Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রতিবেদন ত্রয়ণ চক্রবর্তী: রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে কি ক্রমশ আরও বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)? মন্ত্রীসভা গঠনের সময় যেমন আরএসএস-ঘনিষ্ঠ নেতাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তেমনি এবার দফতর বণ্টনের পর সেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী দপ্তরগুলির অধিকাংশই আরএসএসের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত নেতাদের হাতে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংঘের প্রভাব আরও সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
-6803310ed4509.jpg)
শিক্ষা দপ্তরে সংঘপন্থীদের আধিপত্য (RSS)
নতুন দফতর বণ্টনের অন্যতম আলোচিত বিষয় হল শিক্ষা দফতর। এখন পর্যন্ত যাঁরা শিক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকেরই আরএসএসের সঙ্গে দীর্ঘ সাংগঠনিক সম্পর্ক রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। শিক্ষা একটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। সেই কারণে শিক্ষা নীতি, পাঠ্যক্রম, সাংস্কৃতিক চেতনা এবং জাতীয়তাবাদী মূল্যবোধের প্রশ্নে আরএসএসের দীর্ঘদিনের অবস্থানকে সামনে রেখে এই নিয়োগকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
অর্থ, কৃষি ও ভূমি রাজস্বেও আরএসএস-ঘনিষ্ঠদের দখল (RSS)
শুধু শিক্ষা নয়, রাজ্যের অর্থনীতি ও প্রশাসনের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরও গিয়েছে সংঘ-ঘনিষ্ঠ নেতাদের হাতে। অর্থ দফতর, কৃষি দফতর, ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতর, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত বা সংঘের আদর্শে দীর্ঘদিন কাজ করা নেতাদেরই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে দাবি উঠছে। এই দফতরগুলির মাধ্যমে সরাসরি রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, কৃষি নীতি, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কাঠামো পরিচালিত হয়। ফলে এসব দফতরে সংঘপন্থী নেতাদের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্যই সংঘপন্থী (RSS)
নতুন মন্ত্রিসভার গঠন বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, ১৯ জন পূর্ণমন্ত্রীর মধ্যে অন্তত ১৪ জনেরই আরএসএসের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে বলে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি। এই সংখ্যাটা শুধু সাংগঠনিক প্রভাবের দিক থেকেই নয়, নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য যদি একই আদর্শিক পটভূমি থেকে উঠে আসেন, তাহলে সরকারের সামগ্রিক নীতি নির্ধারণেও সেই মতাদর্শের প্রভাব প্রতিফলিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের সংখ্যা সীমিত (RSS)
অন্যদিকে, মন্ত্রিসভার বাকি পাঁচজন সদস্য এমন নেতা যাঁরা পূর্বে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে বিজেপিতে যোগ দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বিজেপি নেতৃত্ব মূলত তাদের পুরনো আদর্শিক ও সাংগঠনিক ভিত্তির উপরই ভরসা রেখেছে। ফলে অন্য দল থেকে আসা নেতাদের উপস্থিতি থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে রয়েছেন দীর্ঘদিনের সংঘপন্থী কর্মীরাই।
প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যেও একই প্রবণতা (RSS)
শুধু পূর্ণমন্ত্রী নয়, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং সাধারণ প্রতিমন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনজন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯ জন প্রতিমন্ত্রীর অধিকাংশই অতীতে আরএসএস বা তার বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। ফলে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরেই সংঘের সাংগঠনিক প্রভাব বিস্তৃত হয়েছে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের।

আরও পড়ুন : Durga Puja 2026: দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার ভাবনা বিজেপির
সরকারের উপর সংঘের প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্ক
আরএসএস নিজেকে একটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন হিসেবে দাবি করলেও, দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির আদর্শিক উৎস হিসেবে তাকে দেখা হয়। সেই কারণে মন্ত্রিসভা ও দফতর বণ্টনে সংঘ-ঘনিষ্ঠ নেতাদের প্রাধান্য পাওয়ায় সরকারের উপর আরএসএসের প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমর্থকদের মতে, দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও আদর্শিক প্রতিশ্রুতির কারণেই এসব নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, এর ফলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং বহুমাত্রিক রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।



