Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রবিবার সকালে জলপাইগুড়ি জেলার উল্লাডাবরি এলাকায় ঘটে গেল এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা (Jalpaiguri)। উত্তরবঙ্গের ময়নাগুড়ি থেকে দোমোহনীর উদ্দেশে যাত্রারত উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্র পরিবহনের একটি সরকারি বাস আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরির পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে তৈরি হয় আতঙ্কের পরিবেশ। বাসের যাত্রীরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে হাহাকার।

সংঘর্ষের তীব্রতায় দুমড়ে-মুচড়ে বাস (Jalpaiguri)
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ধাক্কার শব্দ এতটাই প্রবল ছিল যে আশপাশের মানুষ ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। সংঘর্ষের জেরে বাসের সামনের অংশ সম্পূর্ণরূপে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। সামনের সারিতে বসে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতরভাবে আহত হন। দুর্ঘটনার অভিঘাতে বাসের কাচ ভেঙে যায় এবং অনেক যাত্রী আসন থেকে ছিটকে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্ঘটনার পর কিছুক্ষণ বাসের ভেতরে আটকে পড়েছিলেন কয়েকজন যাত্রী। তাঁদের উদ্ধার করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় উদ্ধারকারী দলকে।
বহু মহিলা যাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক (Jalpaiguri)
দুর্ঘটনায় একাধিক যাত্রী গুরুতর জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মহিলা যাত্রীর অবস্থা উদ্বেগজনক। কারও মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে, কারও আবার হাত-পা ভেঙে গিয়েছে বলে প্রাথমিক সূত্রে খবর। আহতদের আর্তনাদে ঘটনাস্থল ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয় মানুষ, পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্মীরা দ্রুত উদ্ধারকাজে হাত লাগান। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান (Jalpaiguri)
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আহতদের একে একে বাস থেকে বের করে অ্যাম্বুল্যান্সে তোলা হয়। গুরুতর আহতদের দ্রুত জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকজন আহতের অবস্থা এখনও সংকটজনক হওয়ায় তাঁদের ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।
বৃষ্টিতে পিচ্ছিল রাস্তা কি দুর্ঘটনার কারণ?
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, টানা বৃষ্টির ফলে রাস্তা অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে পড়েছিল। সেই কারণেই বাসচালক হয়তো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। যদিও শুধুমাত্র আবহাওয়াকেই দায়ী করতে নারাজ তদন্তকারী আধিকারিকরা। বাসের গতি, ব্রেকের অবস্থা, চালকের শারীরিক সক্ষমতা এবং লরিটি কোথায় ও কীভাবে দাঁড়িয়ে ছিল সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন।
এলাকায় চাঞ্চল্য, নিরাপদ যাত্রা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন (Jalpaiguri)
এই দুর্ঘটনার পর গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন, বর্ষাকালে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন কি না। বিশেষ করে সরকারি পরিবহনের বাসগুলির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকদের সতর্কতামূলক প্রশিক্ষণের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। বর্ষার মরশুমে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সড়কে প্রায়শই দুর্ঘটনার ঘটনা সামনে আসে। ফলে এই ঘটনার পর যাত্রী নিরাপত্তা এবং সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তদন্তের দিকে নজর সকলের
উল্লাডাবরির এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা উত্তরবঙ্গের মানুষকে আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে। আহতদের দ্রুত সুস্থতার কামনা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একইসঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।



