Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। সেতুর নিচে পড়ে যাওয়া পণ্যবাহী ট্রাকের ভেতর আটকে থাকা চালক ও খালাসির মৃতদেহ উদ্ধার করল উদ্ধারকারী দল (Alipurduar)। গতকালের ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর থেকেই প্রশাসন, পুলিশ এবং উদ্ধারকারী বাহিনী যৌথভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়। রবিবার সকালে নতুন করে অভিযান শুরু করার পর কয়েক ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টায় উদ্ধার করা হয় দুই ব্যক্তির দেহ।

দুর্ঘটনার পর শুরু হয় টানা উদ্ধার অভিযান (Alipurduar)
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেতু পার হওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি নিচে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, দমকল এবং উদ্ধারকারী দল। ট্রাকের চালক ও খালাসি ভেতরে আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হয়। তবে দুর্ঘটনার পর থেকেই প্রবল বৃষ্টি এবং নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়তে থাকায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে। উদ্ধারকারী কর্মীরা রাতভর চেষ্টা চালালেও অন্ধকার, স্রোত এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য মেলেনি।
বৃষ্টি ও স্রোতের বিরুদ্ধে লড়াই (Alipurduar)
উদ্ধারকারীদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নদীর উত্তাল জল এবং ট্রাকের অবস্থান। ট্রাকটি এমনভাবে পড়ে ছিল যে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করাও সহজ ছিল না। তাছাড়া রাতের অন্ধকারে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাতের অভিযান সীমিত রাখা হয়। রবিবার সকালে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে আসতেই আবার জোরকদমে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। বিশেষ সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষিত কর্মীদের সাহায্যে ধাপে ধাপে ট্রাকের ভেতরে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়।
কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর উদ্ধার দুই দেহ (Alipurduar)
দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর উদ্ধারকারী দল প্রথমে একজন এবং পরে অপরজনের দেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এরপর মৃতদেহ দুটি ঘটনাস্থল থেকে বের করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃতদের নাম আসিফ হোসেন এবং অখিলেশ যাদব। দুজনেই উত্তর প্রদেশের রামপুর জেলার বাসিন্দা। কর্মসূত্রে তাঁরা ট্রাক নিয়ে উত্তরবঙ্গে এসেছিলেন।

পরিবারে নেমে এল শোকের ছায়া (Alipurduar)
দুর্ঘটনার খবর পৌঁছাতেই উত্তর প্রদেশে মৃতদের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে প্রশাসন। দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় স্তম্ভিত সহকর্মী ও আত্মীয়রাও। দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ থাকার পর জীবিত উদ্ধারের আশা ছিল পরিবারের সদস্যদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশার প্রদীপ নিভে যায় দুই শ্রমজীবী মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।
ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হল দেহ (Alipurduar)
উদ্ধার হওয়া দুই মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে কালচিনি থানার পুলিশ। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ট্রাকটি কীভাবে সেতু থেকে নিচে পড়ল, চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণ কী ছিল এবং আবহাওয়ার কোনও ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

প্রশ্নের মুখে সড়ক নিরাপত্তা
এই দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা এবং বর্ষাকালে পাহাড় ও ডুয়ার্স সংলগ্ন এলাকায় ভারী যান চলাচল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবল বৃষ্টি, পিচ্ছিল রাস্তা এবং কম দৃশ্যমানতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই চালকদের আরও সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রশাসনের তরফেও বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন।



