Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে এক মরশুমে ২০টি ম্যাচ বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে (IPL)।
আইপিএল-এ বাড়ছে ম্যাচ সংখ্যা (IPL)
আইপিএল ভক্তদের জন্য সুখবর হলেও ক্রিকেট ভক্তদের জন্য কতটা সুখবর সেটা সময় বলবে। কারণ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এমন এক সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে যেখানে পক্ষে বিপক্ষে দুই মত তৈরি হতে পারে ভবিষ্যতে। ক্রিকেট দুনিয়ায় সবথেকে জনপ্রিয় এবং ধনী লিগ আইপিএল। সেখানেই ২০২৮ সাল থেকে বাড়তে চলেছে ম্যাচের সংখ্যা। ২০২৮ সালের মিডিয়া রাইটস সাইকেল থেকে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ম্যাচ সংখ্যা বেড়ে হতে চলেছে ৯৪টি। এমনটাই পরিকল্পনা করছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। পূর্ব পরিচিত ডাবল-লেগড রাউন্ড-রবিন ফরম্যাটে ফিরবে বোর্ড (IPL)।
আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমল জানিয়েছেন আইপিএল-এ ম্যাচ সংখ্যা বাড়লেও দলের সংজ্ঞা বাড়বে না। এখনও যেমন ১০টি দল খেলছে তখনও খেলবে ১০টি দলই। এমন সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে ধুমল জানিয়েছেন দলের সংখ্যা এখনই বাড়ালে ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিভার ঘাটতি দেখা যেতে পারে এবং টুর্নামেন্টের গুণমান ধরে রাখাও কঠিন হতে পারে।
বর্তমানে ১০টি দল নিয়ে টুর্নামেন্ট চললেও প্রতিটা দল একে অন্যের বিরুদ্ধে দুইবার করে খেলার সুযোগ পায় না। ৯৪ ম্যাচ খেলা হলে একে অপরের বিরুদ্ধে হোম এবং অ্যাওয়ে ভিত্তিতে দুইবার করে সুযোগ পাবে খেলার (IPL)।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমান ফরম্যাটে আইপিএল-এর মাঝামাঝি দর্শকদের আগ্রহ এবং সংখ্যা কমে যায় প্রায় ১৫-২০ শতাংশ। সাধারণ ভক্তদের কাছে জটিল গ্রুপ ভিত্তিক পয়েন্ট টেবিল শক্ত মনে হয় কিছুটা। এছাড়াও সব দলের বিরুদ্ধে হোম ও অ্যাওয়ে ফরম্যাটে খেলতে না পারায় দ্বিধা তৈরি হয় সমর্থকদের মধ্যে আর সেই কারণে ফুটবল লিগগুলি অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয় স্বচ্ছ এবং এবং একক পয়েন্ট টেবিলের জন্য। অন্যদিকে এই ফরম্যাটে খেলা হলে সব দল সবার বিরুদ্ধে দুইবার করে মুখোমুখি হলে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব সমান থাকবে এবং ব্রডকাস্টারদের আয় বাড়বে (IPL)।

তবে এই ফরমেট শুরুর আগে বাধাও রয়েছে। প্রধান বাধা হবে আইসিসি-র ট্যুর প্ল্যান। সেখানে ২০২৭ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচি আগে থেকেই নির্ধারিত রয়েছে। সেই ক্যালেন্ডারে ৬০-৬৫ দিনের উইন্ডো পাওয়া যাবে আর ৯৪ ম্যাচ খেলতে গেলে দুই থেকে আড়াই মাস সময় লাগবে। তাই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড চাইছে ২০২৭ সালের পর যে উইন্ডো পাওয়া যাবে সেখানে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে (IPL)।
এতে আইপিএল-এর প্রচার বা জনপ্রিয়তা বাড়বে ঠিকই কিন্তু ক্রিকেটের মান পড়ে যাওয়ার একটা ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। চলতি আইপিএল-এর উদাহরণ টেনে যদি দেখা তবে ভারতের দুই তারকা বোলার বুমরা এবং অর্শদীপ নিজেদের সেরা ছন্দে নেই। তাঁরা এমন লাইন লেংথ ভুল করছে যা একপ্রকার অবিশ্বাস্য। তাঁদের এই পারফরম্যান্স নিয়ে অনেকেই কথা বলছেন। অনেকের মতে তাঁদের মধ্যে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। সারা বছর ধরে এখন ক্রিকেটাররা খেলে বেড়ান নানান আইসিসি টুর্নামেন্টে আর যার কারণে ফ্রেস মাইন্ডে নামতে পারেন না। সেখানে আইপিএল-এর এতগুলো ম্যাচ খেলার পর আইসিসি-র গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থেকে যাবে।
আইপিএল মানেই বিদেশি তারকাদের ভিড় আর তাঁদের ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনা। কিন্তু চলতি আইপিএল-এ একাধিক বিদেশি প্লেয়ারদের নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে দলকে। অনেক প্লেয়ার চোটের কারণে প্রথমদিকের অনেক ম্যাচ মিস করেছেন আবার কেউ মাঝপথে ছেড়ে চলে গেছেন।
আরও পড়ুন: Visva Bharati: ঝালমুড়ি হাতে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান, মুচলেকা চাইল কলেজ কর্তৃপক্ষ
অনেকে আবার পুরো টুর্নামেন্টেই বাইরে থেকেছেন। যদি নাইট রাইডার্স দলের পাথিরানার উদাহরণ দেখা যায় তবে দেহ যাবে শুরুর দিকে চোটের কারণে শিবিরে যোগ দিতে পারেননি। এরপর সুস্থ হলে লঙ্কান বোর্ড ছাড়পত্র দেয়নি। অবশেষে শিবিরে যোগ দিলেও ম্যাচ খেলেননি একটিও। বাকি আর তিন চারটে ম্যাচ যদি খেলেনও এবং সেগুলো সব জিতে কলকাতা প্লে-অফে পৌঁছায় সেখানে লঙ্কান তারকাদের খেলার সম্ভাবনা আবার নেই বললেই চলে কারণ সেই সময় শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলের সিরিজ রয়েছে (IPL)।
এত দিন ধরে একটা টুর্নামেন্ট চলা মানে কোথাও গিয়ে সমর্থকদের মধ্যেও দেখা দেবে ক্লান্তি। কারণ আগে একটা সময় নির্দিষ্ট সংখ্যক ম্যাচ হত কিন্তু এখন সেটা সারাবছর হওয়ার কারণে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা কমতে পারে। সেক্ষত্রে সবথেকে বেশি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকছে টেস্ট ক্রিকেটে (IPL)।
ক্লিক বেটের যুগে এখন দর্শকরা সীমিত ওভারের খেলায় মজেছে বেশি আর সেখানে টেস্ট দেখার ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা কমছে। এমনকি সেই একই মানসিকতা দেখা যাচ্ছে প্লেয়ারদের মধ্যেও। কোথাও গিয়ে তাঁদের মধ্যেও চটজলদি খেলার এক প্রবণতা তৈরি হচ্ছে তেমন টেস্ট খেলার মানসিকতা হারিয়ে যাচ্ছে। এখন দেখার আইপিএল-এ এই ফরম্যাট শুরু হলে এই দিকগুলি কীভাবে সামলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এবং প্লেয়াররা (IPL)।


