Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শত ব্যস্ততার মাঝেও মনটা একটু হালকা করতে কার্টুন দেখতে কে না ভালোবাসে! বয়স যতই বাড়ুক না কেন, ডোরেমন নামটা শুনলেই অনেকের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে শিশুদের পাশাপাশি বড়দের মনেও জায়গা করে নিয়েছে নীল রঙের রোবট বিড়াল ডোরেমন। নোবিতা, শিজুকা, জিয়ান এবং সুনিওকে নিয়ে তার রোমাঞ্চকর অভিযানের গল্প আজও সমান জনপ্রিয়। এতদিন টেলিভিশনের পর্দায় কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দেখা গেলেও এবার প্রথমবারের মতো ভারতীয় দর্শকরা ডোরেমনকে উপভোগ করতে পারবেন সিনেমা হলের বিশাল পর্দায়। ফলে ডোরেমনপ্রেমীদের কাছে এটি নিঃসন্দেহে এক স্মরণীয় এবং ঐতিহাসিক ঘটনা হতে চলেছে (Doraemon)।
কবে মুক্তি পাচ্ছে নতুন ডোরেমন সিনেমা? (Doraemon)
চলতি বছরের ২ অক্টোবর, অর্থাৎ গান্ধী জয়ন্তীর দিন দেশজুড়ে মুক্তি পেতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত অ্যানিমেটেড ছবি ‘ডোরেমন দ্য মুভি: নিউ নোবিতা অ্যান্ড দ্য ক্যাসেল অফ দ্য আন্ডারসি ডেভিল’। ভারতের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি হিন্দি, তামিল এবং তেলুগু ভাষায় বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পাবে। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় ভক্তরা যে সিনেমার অপেক্ষায় ছিলেন, অবশেষে সেই স্বপ্নই বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে।
সমুদ্রের গভীরে এক রহস্যময় অভিযান (Doraemon)
এই সিনেমার গল্পের মূল আকর্ষণ হল সমুদ্রের তলদেশে লুকিয়ে থাকা এক রহস্যময় জগৎ। ডোরেমন এবং তার বন্ধুদের নিয়ে শুরু হবে এক রোমাঞ্চকর আন্ডারওয়াটার অ্যাডভেঞ্চার। গল্পে দেখা যাবে, নোবিতা ও তার বন্ধুরা সমুদ্রের গভীরে এমন এক অজানা জগতের সন্ধান পায়, যেখানে লুকিয়ে রয়েছে বহু রহস্য এবং বিপদ। সেই অজানা জগতের রহস্য উদঘাটনের পথে তাদের সঙ্গী হবে ডোরেমনের অসাধারণ সব ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির গ্যাজেট। বন্ধুত্ব, সাহস, কৌতূহল এবং নতুন পৃথিবী আবিষ্কারের আনন্দ—সবকিছুর এক চমৎকার মিশেল দেখা যাবে এই ছবিতে। ফলে শুধু শিশু নয়, পরিবারের সব সদস্যের কাছেই ছবিটি সমানভাবে উপভোগ্য হয়ে উঠতে পারে।
![Trailer [OV]](https://m.media-amazon.com/images/M/MV5BODkzZWUzMjItMmY0OS00NmE2LWJiNjUtMjM1MzJiNTkwYjc3XkEyXkFqcGdeQWxiaWFtb250._V1_QL75_UX500_CR0,0,500,281_.jpg)
ফুঝিকো এফ ফুঝিওর কল্পনার জাদু (Doraemon)
ডোরেমন সিরিজের স্রষ্টা ফুঝিকো এফ ফুঝিওর সৃষ্ট জগত আজ বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের কাছে পরিচিত। তাঁর মূল গল্পের উপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছে এই নতুন সিনেমা। ডোরেমনের প্রতিটি গল্পেই যেমন থাকে মানবিক মূল্যবোধ, তেমনই থাকে কল্পবিজ্ঞানের আকর্ষণ। এই ছবিতেও সেই ঐতিহ্য বজায় রাখা হয়েছে। আধুনিক অ্যানিমেশন প্রযুক্তির সাহায্যে সমুদ্রতলের রহস্যময় জগৎকে জীবন্ত করে তোলা হয়েছে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে।
বড়পর্দায় আরও জমজমাট হবে ডোরেমনের জগৎ
সিনেমা হলের বিশাল পর্দা, অত্যাধুনিক সাউন্ড ডিজাইন এবং চমকপ্রদ ভিজ্যুয়াল এফেক্ট ডোরেমনের জাদুকরী জগতকে নতুন মাত্রা দেবে। টেলিভিশনের ছোট পর্দায় দেখা অভিযানের তুলনায় এবার দর্শকরা অনেক বেশি বাস্তব অনুভূতি পাবেন। সমুদ্রের গভীরতা, রহস্যময় দুর্গ, অজানা প্রাণী এবং রোমাঞ্চকর অ্যাকশন দৃশ্যগুলো বড়পর্দায় আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
ভারতীয় মুক্তির পেছনে কারা? (Doraemon)
এই ছবিটি ভারতে নিয়ে আসছে বিশ্বখ্যাত মিডিয়া সংস্থা TV Asahi এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ মাল্টিপ্লেক্স চেন PVR INOX Pictures। দুই সংস্থার যৌথ উদ্যোগে ডোরেমনের এই বিশেষ সিনেমাটি ভারতীয় দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। ফলে মুক্তির আগেই ছবিটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ এবং উন্মাদনা।
মুক্তির আগেই থাকছে বিশেষ চমক
ডোরেমন ভক্তদের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর হল, সিনেমা মুক্তির আগেই তারা সরাসরি দেখা করতে পারবেন তাদের প্রিয় চরিত্রের সঙ্গে। আগামী ২০ ও ২১ জুন ২০২৬ মুম্বইয়ের জিও ওয়ার্ল্ড কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত জনপ্রিয় পপ-কালচার ফেস্টিভ্যাল ‘CORE’-এ প্রথমবার ভারতের মাটিতে ভক্তদের সামনে হাজির হতে চলেছে ডোরেমন।
‘ডোরেমন জোন’-এ কী কী থাকবে? (Doraemon)
উৎসব উপলক্ষে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ ‘ডোরেমন জোন’। এখানে দর্শকদের জন্য থাকছে নানা আকর্ষণ। বিশাল আকৃতির ডোরেমন ইনস্টলেশন, বিশেষ ফটো বুথ, ইন্টারঅ্যাক্টিভ গেমস ও অ্যাক্টিভিটি, শিশুদের জন্য নানা চমকপ্রদ আয়োজন, ডোরেমন-থিমযুক্ত অভিজ্ঞতা, ছোটদের পাশাপাশি বড়রাও নিজেদের শৈশবের স্মৃতি ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাবেন এই বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে।
আরও পড়ুন : US Command: মার্কিন কম্যান্ডের নাম থেকে ইন্দো উধাও, ভারতের গুরুত্ব কি কমছে? নয়া বিতর্ক
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই মুক্তি?
ভারতে জাপানি অ্যানিমে সংস্কৃতির জনপ্রিয়তা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই জনপ্রিয়তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ডোরেমন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভারতীয় শিশুদের কল্পনাশক্তি, বিজ্ঞানমনস্কতা এবং বন্ধুত্বের মূল্যবোধ শেখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এই চরিত্র। তাই প্রথমবার ভারতীয় প্রেক্ষাগৃহে ডোরেমনের বাণিজ্যিক মুক্তি শুধুমাত্র একটি সিনেমার মুক্তি নয়, বরং ভারতীয় অ্যানিমে সংস্কৃতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।



