Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইরানের আকাশে ধোঁয়া আর পারস্য উপসাগরে নৌ অবরোধের ছায়া এই সংঘাত পেরিয়ে গেল ষাট দিন। শুরুতে যেটিকে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষার পদক্ষেপ বলা হয়েছিল, তা এখন স্পষ্টতই “জিরো-সাম” যুদ্ধে পরিণত হয়েছে(West Asia War)। তেহরান থেকে ওয়াশিংটন, এমনকি ওয়াল স্ট্রিট সবখানেই এক বাস্তবতা সামনে আসছে: এই যুদ্ধে প্রায় সবাই ক্ষতিগ্রস্ত।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা জ্বালানি বাজারে (West Asia War)
সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে জ্বালানি বাজারে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তেল-গ্যাস সরবরাহে বড়সড় সংকট তৈরি হয়েছে। প্রথমে দাম বাড়ায় কিছু দেশ লাভবান হলেও, অস্থিরতা ও বীমা খরচ বেড়ে যাওয়ায় সেই লাভ টেকেনি। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্বজুড়ে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত, এশিয়ার কারখানায় উৎপাদন কমছে, আর সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ছে মূল্যস্ফীতি।
কূটনৈতিক লক্ষ্যই প্রশ্নের মুখে
অন্যদিকে, এই যুদ্ধের একটি বড় উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক শক্তি অর্জন থেকে বিরত রাখা। কিন্তু বাস্তবে চাপ বাড়ার ফলে তেহরান আরও দ্রুত পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নিতে পারে এমন আশঙ্কাই বাড়ছে। ফলে কূটনৈতিক লক্ষ্যই প্রশ্নের মুখে।
পশ্চিমী দেশগুলিতেও চাপ বাড়ছে (West Asia War)
পশ্চিমী দেশগুলোর ভিতরেও চাপ বাড়ছে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, বাড়তি সামরিক ব্যয় এবং স্পষ্ট কৌশলের অভাবে রাজনৈতিক সমর্থন কমছে। একই সঙ্গে ইরানের ভেতরে “র্যালি-অ্যারাউন্ড-দ্য-ফ্ল্যাগ” প্রভাব দেখা যাচ্ছে বাহ্যিক চাপ বরং কঠোর অবস্থানকে শক্তিশালী করছে।
আরও পড়ুন: Cell Broadcast: ভারতের জননিরাপত্তা প্রযুক্তিতে বড় পদক্ষেপ: সেল ব্রডকাস্ট অ্যালার্ট সিস্টেম
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গভীর প্রভাব (West Asia War)
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও এর প্রভাব গভীর। কিছু দেশ পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইলেও দীর্ঘমেয়াদে অস্থিরতা বাণিজ্য ও অবকাঠামো প্রকল্পকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনও দুর্বল হয়ে পড়ছে, কারণ সংঘাত থামাতে বৈশ্বিক সংস্থাগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।ষাট দিনে একটি বিষয় পরিষ্কার এখানে কোনও বিজয়ী নেই। বরং ক্ষতি ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে, আর তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।



