Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফুটবল হোক বা ক্রিকেট প্রতিটা দেশের পরিচয় বহন করে তাঁদের নির্দিষ্ট রঙের জার্সি (FIFA World Cup)।
জার্সির রং যখন দেশের পরিচয় (FIFA World Cup)
ইউনিফর্ম-এর সঙ্গে আমাদের পরিচয় ঘটে যায় ছোটবেলায়। সেই সময় স্কুলে যাওয়ার সময় থেকেই একই রকম জামা পরার অভ্যেস তৈরি হয়ে যায় যদিও সেই ছোটবেলায় বেশি ঝোঁক থাকে রঙিন পোশাকের দিকে। তবে যতদিন যেতে থাকে বুঝতে পারি কেন ইউনিফর্ম-এর প্রয়োজন। ইউনিফর্ম সেই নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচয় বহন করে এছাড়াও যে আর্থসামাজিক কারণ সেই প্রসঙ্গ এখানে থাকে। স্কুল ছাড়াও আর বিশেষ কিছু পেশায়ও দেখা যায় একই রকম জামা প্যান্ট বা পোশাক। ঠিক তেমনভাবেই কোনও দেশের দল যখন নিজের দেশকে বিশ্ব মঞ্চে প্রতনিধিত্ব করে সেখানেও তাঁদের পড়তে হয় একই পোশাক আর খেলার ক্ষেত্রে সেটা জার্সি বলেই পরিচিত (FIFA World Cup)।
সেই জার্সি দেখলেই আমরা চিনে নিতে পারি আমাদের পছন্দের দলকে আবার দুই দলের জার্সি যাতে আলাদা হয় সেই দিকেও নজর রাখা হয় নাহলে সিম সাইদের ভয় প্রবল। আর সেখানে নায়ক যেকোন সময় খলনায়ক হয়ে যাবেন। তবে এই জার্সির পিছনে থাকে গভীর অর্থ আবার থাকে সেই দেশের ঐতিহাসিক গৌরব। বিশ্বকাপের জার্সি নিয়ে ছোট্ট ট্রিভিয়া। তবে হোম এবং অ্যাওয়ে ম্যাচের জার্সি আলাদা।

জার্মানি
জার্মানি দল বিশ্ব ফুটবলে অন্যতম জনপ্রিয় দলগুলির মধ্যে একটি। তাঁদের জাতীয় পতাকায় তিনটি রং রয়েছে কালো, লাল এবং হলুদ কিন্তু তাঁদের দলের জার্সি কেন সাদা হয় জানেন? পতাকায় না থাকা রং কেন জার্সিতে? সেই কারণ সম্পর্কে আসুন জেনে নিয়ে দু চার কথা।
জার্মানির সাদা রঙের জার্সি পড়ে খেলার পিছনে রয়েছে এক অন্য ইতিহাস। এই দেশে প্রুশিয়া নামের একটি প্রদেশ রয়েছে আর এই প্রদেশটি অবস্থিতি রাশিয়া এবং ফ্রান্সের সীমান্তে। এই প্রদেশ জার্মানির অধীনে আর সেখানকার পতাকার রং সাদা। অতীতে সেই পতাকার মাঝে একটি কালো রঙের ক্রস আঁকা থাকত পরে সেটা বদলে হয়ে যায় কালো রঙের ঈগল। জার্মানির ফুটবল দলের লোগোতেও দেখা যায় এই ঈগল। প্রসঙ্গত দু’দশক পরে প্রুশিয়া সাম্রাজ্যের পতন হলেও জার্সির রং বদল হয়নি। আজও জার্মানির জার্সি সেই ইতিহাস যেন বয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
এবারে জার্মানির জার্সি বিশেষ কারণে ঐতিহাসিক হয়ে থাকতে চলেছে কারণ এই বছর তাঁরা বিদায় জানাচ্ছে অ্যাডিডাসকে। নস্টালজিয়ায় ভরা শেষ কিট হতে চলেছে এবার। দীর্ঘ ৭০ বছরের সম্পর্কের ইতি টানতে চলেছে জার্মানি এবং এই সংস্থা। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে আবারও দেখা যেতে চলেছে ৯০ দশকের জনপ্রিয় জ্যামিতিক নকশা। একটা যুগের স্মারক হিসেবে শেষবারের মত মাঠে নামতে চলেছে ‘ডি মানশ্যাফট (FIFA World Cup)।’
ব্রাজিল
বিশ্বকাপ মাতিয়ে দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে আগে যে দেশের নাম আসে তার মধ্যে অনায়াসে ব্রাজিলকে রাখা যায়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন সোনালী অধ্যায় খুব কম দলেরই রয়েছে পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতেছে এই দল। হলুদ জার্সিতে মাঠ কাঁপাতে দেখা গেছে পেলে, রোনাল্ডো, কাকা, কাফু, নেইমারদের। তবে জানেন ব্রাজিলের জার্সির রং কেন হলুদ?
সাম্বা ব্রিগেডের জার্সির রঙের পিছনেও রয়েছে এক কাহিনী। ১৯১৪ থী আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলছে এই দেশ। তবে ব্রাজিলের জার্সির রং প্রথমে হলুদ ছিল না। সেই সময় তাঁদেরও জার্সির রং ছিল সাদা। সেই সাদা জার্সির কলার এবং হাতের বর্ডার ছিল নীল রঙের। তবে বদল আসে ১৯৫০ সালে।

এই বদলের পিছনে রয়েছে হার। হ্যাঁ! ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে নিজেদের ঘরের মাঠে মারাকানায় উরুগুয়ের কাছে হারতে হয়েছিল ব্রাজিলকে। তারপর থেকেই দাবি ওঠে জার্সি পরিবর্তনের। এরপর থেকেই শুরু হয় জার্সির রং কেমন হবে এবং তার ডিজাইন কেমন হবে সেই নিয়ে আলোচনা। ১৯৫৫ বিশ্বকাপের থেকে নতুন জার্সিতে দেখা যায় ব্রাজিল দলকে। আজও সেই একই ট্রেডিশন মেনে চলেছে সাম্বা ব্রিগেড (FIFA World Cup)।
আর্জেন্টিনা
ব্রাজিল বললেই অনেকে বলবে আর্জেন্টিনা। এই দুই দেশের এমন দ্বৈরথ আসলে বেশিরভাগটাই পেলে এবং মারাদোনাকে কেন্দ্র করে। তিনবারের বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনার নতুন জার্সিতে থাকছে তিন বিশ্বকাপ জয়ের রঙিন স্মৃতি। শেষ বিশ্বকাপে মেসির হাত ধরে বিশ্বসেরার শিরোপা উঠেছিল আর্জেন্টিনার মুকুটে।

এবার বিশ্বকাপ তাঁরা শুরু করতে চলেছেন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। বর্তমান জার্সিতে থাকছে তিনটি আকাশি নীল শেড। যেখানে ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ সালের তিন বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি বহন করবে। এই কিটে রয়েছে আবেগ এবং ঐতিহ্য (FIFA World Cup)।
মেক্সিকো
আসন্ন বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকো। এবার সেই দেশের জার্সিতে থাকছে বিশেষ চমক। মেক্সিকোর নতুন জার্সিতে থাকতে চলেছে আজটেক নকশা এবং ঈগলের প্রতীক। ১৯৯৮ সালের কিংবদন্তি ডিজাইন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি এবারের জার্সি। এই জার্সি ইতিমধ্যেই পেয়েছে ‘আধুনিক ক্লাসিক’-এর তকমা।
কলম্বিয়া
এবার এই দেশের ফুটবল জার্সির সঙ্গে যোগ থাকতে চলেছে সাহিত্যের। উজ্জ্বল হলুদ বেসে প্রজাপতির ছায়া কলম্বিয়ার নতুন জার্সি শ্রদ্ধা নিবেদন করবে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের সাহিত্যজগতের প্রতি। প্রজাপতি মানে নতুন আশা, আর সেই আসার প্রতীক জার্সিতে ব্যবহার শৈল্পিক এবং নান্দনিক (FIFA World Cup)।
স্পেন
ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনের নতুন কিটে লাল-হলুদের সঙ্গে ফিরেছে গাঢ় নীল হাতা ও সূক্ষ্ম উল্লম্ব পিনস্ট্রাইপ। এবারের স্পেনের জার্সিতে জাঁকজমক নেই তবে সহজ এবং সরল নকশায় থাকছে ক্লাসিক লুক।
মেক্সিকো ও জাপানের ডিজাইন
বিশ্বকাপ ঘিরে উন্মাদনার ভেতরে অ্যাডিডাসের এই নতুন কিট সিরিজে মেক্সিকো ও জাপানের ডিজাইন এখন বিশ্বকাপের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দু’দলের কিটকেই বলা হচ্ছে এবারের ‘হাই-ফ্যাশন ফুটবল আর্মার’।
সুইডেন
থ্রি স্ট্রাইপস সুইডেনের ক্লাসিক হলুদ ও নীল রঙকে ৭০-এর দশকের রেট্রো লুক ধরা পড়বে। এই জার্সি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে সূক্ষ টোনাল গ্রাফিক। যা অনুপ্রাণিত হয়েছে ডেনিম এবং ঐতিহ্যবাহী সুইডিশ ফোক ড্রেসের ফুলের সেলাই থেকে। এর পাশাপাশি এই দেশের জার্সিতে দেখা যাবে টাইপোগ্রাফিও (FIFA World Cup)।
ইংল্যান্ড
ইংল্যান্ডের জার্সি তৈরি করা হয়েছে দেশের ফুটবল ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। সাদা রঙের ল্যাসিক লুক বজায় রাখা হয়েছে এই দেশের জার্সিতে। জার্সির কাপড়ের মধ্যে সূক্ষভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ইংলিশ ফুটবলের ঐতিহ্য এবং ফুটবল সংস্কৃতি।
ফ্রান্স
ফ্রান্সের জার্সি এবার প্রতিনিধীনত্ব করবে নতুন প্রজন্মের শক্তি এবং আধুনিক ফুটবলকে এক সঙ্গে। বিখ্যাত ফরাসি হাউত কুতুর ফ্যাশন থেকে অনুপ্রাণিত সাদা কলার নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেছে নীল, সাদা ও লাল রঙের ঐতিহ্য। কাপড়ের মধ্যে থাকা একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্ন এখানে বোঝাবে দলের গতি এবং প্রাণশক্তিকে (FIFA World Cup)।
পর্তুগাল
ফুটবলের জন্য পরিচিত এই দেশের অন্যতম চর্চিত তারকা রোনাল্ডো। মেসি রোনাল্ডো দ্বৈরথ দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন ফুটবলপ্রেমীরা। বিশ্ব ফুটবল এই মুহূর্তে ভাগ এই দুই তারকাকে নিয়ে। মেসি গতবার বিশ্বকাপ পেলেও রোনাল্ডোর ভাগ্যে এখনও সিঁকে ছেড়েনি তবে তাতে কী? পর্তুগালের হয়ে গলা ফাটাতে থোড়াই কেয়ার করবেন সমর্থকরা এসবের। এবারের পর্তুগালের জার্সিতে দেখা সমুদ্রের শক্তি দেখা হবে যা তাঁদের কাছে জাতীয় আবেগ। লাল ভিত্তির ওপর ঢেউ অনুপ্রাণিত নকশা এবং সবুজের ছোঁয়া দেশের সামুদ্রিক ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা বহন করবে বিশ্ব মঞ্চে।
ক্রোয়েশিয়া
ক্রোয়েশিয়ার হোম জার্সিতে ফিরে এসেছে চিরপরিচিত দেশের বিখ্যাত চেকারবোর্ড নকশা। তবে এবার সেটা তুলনামূলক ছোট ও আরও পরিশীলিত আকারে দেখা যাবে। ১৯৯০ সালের জার্সি থেকে অনুপ্রাণিত এই ডিজাইন আধুনিক ফুটবলের চাহিদা অনুযায়ী নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার ভারসাম্য রক্ষা করবে এই নতুন নকশা (FIFA World Cup)।


