Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপের বড় অঘটন বলা যায় এই ম্যাচকে। স্পেন যে নিজেদের প্রথম ম্যাচ ড্র করবে সেটা কেউ ভাবতেও পারেনি (Spain vs Capo Verde)।
সুযোগ পেয়েও লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ স্পেন (Spain vs Capo Verde)
সালটা ১৯৩৬, স্প্যানিশ ডানপন্থী সামরিক কর্মাকর্তাদের বিদ্রোহের মাধ্যমে শুরু গৃহযুদ্ধ আর সেটা ছড়িয়ে পড়ে পুরো স্পেন জুড়ে। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ থেকে জেনারেল ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কো একটি বার্তা সম্প্রচার করে সকল সেনা কর্মকর্তাকে এই বিদ্রোহে যোগ দেওয়ার জন্য এবং স্পেনের সরকারকে উৎখাত করার ডাক দেন। যা হোক দিনটা ছিল ১৭ জুলাই আর সেদিন থেকে গৃহযুদ্ধের শুরু। কাট টু ২০২৬, তবে দিনটা ১৭ নয় ১৫ আর আজ থেকে শুরু আরেক যুদ্ধ তবে এটা গৃহযুদ্ধ নয় এই যুদ্ধ ফুটবল মাঠে বিশ্বকাপের (Spain vs Capo Verde)।
পাবলো পিকাসো এবং সালভাদর দালির মতো চিত্রকরের নাম বিশ্বে প্রায় সকলের জানা। এই দুই বিখ্যাত মানুষের জন্য এই স্পেনেই। তবে শুধু শিল্প নয় ফুটবলের জন্য বিখ্যাত স্পেন। বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হিসেবে স্পেনকেই মনে করছেন অনেকে। আজকের ম্যাচে স্পেনের মুখোমুখি যে দেশ সেই দেশের দূরত্ব স্পেনের উপকূল থেকে খুব বেশি নয়। আবার পর্তুগাল থেকে আরও কম। সেই দেশ তথা কেপ ভার্দে এবার বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠ মঞ্চে। প্রথম লড়াইতে তাঁরা মুখোমুখি হল প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে (Spain vs Capo Verde)। তবে এই ম্যাচে সেই শৈল্পিক স্পেনকে মিস করল সমর্থকরা।
ধারে-ভারে-ফুটবল সংস্কৃতিতে স্পেনের সঙ্গে দূর দূরান্ত পর্যন্ত কেপ ভার্দের তুলনাই হয় না বললে চলে। লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের যা সাম্প্রতিক ফর্ম, তাতে অঘটনের পক্ষে বাজি ধরার মতো লোক আজকের বিপক্ষে ছিল না বললেই চলে। তবু সেই অঘটন ঘটল কারণ যে ম্যাচ হেসে খেলে জেতার কথা সেই ম্যাচ ড্র করে ফিরলেন স্প্যানিশরা। তবে এই ম্যাচ অনেক বেশি ছিল স্পেনের নিজেদের সঙ্গে। ২০১০ সালে ইনিয়েস্তার গোলে বিশ্বজয় করে স্পেন। এবার আবার তাঁদের তরুণ ব্রিগেড নিয়ে সেই স্বপ্নেই বিভোর সমর্থকরা (Spain vs Capo Verde)। তবে সেই স্বপ্নে এখন সিঁদুরে মেঘ।
আরও পড়ুন: Sarbori Mukherjee: শর্বরী মুখার্জীর বক্তব্যে, ১৫ বছর ধরে শুধুই লুঠ আর লুঠ!
এই ম্যাচ স্পেনের কাছে এক অঘটন সমান কারণ ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসের পর এই ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল করতে ব্যর্থ হয় স্পেন। এই দৃশ্য কার্যত আজ কেউ কল্পনা করেছিলেন কিনা সন্দেহ। দলের দখল থেকে নিয়ন্ত্রণ, আবার আক্রমণ সব দিক থেকেই এগিয়ে ছিল স্পেন কিন্তু সেগুলো পূর্ণতা পায়নি (Spain vs Capo Verde)। এর কৃতিত্ব কেপ ভার্দের গোলকিপারের। একের পর এক দুরন্ত সেভ, স্পেনের প্রত্যেক শট একাই প্রতিহত করলেন আর নিজের দেশের জন্য লিখে রাখলেন এক অনন্য ইতিহাসের।
স্পেনের মিডফিল্ড বেশি সাজানো হলেও প্রথমার্ধে তাদের বেশিরভাগ আক্রমণ এসেছে দুই উইং থেকে। বিশেষ করে লেফট-ব্যাক মার্ক কুকুরেয়া ছিলেন স্পেনের সবচেয়ে প্রাণবন্ত ফুটবলার আজকের ম্যাচে। বারবার বাম প্রান্ত দিয়ে উঠে এসে তিনি কেপ ভার্দের রক্ষণভাগকে চাপে রেখেছিলেন এবং কয়েকটি বিপজ্জনক সুযোগও তৈরি করেন কিন্তু কোনও বলই জালে জড়াতে পারেনি। ফেরান তোরেস একটি ভালো গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা দুর্দান্ত সেভ করে দলকে রক্ষা করেন, বলা যায় এই ম্যাচে একাই দুর্গ আগলে রেখেছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, স্পেনের স্ট্রাইকার মিকেল ওয়ারজাবাল ম্যাচে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেননি। তিনি বল খুব কম পেয়েছেন এবং কেপ ভার্দের বক্সের ভেতরেও উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম হননি। প্রথম ৪৫ মিনিট শেষে স্কোরলাইন ০-০।
বিশ্বকাপের আগে চোট পেয়েছিলেন স্পেনের দুই তরুণ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস। ঝুঁকি না নিয়ে দু’জনকেই প্রথম একাদশে রাখেননি লুইস দে লা ফুয়েন্তে আর সেটা আগেই জানিয়েছিলেন কোচ। মাঝমাঠে রদ্রি, পেদ্রিরা ছিলেন ঠিকই। তবে আক্রমণ সাজালেন গাভি, ফেরান তোরেস ও মিকেলদের মত তারকাকে নিয়ে। কিন্তু তোরেস বা গাভি উইংয়ের প্লেয়ার নন আর তার ফলস্বরূপ খেই হারাল স্পেন।
বারবার আক্রমণে উঠেও দিশা হারাল ফাইনাল থার্ড। গাভি তাঁর নিজের স্বভাবসিদ্ধ মাঝমাঠে নেমে আসছিলেন। অন্যদিকে তোরেস ঢুকে পড়ছিলেন মাঝে। প্রথমার্ধে ওয়ারজাবালকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি আর এর জন্য আজকের ম্যাচের এই অঘটন (Spain vs Capo Verde)।
দ্বিতীয় অর্ধে খেলা শুরু হলেও স্পেনের কোচ ভেবেছিলেন বাকিরা কাজ সামলে নেবেন আর সেই কারণে ইয়ামালকে নামাননি কিন্তু কিছুই লাভ হল না। সেই ৭০ মিনিটের মাথায় তাঁকে নামাতে বাধ্য হলেন কোচ।
এই ম্যাচ বিশ্বকাপে অঘটনের শুরু। কেপ ভার্দের মতো এক খাতায় কলমে ‘দুর্বল’ দেশের কাছে আটকে গেল ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন। এক্ষেত্রে বলা ভাল, কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহার কাছে থমকে গেলেন পেদ্রি, রদ্রিদের মত তারকারা। গোল শূন্য এই ম্যাচ স্মরণীয় হয়ে থাকবে বিশ্ব ফুটবলে (Spain vs Capo Verde)।


