Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের সামগ্রিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি গ্রাম। দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনও গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিভিত্তিক জীবিকার উপর নির্ভরশীল (Panchayat)। তাই গ্রাম ও পঞ্চায়েতের উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন ও পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ এবং জনমুখী করার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

সম্প্রতি এক বৈঠকে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, একসময় পঞ্চায়েতকে ‘পঞ্চদেব’ বা ‘পঞ্চরত্ন’ বলা হতো। বর্তমানে প্রায় ৬০ হাজার বুথ পঞ্চায়েত ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। তাঁর মতে, গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন ঘটলেই প্রকৃত অর্থে দেশের উন্নয়ন সম্ভব হবে। সেই লক্ষ্যেই পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত এবং আরও কার্যকর করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
একযোগে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন (Panchayat)
গ্রামীণ উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে একসঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— মহাত্মা গান্ধী জাতীয়, গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি স্কিম, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা, দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা – জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশন, রাষ্ট্রীয় গ্রাম স্বরাজ অভিযান, জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি, সরকারের দাবি, এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে গ্রামীণ অবকাঠামো, কর্মসংস্থান, আবাসন এবং সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্র আরও শক্তিশালী হবে।
গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় বিনিয়োগ (Panchayat)
গ্রামের সঙ্গে শহরের সংযোগ উন্নত করতে ‘প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা’-র অধীনে প্রায় ২,৭৯০ কিলোমিটার নতুন রাস্তা এবং ৪৫টি সেতু নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে মোট প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে এই অর্থ বহন করবে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা কৃষি উৎপাদন বাজারজাতকরণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে নতুন গতি (Panchayat)
দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২.৪৩ কোটি জব কার্ডধারীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রকল্পটির কাজ দ্রুতগতিতে শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারের আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন জীবিকা প্রকল্পে বছরে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান
২০২৩ সালের জুলাই মাস থেকে চালু হওয়া নতুন জীবিকা কর্মসূচি VB-G-RAM-G-এর মাধ্যমে যোগ্য জব কার্ডধারী পরিবারগুলিকে বছরে অন্তত ১২৫ দিনের মজুরিযুক্ত কর্মসংস্থান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য বছরে প্রায় ১২,৮৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
গ্রামীণ আবাসন প্রকল্পে নতুন সমীক্ষা (Panchayat)
‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ’-এর আওতায় নতুন করে সমীক্ষা শুরু হচ্ছে। যোগ্য পরিবার চিহ্নিত করার জন্য পঞ্চায়েত স্তরে সমীক্ষক দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করবে। এর মাধ্যমে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে আবাসন প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গ্রামীণ জীবিকা মিশনের আওতায় ১ লক্ষ নতুন স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য অন্তত ২০ লক্ষ ‘লাখপতি দিদি’ তৈরি করা, যাতে গ্রামের মহিলারা স্বনির্ভর হয়ে নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে পারেন।
স্বচ্ছ ভারত মিশনে বিশেষ গুরুত্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়
গ্রামীণ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এবং পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে প্রায় ২,৪৬৯.৭১ কোটি টাকার পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায়, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা, নতুন শৌচাগার নির্মাণ, গ্রামীণ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি বাস্তবায়নের উপর জোর দেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে প্রশ্নও উঠেছে। অতীতেও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল, কিন্তু বহু পঞ্চায়েতে বাস্তব কাজ শুরু হয়নি। ফলে প্রশাসনিক ব্যর্থতা, দুর্নীতি নাকি তদারকির অভাব—সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে।
DISHA কমিটির মাধ্যমে কড়া নজরদারি (Panchayat)
কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে জেলা স্তরে নিয়মিত DISHA কমিটির বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে সংশ্লিষ্ট সাংসদরা দায়িত্ব পালন করবেন। প্রকল্পের অগ্রগতি, অর্থ ব্যয় এবং বাস্তবায়নের মান পর্যবেক্ষণ করা হবে।
পঞ্চায়েতে ১১ হাজারের বেশি শূন্যপদে নিয়োগ
গ্রামীণ প্রশাসনকে শক্তিশালী করতে তিন স্তরের পঞ্চায়েতে মোট ১১,২৫৪টি শূন্যপদ পূরণের প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। এর মধ্যে প্রায় ৬,৫৩৯টি পদ গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ রাখতে অন্য রাজ্যের পরীক্ষাপরিচালনাকারী সংস্থার সাহায্য নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
গ্রামসভা বাধ্যতামূলক, উপস্থিত থাকবেন বিডিও
আগামী ৫ জুন থেকে রাজ্যের সমস্ত পঞ্চায়েতে গ্রামসভা আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সভাগুলিতে সংশ্লিষ্ট বিডিওদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ রয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, দাবি এবং উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রস্তাব সরাসরি প্রশাসনের কাছে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অচল পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান (Panchayat)
অনেক জায়গায় নির্বাচিত পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে জনরোষের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, বহু প্রধান ও জনপ্রতিনিধি এলাকায় কাজ করতে পারছেন না বা মানুষের কাছে যাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে যেখানে পঞ্চায়েত অচল হয়ে পড়বে সেখানে জেলা প্রশাসনকে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
দুর্নীতি রুখতে কর্মী বদলি ও বিশেষ অডিট (Panchayat)
পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে প্রায় ১,১০০ কর্মীকে বদলি করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, বিশেষ আর্থিক অডিট, ডিজিটাল প্রশাসনিক ব্যবস্থা, প্রকল্পভিত্তিক পর্যবেক্ষণ, আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: Councillor Arrested: শ্লীলতাহানি ও মারধরের অভিযোগ, গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর
চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবনা
বর্তমানে প্রায় ৯০ হাজার চুক্তিভিত্তিক কর্মী বিভিন্ন পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করছেন। তাদের ভবিষ্যৎ ও কর্মসংস্থান নিয়ে সরকার ইতিবাচকভাবে ভাবছে বলে জানানো হয়েছে। যদিও আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং পূর্ববর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছে।



