Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কারখানার অতিরিক্ত ক্রেসার মেশিনের দূষণে কার্যত নরককুণ্ডে পরিণত হয়েছে এলাকা। দূষণের জেরে নাজেহাল দশা সাধারণ মানুষের (West Bengal)। এরই প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে ক্রেসার সরানোর দাবিতে সাতসকালেই বিজেপির ঝান্ডা হাতে কারখানার গেটের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন দেন্দুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মহেশপুরের গ্রামবাসীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় সালানপুরের রামদূত মেটলয়েস প্রাইভেট লিমিটেড কারখানা চত্বরে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে (West Bengal)
কারখানার এই মারাত্মক দূষণের বিরুদ্ধে গত ১৮ই এপ্রিল কারখানার গেটের সামনে সরব হয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। সেই সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্রামবাসী, পুলিশ এবং পঞ্চায়েত প্রধানের সঙ্গে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে বসে কারখানা কর্তৃপক্ষ। সেই বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, ক্ষতিকারক ক্রেসারটি দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে। ক্ষুদ্ধ এক আন্দোলনকারী জানান বৈঠকে ক্রেসার সরানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাজ্যে সরকার বদল এবং নির্বাচন মিটতেই ভোল বদলে ফেলে কারখানা কর্তৃপক্ষ। হুট করেই ফের চালু করে দেওয়া হয় সেই দূষণকারী ক্রেসার।”
ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা (West Bengal)
নির্বাচনের পর আচমকা কারখানা কর্তৃপক্ষ ওই ক্রেসারটি পুনরায় চালু করে দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা। গ্রামের ওপর দূষণের মাত্রা আগের চেয়ে আরও বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই আজ সকাল সকাল গ্রামবাসীরা রাজনৈতিক পতাকা হাতে আন্দোলনে নামেন। কারখানার গেটে বিক্ষোভের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সালানপুর থানার অন্তর্গত কল্যাণেশ্বরী ফাঁড়ির বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। উত্তেজিত গ্রামবাসীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর আগামী সোমবার পর্যন্ত সময় চেয়ে নেয় কল্যাণেশ্বরী ফাঁড়ির পুলিশ।

পুলিশ আশ্বস্ত করেছে (West Bengal)
সোমবারের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ করার চেষ্টা করা হবে। পুলিশের এই সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের পর এবং প্রশাসনের ওপর আস্থা রেখে আপাতত এদিনের মতো বিক্ষোভ তুলে নেন মহেশপুরের বাসিন্দারা। তবে গ্রামবাসীদের সাফ হুঁশিয়ারি, সোমবারের মধ্যে যদি সমস্যা স্থায়ী সমাধান না হয় তবে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তারা।
সাতসকালেই উত্তপ্ত সালানপুর (West Bengal)
সকাল থেকেই উত্তপ্ত সালানপুর ব্লকের দেন্দুয়া কল্যাণেশ্বরী এলাকা। সেখানকার এলকুয়েন্ট স্টিল প্রাইভেট লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা শুক্রবার সকাল থেকেই কাজে যোগ না দিয়ে জোরদার বিক্ষোভ শুরু করেছেন। তবে কারখানার মূল গেটে নয়, কারখানায় প্রবেশের মূল রাস্তার সামনেই চলে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি। আন্দোলনের জেরে আজ বহু শ্রমিক কাজে যোগ দেননি,যার ফলে কারখানার স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়েছে বলে খবর।দীর্ঘদিনের শোষণের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন শ্রমিকরা।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের অভিযোগ
বছরের পর বছর ধরে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের ওপর শোষণ চালিয়ে আসছে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। রাজ্যে পালা বদলের পরই শ্রমিকরা তাদের হকের দাবিতে একজোট হয়েছেন। আন্দোলন কারী শ্রমিকদের মূল অভিযোগ হলো কাজের যোগ্যতা ও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিকদের নির্ধারিত ন্যূনতম বেতন দেওয়া হয় না।নিয়ম মেনে ৮ ঘণ্টা কাজ করানোর পরিবর্তে, শ্রমিকদের দিয়ে দৈনিক ১২ ঘণ্টা করে কাজ করানো হচ্ছে।কারখানার ভেতরে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কোনো সুষ্ঠু পরিকাঠামো বা ব্যবস্থা নেই।

শ্রমিকরা জানান (West Bengal)
এই সমস্ত দাবি-দাওয়া নিয়ে গত এক সপ্তাহ আগে তারা গঙ্গা জল হাতে নিয়ে কারখানার সামনে এক অভিনব বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন। সেই সময় কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিবেচনার জন্য ৭ দিনের সময় চেয়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, নির্ধারিত ৭ দিন পেরিয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনো সদর্থক সাড়া বা জবাব মেলেনি। ফলস্বরূপ, আজ পুনরায় কাজে যোগ না দিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলনে শামিল হন শ্রমিকরা।
তাদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি (West Bengal)
অবিলম্বে সমস্ত দাবি না মানা হলে আগামীদিনে এই আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার ধারণ করবে। আজকেরও এই আন্দোলনের নেতৃত্বদেন স্থানীয় আন্দোলনকারী নেতা অমর মাহাতো। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, এই কারখানা গুলিতে এতদিন সিন্ডিকেট রাজ চলেছে। প্রচুর শ্রমিকের শোষণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: RG Kar Case: আরজি কর কাণ্ডে ফের বড় পদক্ষেপ! ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নতুন সিট গঠন
প্রশাসনের পদক্ষেপ কি হবে?
নির্বাচনের আগে বিজেপির জয়ী বিধায়ক শ্রমিকদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে তাদের হকের লড়াইয়ে তিনি পাশে থাকবেন। তাই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরই শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার বুঝে নিতে এই আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন। এখন দেখার, শ্রমিকদের এই দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমনে এবং কারখানার অচলাবস্থা কাটাতে কারখানা কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।



