের মহিলাদের সংগঠন ‘মিরা পাইবি’ এবং ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল-এর ডাকা পাঁচ দিনের বনধে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে রাজ্যের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। স্কুল-কলেজ, হাটবাজার, যান চলাচল—সবই ব্যাপকভাবে প্রভাবিত।
আরও পড়ুন: Dipshita Dhar: মিথ্যে বলছে দীপ্সিতা, প্রতিবাদে রাস্তায় নামল মিছিল
এই অস্থিরতার মধ্যেই মঙ্গলবার ভোরের ভূমিকম্প রাজ্যবাসীর উদ্বেগ আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও লাগাতার হিংসার দ্বৈত চাপে এখন কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে মণিপুর।



