Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনা করলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ও বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে বিষয়টি সম্পর্কে যথাযথভাবে না জানিয়ে এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ না দিয়েই সরকার ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল চালু করছে। এর ফলে কোটি কোটি গাড়ির মালিক সমস্যায় পড়বেন এবং সাধারণ মানুষের উপর নতুন আর্থিক বোঝা চাপবে বলেও দাবি করেন তিনি।
‘সব গাড়ি E20-র জন্য তৈরি নয়’ (Adhir Ranjan Chowdhury)
অধীর চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের রাস্তায় চলা অধিকাংশ পুরনো গাড়ি এখনও সম্পূর্ণভাবে E20-কমপ্লায়েন্ট নয়। তাঁর দাবি, এই ধরনের গাড়িতে জোর করে বেশি মাত্রার ইথানলযুক্ত জ্বালানি ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের ক্ষতি হতে পারে, গাড়ির কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং মাইলেজও কমে যেতে পারে। তিনি বলেন, একজন সাধারণ মানুষ জীবনের সঞ্চয় দিয়ে একটি গাড়ি কেনেন। সেই গাড়িতে কোন ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদে কী প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
‘ব্রাজিলের উদাহরণ, ভারতের বাস্তবতা আলাদা’
নিজের বক্তব্যে অধীর চৌধুরী ব্রাজিলের উদাহরণ টেনে বলেন, ব্রাজিলে ইথানলভিত্তিক জ্বালানির ব্যবহার শুরু হয়েছিল কয়েক দশক আগে। দীর্ঘ সময় ধরে ধাপে ধাপে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, ফ্লেক্স-ফুয়েল ইঞ্জিনের প্রসার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তারা বর্তমান অবস্থায় পৌঁছেছে। তাঁর মতে, ভারতে সেই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি ছাড়াই দ্রুত E20 চালু করার চেষ্টা হচ্ছে। ফলে ভারতীয় গাড়িচালকদের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হচ্ছে।
‘E20 নয়, এটা T20— Terror-20’ (Adhir Ranjan Chowdhury)
অধীর চৌধুরীর বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল তাঁর এই মন্তব্য,“এটাকে E20 না বলে T20 বলা উচিত। এটা Terror-20।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, সরকারের এই নীতি সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। তাঁর অভিযোগ, ধাপে ধাপে E20-এর পর আরও বেশি ইথানল মিশ্রণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, অথচ সেই পরিবর্তনের জন্য দেশের অবকাঠামো ও যানবাহন এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
‘বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার তথ্য কোথায়?’ (Adhir Ranjan Chowdhury)
অধীর চৌধুরী প্রশ্ন তোলেন, দেশের বিভিন্ন ধরনের পুরনো ও নতুন গাড়ির উপর নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল কি প্রকাশ করা হয়েছে? তাঁর বক্তব্য, শুধুমাত্র সরকার ভালো বলছে বলেই মানুষ সেটিকে নিঃশর্তভাবে মেনে নেবে এমন ধারণা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি দাবি করেন, সরকারকে তথ্য, গবেষণা এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে মানুষকে আশ্বস্ত করতে হবে।
খাবারের উদাহরণ টেনে ব্যাখ্যা (Adhir Ranjan Chowdhury)
নিজের বক্তব্য আরও সহজভাবে বোঝাতে অধীর চৌধুরী একটি উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, কেউ যদি প্রতিদিন সাধারণ খাবার খান, তাকে হঠাৎ করে দিনে দু’বেলা ভারী খাবার খেতে দিলে যেমন শরীর তা সহজে গ্রহণ করতে পারবে না, তেমনি দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট ধরনের জ্বালানিতে চলা গাড়িকেও হঠাৎ অন্য ধরনের জ্বালানির সঙ্গে মানিয়ে নিতে বলা ঠিক নয়। এছাড়াও তিনি ভারতীয় ক্রিকেটার যুবরাজ সিংয়ের খাদ্যাভ্যাসের উদাহরণ টেনে বলেন, একজন ক্রীড়াবিদের খাদ্যতালিকা সাধারণ মানুষের উপর চাপিয়ে দিলে যেমন তা বাস্তবসম্মত নয়, তেমনি ইথানল নীতিও ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা উচিত।
‘গায়ের জোরে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে’
অধীর চৌধুরীর অভিযোগ, সরকার মানুষের মতামত, প্রযুক্তিগত বাস্তবতা এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতার কথা বিবেচনা না করেই এই নীতি কার্যকর করছে। তাঁর মতে, এটি জনগণের উপর একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার সামিল।



