Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলার মাটিতে ভোটের আবহ যত ঘন হচ্ছে, ততই ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের প্রশ্নে রাজনৈতিক তরজা তীব্রতর হয়ে উঠছে (Ritwick Chakraborty)। সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বদের একাধিক মন্তব্য ও উচ্চারণ বিভ্রাট সেই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, সাধারণ মানুষ থেকে সাংস্কৃতিক মহল সব জায়গাতেই এই নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা, কৌতুক, এমনকি ক্ষোভও।

বাংলা উচ্চারণে হোঁচট (Ritwick Chakraborty)
বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির গুরুত্ব যেখানে বাঙালির আত্মপরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, সেখানে নির্বাচনী প্রচারে এসে বারবার ভুল উচ্চারণ ও তথ্য বিভ্রাট অনেকের চোখে ‘অপ্রস্তুত হোমওয়ার্ক’-এরই প্রমাণ। অমিত শাহ-এর ‘রবীন্দ্রসঙ্গীত’ বলতে গিয়ে ‘রবিশঙ্কর’ বলা বা রানি রাসমণিকে ‘রানি রাসমতী’ উচ্চারণ এসব ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। একইভাবে
নরেন্দ্র মোদি-র ‘বঙ্কিমদা’ মন্তব্যও অতীতে কম বিতর্ক তৈরি করেনি। আবার নীতিন নবীন-এর প্রতিবাদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি ‘শান্তির জন্য’ নোবেল পেয়েছিলেন এই ভুল তথ্যও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে।
মনীষীদের নাম-বাণী গুলিয়ে ফেলা (Ritwick Chakraborty)
বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয় যখন যোগী আদিত্যনাথ জয়পুরের সভা থেকে বলেন, “স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, তোমরা আমাকে রক্ত দাও আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।” বাস্তবে এই বিখ্যাত উক্তিটি সুভাষ চন্দ্র বসু-১, স্বামী বিবেকানন্দ-এর নয়। এই ধরনের বিভ্রান্তি শুধু রাজনৈতিক ভুল হিসেবেই নয়, অনেকের মতে সাংস্কৃতিক অজ্ঞতার পরিচয় হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
পালটা আক্রমণ ও রাজনৈতিক তরজা (Ritwick Chakraborty)
এই ঘটনাগুলিকে হাতিয়ার করে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা তীব্র কটাক্ষ করেছেন। মহুয়া মৈত্র-র ব্যঙ্গ, “বুলডোজার বুদ্ধি! উত্তরপ্রদেশে ফিরে যান, বাংলাকে ছেড়ে দিন” রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তোলে। বাংলার নির্বাচনে যেখানে ‘বাঙালি অস্মিতা’ একটি বড় ইস্যু, সেখানে ভাষা ও সংস্কৃতির এই ভুলগুলি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ব্যঙ্গ-বিদ্রুপে সরব সাংস্কৃতিক মহল (Ritwick Chakraborty)
রাজনীতির এই পরিস্থিতিকে কৌতুকের মোড়কে তুলে ধরেছেন অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট কার্যত ভাইরাল হয়ে যায়। তিনি লেখেন এক কাল্পনিক ‘কুইজ শো’-এর কথা, যেখানে সব প্রশ্নের উত্তরই ভুল যেমন: “তোমরা আমায় রক্ত দাও…” ডোল্যান্ড ট্রাম, “পথের পাঁচালী কি?” গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের টেন্ডার এই রসিকতার মাধ্যমে তিনি শুধু একটি দল নয়, সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিকেই ব্যঙ্গ করেছেন, যেখানে তথ্যের সঠিকতা প্রায়ই উপেক্ষিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Dipshita Dhar: মিথ্যে বলছে দীপ্সিতা, প্রতিবাদে রাস্তায় নামল মিছিল

সংবেদনশীল সমীকরণ
বাংলা শুধুমাত্র একটি ভাষা নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক পরিচয়। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই মনীষীদের নাম, কাজ ও অবদান বাঙালির আবেগের সঙ্গে জড়িত। তাই রাজনৈতিক মঞ্চে তাঁদের নাম বা উক্তি ভুলভাবে উচ্চারিত বা ব্যাখ্যা করা হলে তা শুধুমাত্র একটি ‘ভুল’ হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকে না বরং তা সাংস্কৃতিক অসংবেদনশীলতার প্রশ্ন তোলে।



