Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
প্রতিবেদন:গোপাল শীল, কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নদী বাঁধের ভিতরে মাটি বা বালির বদলে স্তরে স্তরে সাজানো হয়েছিল শুধু ফাঁকা বস্তা। তার ওপর সামান্য মাটির প্রলেপ চাপা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল গোটা কারচুপি(River Embankment)।
ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র(River Embankment)
জোয়ারের জলের ধাক্কায় মাটি সরে যেতেই সামনে আসে ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র। এই ঘটনাকে ঘিরে শুক্রবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা ব্লকের রাজনগর এলাকা।
নজিরবিহীন জালিয়াতি
চিনাই নদীর পাড়ে প্রায় ৫০০ মিটার নদী বাঁধ মেরামতের কাজে হয়েছে নজিরবিহীন জালিয়াতি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত সেচ দপ্তরের কিছু আধিকারিক, ঠিকাদার সংস্থা এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ।

সম্পূর্ণ ফাঁকা বস্তা ব্যবহার
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী নদী বাঁধ মেরামতের সময় বস্তার মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ মাটি বা বালি ভরে পাইলিং করা হয়। কিন্তু এখানে খরচ বাঁচাতে সম্পূর্ণ ফাঁকা বস্তা ব্যবহার করা হয়েছে। তার ওপর কেবল মাটির আস্তরণ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় তিন মাস আগে হওয়া সেই কাজের আসল চেহারা সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে।
বাঁধে বস্তা স্তূপ করে বিক্ষোভ
শুক্রবার কয়েকশো গ্রামবাসী হুজাইতের খেয়াঘাট সংলগ্ন নদী বাঁধের নিচের অংশ থেকে শতাধিক ফাঁকা বস্তা টেনে বের করেন। পরে সেই বস্তাগুলি বাঁধের ওপর স্তূপ করে রেখে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।
দুর্নীতি আড়াল করার চেষ্টা
স্থানীয় বাসিন্দা মৌমিতা দাসের অভিযোগ, “আমরা স্থানীয় মানুষ কাজের সময় অনিয়মের প্রতিবাদ করেছিলাম। কিন্তু তৃণমূলের নেতারা ভয় দেখিয়ে আমাদের চুপ করিয়ে দেয়। নিজেদের লোক দিয়ে কাজ করিয়ে পুরো দুর্নীতিটা আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে।”
ম্যানগ্রোভ রোপণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ
আর এক বাসিন্দা ধীরেন দেবনাথ জানান, নদী বাঁধ এলাকায় ‘ম্যানগ্রোভ প্ল্যান্টেশন’-এর সরকারি বোর্ড লাগানো থাকলেও বাস্তবে সেখানে কোনও ম্যানগ্রোভ রোপণ করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, “সরকারি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অথচ এই বাঁধ ভেঙে গেলে নোনা জল ঢুকে কয়েক হাজার মানুষের ঘরবাড়ি ও চাষের জমি নষ্ট হয়ে যাবে।”
কৃষকদেরও ক্ষোভ
ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষকরাও। স্থানীয় বাসিন্দা অমল দাস বলেন, “এই বাঁধের পাশেই আমাদের চাষের জমি। দুর্নীতির জন্য যদি বাঁধ ভেঙে যায়, তাহলে আমাদের পথে বসতে হবে।”
উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু (River Embankment)
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করতে হবে। পাশাপাশি যে ঠিকাদার সংস্থা এই কাজ করেছে এবং যেসব আধিকারিক এর সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।
আরও পড়ুন: Ayushman Bharat: কেন্দ্রের আর্থিক অনুমোদন: জুলাই থেকেই রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’
স্থায়ী কংক্রিটের নদী বাঁধ নির্মাণের দাবি (River Embankment)
অস্থায়ী মেরামতের বদলে স্থায়ী কংক্রিটের নদী বাঁধ নির্মাণের দাবিতেও সরব হয়েছেন স্থানীয় মানুষ। তাঁদের বক্তব্য, দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ উপায়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণ না হলে ভবিষ্যতে বড়সড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকেই যাবে।



