Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হিমালয়ে নতুন করে লেখা হল এভারেস্ট জয়ের ইতিহাস। বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে একই দিনে নজির গড়লেন দুই কিংবদন্তি শেরপা কামি রিতা শেরপা ও লাখপা শেরপা(Everest Sherpa)।
পরপর রেকর্ড ২ সহযাত্রীর (Everest Sherpa)
কামি রিতা ৩২তম বারের মতো মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে নিজেরই বিশ্বরেকর্ড ভাঙলেন। অন্যদিকে লাখপা শেরপা ১১তমবার শীর্ষে পৌঁছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি এভারেস্টজয়ী নারী হিসেবে নিজের অবস্থান আরও পোক্ত করলেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ তাদের এই সাফল্যকে “অদম্য সাহস ও কঠোর আত্মনিয়ন্ত্রণের উদাহরণ” বলে উল্লেখ করেছেন।
শেরপারাই অভিযানের শিরদাঁড়া
এই দুই অর্জন শুধু সংখ্যার খেলা নয় এর পিছনে রয়েছে শেরপা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের অদৃশ্য শ্রমের ইতিহাস। প্রায় এক শতাব্দী ধরে বিদেশি পর্বতারোহীদের সাফল্যের আড়ালে শেরপারাই ছিলেন অভিযানের আসল ভরসা। রশি বাঁধা, অক্সিজেন বহন ও বিপজ্জনক পথ তৈরি করার দায়িত্ব ছিল তাদের কাঁধে। অথচ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি খুব কমই মিলেছে।
ডোকো নিয়েই বেস ক্যাম্পে
সোলুখুম্বু অঞ্চলের এক পর্বতারোহী পরিবারে জন্ম কামি রিতার। ১৯৯৪ সালে প্রথম এভারেস্ট জয়ের পর থেকে তিনি যেন থামতেই জানেন না। অন্যদিকে লাখপা শেরপার জীবন সংগ্রামের গল্পও কম নাটকীয় নয়। কৈশোরে তিনি ‘ডোকো’ নামের ঐতিহ্যবাহী বাঁশের ঝুড়ি কপালে বেঁধে মালবাহকের কাজ করতেন। এবারের অভিযানে সেই ডোকো নিয়েই বেস ক্যাম্প পর্যন্ত হেঁটে গিয়ে নিজের শিকড়কে সম্মান জানান তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনেও কঠিন লড়াই (Everest Sherpa)
এভারেস্টজয়ের পাশাপাশি লাখপা ব্যক্তিগত জীবনেও কঠিন লড়াই করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে একসময় তিনি সুপারমার্কেটে বাসন ধোয়ার কাজ করে সন্তানদের মানুষ করেছেন এবং অপমানজনক বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে নতুন জীবন গড়েছেন।
আরও পড়ুন: Norway Honour: নরওয়ের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান মোদিকে: রাজার হাত থেকে নিলেন পুরস্কার
২ লড়াকুর শৃঙ্গজয় (Everest Sherpa)
এবারের এভারেস্ট মরসুমে হিমবাহ ভেঙে পথ বন্ধ হওয়া ও তীব্র ভিড়ের মত নানা সমস্যা থাকলেও কামি রিতা ও লাখপা ছিলেন শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী। তাদের এই সাফল্য মনে করিয়ে দেয় এভারেস্টে উঠতে অর্থ প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু পাহাড়কে সত্যিকারের জয় করতে লাগে অভিজ্ঞতা, সহনশীলতা ও নিজের শিকড়ের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক।



